Image description

জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তরকে যত দ্রুত সম্ভব শহীদ শরীফ ওসমান হাদির হত্যার ঘটনার তদন্ত পরিচালনার জন্য প্রস্তাব দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তিনি জানান, সরকার ইতোমধ্যেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বৃহস্পতিবার ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডে অন্তর্বর্তী সরকার আন্তর্জাতিক তদন্ত চাইবে কি-না এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, সরকার ইতোমধ্যেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে, জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তরকে যত দ্রুত সম্ভব হাদি হত্যার ঘটনার তদন্ত পরিচালনার জন্য প্রস্তাব দেওয়া হবে। অন্তর্বর্তী সরকার এ মামলায় পূর্ণ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার অঙ্গীকারে অটল রয়েছে এবং এ ধরনের যেকোনো তদন্তে সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করবে।

এর আগে শহীদ ওসমান হাদি হত্যার নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে জাতিসংঘের মাধ্যমে তদন্ত কার্যক্রম বাস্তবায়নের দাবি জানায় ইনকিলাব মঞ্চ ও হাদির পরিবারের সদস্যরা। এ দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে তারা।

এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত যমুনার সামনে তারা ছিলেন। অবস্থান কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন শহীদ ওসমান হাদির স্ত্রী, ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক ফাতিমা তাসনিম জুমাসহ সংগঠনের অন্য সদস্যরা।

এ সময় আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেন, আমরা চাই জাতিসংঘের মাধ্যমে শহীদ ওসমান হাদি হত্যার তদন্ত হোক। কারণ এখন পর্যন্ত খুনের পেছনে কারা রয়েছে, সুনির্দিষ্টভাবে আমরা জানতে পারিনি। অন্তর্বর্তী সরকার চলে যাওয়ার পরে এই খুনের বিচার আদৌ হবে কি না এ ধরনের একটা আশঙ্কা বোধ করছি আমরা। প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস আমাদের সর্বশেষ আশা এবং আকাঙ্ক্ষার প্রতীক।

তিনি আরো বলেন, আমরা চাই তিনি জাতিসংঘকে একটা চিঠি প্রেরণ করুন, যাতে জাতিসংঘের অধীনে যেভাবে জুলাই গণহত্যার একটা নিরপেক্ষ তদন্ত হয়েছে, সেভাবে শহীদ ওসমান হাদি হত্যার তদন্ত যাতে জাতিসংঘের অধীনে হয়।

ফাতিমা তাসনিম জুমা বলেন, জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে হাদি হত্যার তদন্তের দাবিতে যমুনার সামনে অবস্থান নিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ ও শহীদের স্ত্রী। সরকার, প্রশাসন ও রাজনৈতিক দল সবাইকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করছে ইনকিলাব মঞ্চ। কিন্তু, ইনকিলাবকে সহযোগিতার বেলায় সবাই হাত গুটিয়ে নিয়েছে।

গত ১২ ডিসেম্বর গণসংযোগের জন্য রাজধানীর বিজয়নগর এলাকা থেকে ফেরার পথে চলন্ত রিকশায় থাকা ওসমান হাদিকে গুলি করা হয়। গুরুতর আহত হাদিকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে অস্ত্রোপচার করার পর ওই রাতেই তাকে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর দুদিন পর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন থাকার পর গত ১৮ ডিসেম্বর হাদির মৃত্যুর খবর আসে।