Image description

রোজায় অমর একুশে বইমেলার আয়োজন নিয়ে প্রকাশক, লেখক ও সংস্কৃতিকর্মীদের মধ্যে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে। বাংলা একাডেমি ২০শে ফেব্রুয়ারি থেকে মেলার আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কিন্তু বড় প্রকাশকরা মেলায় অংশ নেয়ার বিষয়ে অনিশ্চয়তা প্রকাশ করেছেন। প্রকাশকরা রোজার সময়ে এবং জাতীয় নির্বাচনের পরে বইমেলা আয়োজনকে অনুচিত মনে করছেন। এদিকে ‘একুশে বইমেলা সংগ্রাম পরিষদ’ ১লা ফেব্রুয়ারি থেকে মেলার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার পক্ষপাতি। তারা বলেন, নির্বাচনের পরিবেশ মেলার জন্য বাধা হয়ে দাঁড়াবে না। বইমেলার স্টল ভাড়া কমানো হলেও অংশগ্রহণ ও সময়সূচি নিয়ে প্রকাশক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের মধ্যে বিতর্ক তীব্র হচ্ছে।

অনন্যা প্রকাশনীর প্রকাশক মনিরুল হক বলেন, আমরা ২০শে ফেব্রুয়ারির মেলায় অংশ নিচ্ছি না। অনেকগুলো বড় প্রকাশনীও অংশ নেবে না। এটা আমরা আগামী মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলন করে জানিয়ে দেবো। তিনি বলেন, নির্বাচনের পর দেশের পরিস্থিতি কেমন হবে সে সময় লোক পাওয়া যাবে না। আবার রমজানের ঈদ একটা দেশের জন্য বড় ইভেন্ট। নির্বাচন কেন্দ্রিক ঢাকাও ফাঁকা হবে। সেসময় বইমেলা করার কোনো মানেই হয় না। আমরা বড় বড় প্রায় ২০ থেকে ২৫টি প্রকাশন একত্র হয়েছি মেলায় অংশ না গ্রহণ করার বিষয়ে। আমরা মেলা বিরোধী নই, তবে এই রোজার সময়ে মেলাটা চাই না। 

জয়তি প্রকাশনের প্রকাশক মো. মাজেদুল হাসান বলেন, বইমেলা ফেব্রুয়ারির ২০ তারিখে হবে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ আছে। অনেক বড় প্রকাশকরা এই সময়ে করতে চাচ্ছেন না। পূর্বের অভিজ্ঞতা থেকে বলা যায়, রমজান মাসে সৃজনশীল বইয়ের মার্কেট পাওয়া যায় না। তাই বিক্রিতে একটা ভাটা পড়ে। এ ছাড়াও এক সপ্তাহ আগে জাতীয় নির্বাচন এবং গণভোট। দেশের পরিস্থিতি কেমন থাকবে না থাকবে সেটাও বিবেচ্য।

তিনি বলেন, আমরা চাই এই বইমেলা এপ্রিলে অনুষ্ঠিত হোক। যদিও এই সময়ে ঝড় বৃষ্টির কথা বলা হয়। কিন্তু ফেব্রুয়ারিতেও ঝড় বৃষ্টি হয়। এমন কোনো বইমেলা ছিল না যে বইমেলায় ঝড়-বৃষ্টি হয় নাই। ঝড়-বৃষ্টির শঙ্কা থাকলেও ব্যবসার জন্য, জমজমাট মেলার জন্য এপ্রিলে মেলাটা চাই।
এদিকে অমর একুশে বইমেলার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে ১লা ফেব্রুয়ারি প্রতীকী মেলার আয়োজন করতে যাচ্ছে ‘একুশে বইমেলা সংগ্রাম পরিষদ’। বাংলা একাডেমির সম্মতি নিয়েই একাডেমি চত্বরে বইমেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলবে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা। বৃহস্পতিবার বাংলা একাডেমিতে এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি জানানো হয়। 

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, অমর একুশের বইমেলার ধারাবাহিকতা ও ঐতিহ্য ভঙ্গ করে বাংলা একাডেমি তথা সরকার ১লা ফেব্রুয়ারির পরিবর্তে ২০শে ফেব্রুয়ারি থেকে ১৫ই মার্চ পর্যন্ত বইমেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই সিদ্ধান্ত দেশের লেখক, পাঠক, প্রকাশক, সংস্কৃতিকর্মীসহ সর্বস্তরের জনগণকে ক্ষুব্ধ ও হতাশ করেছে। বায়ান্নর ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা ও একুশের চেতনাকে ধারণ করে প্রতি বছর পয়লা ফেব্রুয়ারিতে মাসব্যাপী অমর একুশে বইমেলা শুরু হয়। এই মেলা আজ বিশ্বপরিসরেও প্রতিষ্ঠিত এবং গুরুত্ব অর্জন করেছে, বিপুলসংখ্যক লেখক, পাঠক সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। অমর একুশে বইমেলা এখন দেশের সবচেয়ে বড় সৃজনশীল সাংস্কৃতিক উৎসবে পরিণত হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়, বাংলা একাডেমি গত বছরের সেপ্টেম্বরে যখন অমর একুশে বইমেলা ফেব্রুয়ারিতে না করার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে, তখনই সংস্কৃতিকর্মীরা এর প্রতিবাদ করেন। পয়লা ফেব্রুয়ারি থেকে বইমেলা করার দাবিতে লেখক, কবি, সাংবাদিক, সাংস্কৃতিক কর্মী ও প্রকাশকদের নিয়ে ‘একুশে বইমেলা সংগ্রাম কমিটি’ গঠন করা হয়। বইমেলা কোনোভাবেই নির্বাচনের পরিবেশে বিঘ্ন ঘটাবে বলে তারা মনে করে না। পয়লা ফেব্রুয়ারি থেকে মেলা শুরু করে নির্বাচনের দিন ও তার আগে-পরে আরও দুই দিন মেলা বন্ধ রাখা যেতো। কিন্তু তা করা হয়নি। এ সময় তারা অভিযোগ করেন, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা বইমেলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা, পরামর্শ ছাড়াই মেলার তারিখ পরিবর্তন ও নির্ধারণ করে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছেন।

বইমেলার জন্য মেলায় স্টল ভাড়া ২৫ শতাংশ কমানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক বার্তায় জানানো হয়, বইমেলায় অংশগ্রহণকারী প্রকাশকদের অনুরোধের প্রেক্ষিতে বইমেলার স্টল ভাড়া কমানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।