Image description

বাংলাদেশ এখন স্বস্তির একটি নিঃশ্বাস নিতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, দেশ আর পুরোনো রাজনীতিতে ফিরে যেতে চায় না। এই পুরোনো রাজনীতিই বাংলাদেশকে এগোতে দেয়নি, পায়ের জিঞ্জির দিয়ে আটকে রেখেছে।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সোয়া পাঁচটায় নড়াইল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ১১ দলীয় ঐক্যের নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন ডা. শফিকুর রহমান।

জামায়াত আমির বলেন, ‘আমরা আল্লাহর ওপর ভরসা করে বাংলাদেশকে পাল্টে দিতে চাই। সেই সুযোগ আসছে আগামী ১২ তারিখ। গণভোটের মাধ্যমে পুরোনো বন্দোবস্তের রাজনীতিকে “না” বলা হবে, আর নতুন রাজনীতিকে বলা হবে “হ্যাঁ”। হ্যাঁ মানে আজাদি, না মানে গুলামি।’

তিনি বলেন, প্রথম ভোট পড়বে আজাদির পক্ষে এবং দ্বিতীয় ভোট যাবে ইনসাফের প্রতীক দাঁড়িপাল্লার পক্ষে। যাঁরা সরকার গঠন করবেন, তাঁরা ইনসাফের ভিত্তিতে দেশ পরিচালনা করবেন। সমাজে বৈষম্য, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, মামলাবাণিজ্য ও নিরীহ মানুষের হয়রানি থাকবে না।

জনসভায় সভাপতিত্ব করেন নড়াইল জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির ও নড়াইল-২ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট আতাউর রহমান বাচ্চু। সভা পরিচালনা করেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ও নড়াইল-১ আসনের প্রার্থী মাওলানা মো. ওবায়দুল্লাহ কায়সার। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন জামায়াতের যশোর-কুষ্টিয়া অঞ্চল টিম সদস্য ও নড়াইলের সাবেক জেলা আমির মাওলানা আশেক ইলাহী।

জামায়াত আমির বলেন, ‘আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে অপরাধ করলে সাধারণ মানুষ ও প্রধানমন্ত্রী—দুজনের বিচার একই মানদণ্ডে হবে। কেউ দায়মুক্তি পাবে না। অপরাধী যেই হোক, তাকে শাস্তি পেতেই হবে।’

যুবসমাজকে রাষ্ট্র পরিচালনায় যুক্ত করার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আগামী ১২ তারিখ যুবকদের হাতে বাংলাদেশের চাবি তুলে দেওয়ার সুযোগ এসেছে। দাঁড়িপাল্লা কোনো দলের প্রতীক নয়, এটি ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশের প্রতীক। ‘আমরা জামায়াতে ইসলামীর সরকার চাই না, আমরা ১৮ কোটি মানুষের বিজয় চাই,’—বলেন তিনি।

দেশের প্রাকৃতিক সম্পদের কথা উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশে মাটির ওপর, নিচে ও সমুদ্রে বিপুল সম্পদ রয়েছে। অভাব রয়েছে কেবল চারিত্রিক সম্পদের—বিশেষ করে রাজনৈতিক নেতৃত্বের সততা ও সদিচ্ছার। রাজনৈতিক নেতৃত্ব সৎ হলে সমাজ বদলাতে বেশি সময় লাগে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরও কৃষক, জেলে, শ্রমিক, রিকশাচালক, ব্যবসায়ী—কেউ ভালো নেই। কৃষক উৎপাদন খরচ তুলতে পারে না, জেলেরা চাঁদাবাজির শিকার হয়, পরিবহনশ্রমিকরা পথে পথে হয়রানির মুখে পড়ে। অফিস-আদালতে সেবা পেতে ঘুষ দিতে হয়।

সাংবাদিকদের অবস্থার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, অনেক সাংবাদিক বিবেক দিয়ে সত্য তুলে ধরতে পারেন না, হুমকি ও চাপের মুখে পড়েন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘সমাজের মাথাটা পচে গেছে। সমস্যাটা সাধারণ মানুষের নয়, সমস্যাটা রাজনৈতিক নেতৃত্বে। রাজনীতিকে যারা ব্যবসা বানিয়েছে, তারা কখনো বাংলাদেশ গড়তে পারবে না।’

২০২৪ সালের জুলাইয়ের আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ওই আন্দোলনে ছাত্রসহ সাধারণ মানুষ প্রাণ দিয়েছেন। নিহতদের বড় একটি অংশ ছিল খেটে খাওয়া মানুষ। তাঁদের আত্মত্যাগের কথা জাতি কখনো ভুলবে না।

সভায় আরও বক্তব্য দেন জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মাস্টার জাকির হোসাইন, জামায়াত নেতা মো. শামসুর রহমান, খেলাফত মজলিস নেতা হাফেজ মাওলানা আব্দুর রহমান, এনসিপি নেত্রী মাহমুদা সুলতানা রিমি এবং ইসলামী ছাত্রশিবিরের জেলা সভাপতি মোহাম্মদ সালাউদ্দিন।