Image description
ঢাকা ৯

শেষ মুহূর্তের প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন ঢাকা-৯ আসনের প্রার্থীরা। চষে বেড়াচ্ছেন অলিগলি। ভোটারদের মন জয় করতে প্রচারণায় নানা কৌশল নিচ্ছেন তারা। সবুজবাগ, খিলগাঁও, বাসাবো ও মুগদা নিয়ে গঠিত আসনটিতে হতে যাচ্ছে ত্রিমুখী লড়াই। এ আসনে হেভিওয়েট প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ও বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হাবিবুর রশিদ হাবিব।

জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন এনসিপি’র যুগ্ম আহ্বায়ক জাবেদ রাসিন। এনসিপি থেকে পদত্যাগ করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে আলোচনায় রয়েছেন ডা. তাসনিম জারা। এই তিন প্রার্থীর মধ্যেই মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। আগে থেকেই অনলাইনে এ আসন ঘিরে চলছিল নানা আলোচনা। তাই প্রচারণা থেমে নেই সোশ্যাল মিডিয়াতেও। ধানের শীষের প্রার্থী হাবিবুর রশিদ হাবিব এলাকায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। যাচ্ছেন ভোটারদের দুয়ারে দুয়ারে। এলাকার সমস্যা সমাধানে ৯ দফা ইশতেহার ঘোষণা করেছেন।

স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. তাসনিম জারা নতুন ধারার রাজনীতির কথা তুলে ধরে অনলাইনে ক্যাম্পেইন চালাচ্ছেন। তিনি ৩০ হাজার ভলেন্টিয়ার তৈরির আহ্বান জানিয়েছেন, যারা প্রত্যেকে পাঁচজন করে ভোটারকে তাকে ভোট দেয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করবেন। এ লক্ষ্যে তিনি একটি ওয়েবসাইটও চালু করেছেন। ইতিমধ্যে প্রায় ১৫ হাজার ভলেন্টিয়ার এতে যুক্ত হয়েছেন। এলাকার গ্যাস সংকট নিরসন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ ৬ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন তিনি। অন্যদিকে এনসিপি’র প্রার্থী জাবেদ রাসিন ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের জন্য অনলাইন প্ল্যাটফরম ‘চিঠি ডট মি’-তে প্রশ্ন করার আহ্বান জানাচ্ছেন। ভোটাররা সেখানে গোপনে প্রশ্ন করতে পারছেন এবং তিনি লাইভে এসে সেগুলোর উত্তর দিচ্ছেন। পাশাপাশি তিনি ৯ দফা অঙ্গীকারনামাও ঘোষণা করেছেন। 

দক্ষিণ মুগদা এলাকার বাসিন্দা নুরে আলম বলেন, বিগত ১৭ বছর ধরে এ এলাকায় কোনো উন্নয়নমূলক কাজ হয়নি। সবচাইতে অবহেলিত এ আসনটি। এলাকার প্রতিটি সড়কের বেহালদশা, মাদকের সমস্যা প্রধান সমস্যা। ভোটের ফলাফলই বলে দিবে কাকে মানুষ পছন্দ করে। তবে আমরা চাই ভোট যেন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়। 

মানিকনগর এলাকার বাসিন্দা শামসুল ইসলাম বলেন, ভোটের সময় প্রতিশ্রুতি দেয়া হয় কিন্তু বাস্তবে কাজ হয় না। তারপরেও দীর্ঘ ১৭ বছর পর ভোট দিতে পারবো- এটাই বড় কথা। এখানে মনে হচ্ছে ত্রিমুখী লড়াই হবে। যেই নির্বাচনে জয়ী হোক না কেন আমরা চাই এলাকার উন্নয়নমূলক কাজ যেন সঠিকভাবে পরিচালনা করেন।

তিলপাপাড়া এলাকার বাসিন্দা শিমুল হক বলেন, সুষ্ঠু ভোট হলে এখানে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে। আমরা চাই নির্বাচন যেন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়, পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারি। প্রার্থী ও দলের কর্মকাণ্ড বিশ্লেষণ করেই সিদ্ধান্ত নিবো কাকে ভোট দিবো।   
বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হাবিবুর রশিদ হাবিব মানবজমিনকে বলেন, আমি এলাকার সন্তান, ৩৮ বছর ধরে রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। এ এলাকার মানুষের যে সমস্যা, সেগুলো আমারও সমস্যা। এটি নাগরিক সুবিধাবঞ্চিত এলাকা। আগামীদিনে যে কাজগুলো করলে মানুষের দুঃখ-দুর্দশা লাঘব হবে, আমি সে কাজগুলো করতে চাই। আমার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা আমার সহযোদ্ধা। আমি চাই, তারা তাদের প্রচার প্রচারণা করুক, সবাই ভোটারদের কাছে যাবে। ভোটাররা যাদের পছন্দ করবে তাদেরকেই বেছে নিবে। যেই জয়ী হবে তাদেরকে নিয়েই আমি কাজ করতে চাই। 

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী জাবেদ রাসিন বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসন, আইটি ট্রেনিংয়ের মাধ্যমে যুবক ও নারীদের ঘরে বসে আয়ের ব্যবস্থা করা,  পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা,  কুটির শিল্প ও স্থানীয় ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের নিয়ে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা সহ ৯ দফা অঙ্গীকারনামা আমি দিয়েছি। আমি নির্বাচিত হলে এগুলো নিয়ে কাজ করবো। 

স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. তাসনিম জারা বলেন,  আমরা ঢাকা-৯ আসন থেকেই পরিবর্তনের রাজনীতি শুরু করতে চাই। মাইকিং ছাড়া, কোটি কোটি টাকা খরচ করা ছাড়া যে নির্বাচনে জয়ী হওয়া যায় সেটি দেখিয়ে দিতে চাই। একজন দলীয় প্রার্থী ব্যক্তিগত ভাবে যতই ভালো হোক না কেন তার পেছনে হাজার হাজার কর্মী থাকে।  এই কর্মীরা তাদের নির্বাচনে জিতিয়ে আনে। কেউ নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর এই কর্মী বাহিনীর অন্যায় আবদার রাখতে হয় চাইলেও তিনি বাধা দিতে পারেন না।  স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আমার কাঁধে কর্মী পোষার কোনো বোঝা নেই। আমার সঙ্গে যারা ভলেন্টিয়ার হিসেবে কাজ করছেন তারা কেউ টাকার জন্য আসেননি, এটাই আমার বড় শক্তি।  

ঢাকা-৯ আসনটি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ১, ২, ৩, ৪, ৫, ৬, ৭, ৭১, ৭২, ৭৩, ৭৪ ও ৭৫ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত। এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৪৯ হাজার ৯৫২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ২৮ হাজার ৩৬৪ জন এবং নারী ভোটার ২ লাখ ২১ হাজার ৫৮৭ জন।