বরিশাল-৪ আসনের নির্বাচনী সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশে আর নতুন করে কোনো লুটেরা তৈরি হতে দেবো না। ক্ষমতায় আসলে দেশ থেকে পাচার হওয়া প্রতিটি পয়সার হিসাব নেবো। শুক্রবার বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জের আর সি কলেজ মাঠে ১১ দলীয় জোটের সমাবেশে তিনি এবার কথা বলেন। আমির বলেন নদী শাসনের নামে অপচয় নয়, নদী সংস্কারের মাধ্যমে নদীকে সম্পদে পরিণত করতে হবে। নদী ভাঙন থেকে মেহেন্দিগঞ্জ রক্ষার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা তারা নেবেন। সকাল ১০টায় মেহেন্দিগঞ্জে হেলিকপ্টারযোগে পৌঁছান জামায়াতের আমীর। মাওলানা শহীদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বরিশালের ৬টি আসনের জামায়াত ও জোট সমর্থিত প্রার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় জামায়াতের আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেন- দেশ থেকে টাকা নিয়ে আর পালানো যাবে না। পাচার হওয়া টাকা দেশের মানুষের টাকা। আজকে জন্ম নেয়া শিশুর টাকা। রাস্তার পাশে শুয়ে থাকা মানুষের টাকা। এসব টাকা ফেরত আনতে হবে। আর এ জন্য জামায়াতকে ভোট দিয়ে দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে। সবাই মিলে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে তাহলে বাকিরা বার্তা পেয়ে যাবে। অনেকে নিজ থেকে সৎ পথে চলে আসবে। আর যারা আসবে না তাদের অবশ্যই আইনের মুখোমুখি হতে হবে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সবার দ্বারা দেশ পরিচালনা হয় না। যারা নিজেদের দলই সামলাতে পারে না, তারা কীভাবে দেশ সামলাবে’ এ প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন জামায়াতে ইসলামী একটি সুশৃঙ্খল দল, যারা দল সামলাতে সক্ষম, দেশ পরিচালনার যোগ্য।’ জামায়াতের আমীর বলেন, তার দলের ১১ নেতাকে বিচারের নামে হত্যা করা হয়েছে, ১১ হাজার নেতাকর্মীকে বিনা বিচারে হত্যা করা হয়েছে। মাওলানা দেলাওয়ার হোসেন সাঈদীকে কারাগারে হত্যা করা হয়েছে। জামায়াতে ইসলামী হলো দেশের সবচেয়ে মজলুম দল যাকে হত্যা, নির্যাতন, মামলা-হামলার পর বশে আনতে না পেরে দলটিকে নিষিদ্ধ করা হয়। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, একটি দল আমার মা-বোনদের কাপড় খোলার হুমকি দিয়েছিল। আমি তার প্রতিবাদ করায় আমার বিরুদ্ধে হীন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছিল। কিন্তু সত্য কখনো আড়াল থাকে না। তিনি বলেন, ‘জীবন দিতে প্রস্তুত আছি, কিন্তু মায়ের ইজ্জত নিয়ে কোনো ধরনের অবমাননা বরদাশত করা হবে না।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘৫ই আগস্টের পর জামায়াতে ইসলামী ঘোষণা দিয়েছিল যে, তারা কারও বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেবে না এবং কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন মামলার শিকার না হয় সে বিষয়ে কঠোর অবস্থানে থাকবে।’ অথচ একটি দল মামলা বাণিজ্যে জড়িয়েছে। জামায়াতের কোনো নেতাকর্মী কখনো চাঁদাবাজিতে জড়িত ছিল না বলেও দাবি করেন জামায়াত আমীর। তিনি বলেন, আমরা ক্ষমতায় এলে বেকারদের ভাতা দেবো না। আমরা প্রতিটি বেকার মানুষকে যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ দেবো। দেশকে স্বনির্ভর করে তুলবো। জামায়াতের আমীর দৃঢ়কণ্ঠে বলেন, যে রাজনীতি চাঁদাবাজ, হত্যাকারী, লুণ্ঠনকারী তৈরি করে, ওই রাজনীতি আমরা চাই না। তাই পরিবর্তনের জন্য হ্যাঁ ভোট দিতে হবে। এতদিন পাহারাদারি করেছি দলের, আপনারা সুযোগ দিলে এবার দেশের পাহারাদারি করবো।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল, বরিশাল অঞ্চল টিম সদস্য একেএম ফখরুদ্দিন খান রাজী, বরিশাল জেলা আমীর ও বরিশাল-৪ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী অধ্যাপক আব্দুল জব্বার, এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ও বরিশাল-৩ আসনের প্রার্থী ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ও বরিশাল-৬ আসনের প্রার্থী মাওলানা মাহমুদুন্নবী তালুকদার, বরিশাল-২ আসনের প্রার্থী ও জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর মাস্টার আব্দুল মান্নান, বরিশাল-১ আসনে জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা কামরুল ইসলাম খান, বরিশাল জেলা এনসিপি’র আহ্বায়ক আবু সাঈদ মুসা, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের