নির্বাচনী প্রচারের সময় আর একদিন আছে। আগামীকালই শেষ হচ্ছে প্রচার। বলা চলে ভোটযুদ্ধে জয়ী হতে প্রার্থীদের শেষ পরীক্ষা চলছে। ত্রয়োদশ নির্বাচনের প্রার্থীদের চলছে নির্ঘুম প্রচারণা। শেষ মুহূর্তে কেউ কাউকে ছাড় দিচ্ছেন না। প্রচারণার মাঠে কৌশলে নিজের পক্ষে টানার চেষ্টা করছেন ভোটারদের। দলের প্রধান থেকে প্রার্থী, নেতা থেকে কর্মী সবাই ছুটছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে। প্রার্থীদের পরিবারের সদস্য ও স্বজনরাও ছুটছেন অলি-গলিতে।
সারা দেশের নির্বাচনী জনসভা শেষ করে গতকাল থেকে ঢাকার ভেতরে প্রচারণা শুরু করেছেন বিএনপি’র চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দিনভর ঢাকার বিভিন্ন আসনগুলোতে গিয়ে জনসভায় অংশ নেন। এতে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। রোববার দুপুরে শুরু করেন রাজধানীতে নিজ আসন ঢাকা-১৭ তে। এ ছাড়া পল্লবী, মিরপুর-১০, শ্যামলী ও বাড্ডার সাতারকুলে নির্বাচনী প্রচারে অংশ নেন বিএনপি চেয়ারম্যান।
এসব জনসভায় অংশ নিয়ে দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে বিএনপি কী করতে চায় সেই পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, আমরা নির্বাচনী মেনোফেস্টোতে গতকাল সেগুলো বলেছি। আমরা দেশের নারীদের জন্য পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। কীভাবে দেশের নারীদেরকে আরও ক্ষমতায়ন করা যায়। আমরা দেশের কৃষকদেরকে কীভাবে অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড অর্থনৈতিকভাবে যাতে অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড শক্তিশালী করা যায় সেই পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। দেশের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা কীভাবে উন্নতি করা যায় সেই পরিকল্পনা গ্রহণ করছি। দেশের তরুণ যুবক সমাজের সদস্য যারা ছেলে হোক, মেয়ে হোক কীভাবে তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবো, আইসিটিসহ ভোকেশনাল বিভিন্ন টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউশন গঠনের মাধ্যমে করবো সেই পরিকল্পনা আপনাদের সামনে তুলে ধরেছি।
বিএনপি চেয়ারম্যানের মতো ঢাকায় বিরামহীন প্রচার চালিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমানও। রোববার দুপুরে রাজধানী ঢাকার মেরুল বাড্ডায় ডিআইটি প্রজেক্ট খেলার মাঠে ঢাকা-১১ আসনে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য সমর্থিত প্রার্থী নাহিদ ইসলামের নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, যারা গত দেড় দশক দেশের মাটিতে ছিলেন না, পালিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে ছিলেন, ফিরে এসে তারাই এখন মামলা বাণিজ্য করছেন। ৬ই আগস্ট থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত এসব অপকর্ম বন্ধ হয়নি। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী, এমনকি ফুটপাথে ভিক্ষা করা মানুষও চাঁদাবাজির শিকার হচ্ছেন।
বাংলাদেশের ভবিষ্যতের দায়িত্ব যুবকদের হাতে তুলে দিতে চান জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, আমরা যুবকদের হাতে বাংলাদেশের দায়িত্ব দিতে চাই। আমরা বেকার ভাতা দিতে চাই না। জুলাইয়ের আন্দোলনে অংশ নেয়া তরুণেরা কখনো বেকার ভাতা চায়নি। তাদের দাবি ছিল, অধিকার ও ন্যায্য কাজের সুযোগ। তরুণেরা সেদিন রাস্তায় নেমে বলেছিল-আমাদের অধিকার দাও, আমাদের হাতে আমাদের ন্যায্য কাজ তুলে দাও। ওই সভায় ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য রাখেন। পরে জামায়াত আমীর নিজের নির্বাচনী এলাকায় জনসংযোগ করেন।
ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, আগামী ১২ই ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আয়োজিত গণভোটের আনুষ্ঠানিক প্রচার ভোটগ্রহণের ৪৮ ঘণ্টা আগে শেষ করতে হবে। আইনগত বাধ্যবাধকতার কারণে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। সচিব জানান, নির্ধারিত সময়ের পর রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীরা কোনো ধরনের সভা-সমাবেশ, মিছিল, প্রচারপত্র বিতরণ কিংবা গণমাধ্যমে প্রচারণা চালাতে পারবেন না। ১২ই ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত সারা দেশে একযোগে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।