Image description
 

বাংলাদেশে নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, জানুয়ারি মাসে দেশের উত্তরাঞ্চলে এক নারী এই প্রাণঘাতী ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

বাংলাদেশে প্রায় প্রতি বছরই নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণ দেখা দেয়। সম্প্রতি প্রতিবেশী দেশ ভারতেও দুই জনের শরীরে এই ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে এশিয়ার বিভিন্ন দেশের বিমানবন্দরে সতর্কতা ও স্ক্রিনিং জোরদার করা হয়েছে।

ডব্লিউএইচও জানায়, মৃত ওই নারীর বয়স ছিল ৪০ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে। ২১ জানুয়ারি তার শরীরে নিপাহ ভাইরাসের লক্ষণ দেখা দেয়। যার মধ্যে ছিল জ্বর, মাথাব্যথা, অতিরিক্ত লালা নিঃসরণ, মানসিক বিভ্রান্তি এবং খিঁচুনি। লক্ষণ দেখা দেওয়ার এক সপ্তাহ পর তিনি মারা যান এবং পরের দিন তার নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়।

তদন্তে জানা গেছে, ওই নারীর কোনও বিদেশ ভ্রমণের ইতিহাস ছিল না। তবে তিনি কাঁচা খেজুরের রস পান করেছিলেন।

আক্রান্ত নারীর সংস্পর্শে আসা ৩৫ জন ব্যক্তিকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছিল। তবে পরীক্ষায় তাদের সবার ফলাফল নেগেটিভ এসেছে এবং এখন পর্যন্ত নতুন কোনও রোগী শনাক্ত হয়নি বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

নিপাহ ভাইরাস মূলত সংক্রমিত বাদুড়ের মাধ্যমে ছড়ায়, বিশেষ করে বাদুড় লালা বা মলত্যাগের মাধ্যমে ফলমূল বা রস দূষিত করলে তা থেকে মানুষ আক্রান্ত হয়। আক্রান্তদের মধ্যে মৃত্যুর হার ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে, তবে এটি খুব সহজে একজনের শরীর থেকে অন্যজনের শরীরে ছড়ায় না।

বর্তমানে এই সংক্রমণের জন্য কোনও স্বীকৃত ওষুধ বা টিকা নেই। এর আগে ২০২৫ সালে বাংলাদেশে ল্যাবরেটরিতে নিশ্চিত হওয়া ৪ জন নিপাহ আক্রান্ত রোগীর মৃত্যু হয়েছিল।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে নিপাহ রোগী শনাক্ত হওয়ার পর মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া এবং পাকিস্তানসহ বেশ কয়েকটি দেশ বিমানবন্দরে তাপমাত্রা পরীক্ষা শুরু করেছে। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, এই ভাইরাস আন্তর্জাতিকভাবে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বর্তমানে কম এবং তারা কোনও দেশ বা বাণিজ্যের ওপর বিধিনিষেধ আরোপের সুপারিশ করছে না।