জেলা সভাপতি মাওলানা জোবায়ের গালিব, জাগপা জেলা সভাপতি মনির হোসেন ও খেলাফত মজলিসের জেলা সহ-সভাপতি রুহুল আমীন কামাল। এ ছাড়া বরিশাল প্রেস ক্লাব সভাপতি আমিনুল ইসলাম খসরু, মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমীর প্রফেসর মাহমুদ হোসাইন দুলাল, জেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি সাইয়্যেদ আহমেদ, হিজলা মেহেন্দিগঞ্জসহ বিভিন্ন উপজেলা আমীর ও অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। বক্তব্যের শেষাংশে জামায়াতের আমীর বরিশালের ৬টি আসনের মধ্যে ৫টি আসনের ১১ দলীয় জোট প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন। এর মধ্যে বরিশাল-৩ আসনে এবি পার্টির ব্যারিস্টার ফুয়াদকে ঈগল মার্কায় ভোট দেয়ার আহ্বান জানান।
রাজাপুর (ঝালকাঠি) প্রতিনিধি জানান, জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, কেউ যদি পেশিশক্তির মাধ্যমে ভোটকেন্দ্র দখল করতে আসে, তবে তাদের শক্ত হাতে প্রতিহত করতে হবে। মামলা করতে এলে বলবেন-শফিকুর রহমানের নামেই মামলা করুন। তিনি বলেন, আমরা এমন বাংলাদেশ চাই না, যেখানে মা- বোনদের ইজ্জতের কোনো গ্যারান্টি নেই। আমরা এমন বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে ঘরে-বাইরে, কর্মক্ষেত্রে ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মা-বোনেরা নিরাপদে চলাফেরা ও বসবাস করতে পারবেন। শুক্রবার দুপুরে ঝালকাঠি বয়েজ স্কুল মাঠে আয়োজিত জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন হেলাল, ঝালকাঠি-২ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী শেখ নেয়ামুল করিম, ঝালকাঠি-১ আসনের প্রার্থী ড. ফয়জুল হক, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মুস্তাফিজুর রহমান ইরান এবং এবি শ্রমিক পার্টির যুগ্ম সমন্বয়ক শেখ জামাল হোসেন। জেলা জামায়াতের আমীর এডভোকেট হাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনসভায় জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন। জামায়াতে ইসলামীর এই নির্বাচনী জনসভায় দলের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উপস্থিতিতে বয়েজ স্কুল মাঠ মুখরিত হয়।
পিরোজপুর প্রতিনিধি জানান, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমি জামায়াতে ইসলামীর বিজয় চাই না, আমি চাই বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের বিজয়। ওই বিজয় যেদিন হবে, ইনশাআল্লাহ্ আমরা সকলেই মুক্তির স্বাদ পাবো। গতকাল বিকাল ৪টার দিকে পিরোজপুর শহরের জেলা স্কুল মাঠে জেলা জামায়াতে ইসলামীর আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় তিনি এ কথা বলেন।
এ সময় ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আগামী ১২ তারিখের নির্বাচন অতীতের ১২টি নির্বাচনের মতো নয়। এ নির্বাচন সম্পূর্র্ণ ভিন্ন একটি নির্বাচন। বিগত নির্বাচনের মাধ্যমে দফায় দফায় বাংলাদেশকে পুরাতন বন্দোবস্তের মাধ্যমে যেভাবে খামছে শেষ করে দেয়া হয়েছিল তা পরিবর্তন করার নির্বাচন। নতুন বাংলাদেশ জাগিয়ে তোলার নির্বাচন। ৩৬ যোদ্ধাদের সম্মান করার নির্বাচন। সকলের স্বপ্ন বাস্তবায়নের নির্বাচন। তিনি আরও বলেন, যারা মানুষের জীবনে দুঃসহ কালো অন্ধকার সময় টেনে নিয়ে এসেছে, যারা মানুষের সম্পদে ভাগ বসায়, চাঁদা তুলে সেই চাঁদাবাজদের লাল কার্ড দেখানোর দিন হচ্ছে আগামী ১২ তারিখ।
জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যক্ষ তাফাজ্জল হোসেন ফরিদের সভাপতিত্বে জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন, জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি এডভোকেট মুয়ায্যম হোসাইন হেলাল, লেবার পার্টি চেয়ারম্যান ডাক্তার মুস্তাফিজুর রহমান। পিরোজপুর-১ আসনে জামায়াতের প্রার্থী মাসুদ সাঈদী, পিরোজপুর-২ আসনের জামায়াত প্রার্থী শামীম সাঈদী ও পিরোজপুর- ৩ আসনের এনসিপি প্রার্থী ড. শামীম হামিদী সহ ১১ দলীয় ঐক্যজোটের নেতৃবৃন্দ। পরে পিরোজপুর-১ ও ২ আসনের প্রার্থী মাসুদ সাঈদী ও শামীম সাঈদীর হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক এবং পিরোজপুর-৩ আসনের এনসিপি’র শামীম হামিদীর হাতে শাপলা কলি এবং পার্শ্ববর্তী বরগুনা-২ আসনের জামায়াত প্রার্থী ডা. সুলতান আহমেদের হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক তুলে দেন ডা. শফিকুর রহমান।