Image description

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার পাশাপাশি জুলাই সনদের সম্মানে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) রাতে রংপুরের কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে বিশাল জনসভায় এই আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বিএনপি সংস্কার নিয়ে কোনো লুকোছাপা করেনি।

এসময় তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, অতীতের সরকার আমলে মেগা প্রকল্পের নামে মেগা লুটপাট হয়েছে। বিএনপি এই নির্বাচনে জনগণের রায়ে ক্ষমতায় আসলে সেই লুটের টাকা ফিরিয়ে এনে দেশের উন্নয়নে কাজে লাগাবে। আগে নিশি রাতে ভোট হয়েছে। সেই ভোটের রাজনীতি আর হতে দিব না। 

জনসভা থেকে তিনি রেজিস্ট্রার এনজিও থেকে যারা ক্ষুদ্র ঋণ নিয়ে পরিশোধ করতে পারছেন না, তাদের সেই ঋণ বিএনপি সরকার গঠন করলে পরিশোধ করবে বলে জানান। তিনি বলেন, শুধু তাই নয় রংপুর অঞ্চলে ঢেলে সাজাতে হবে। এই অঞ্চলে যেমন খনিজ সম্পদ আছে তেমনি কৃষিতে সমৃদ্ধ। কৃষিজাত শিল্প-কলকারখানা স্থাপন করা হবে। এজন্য শিল্প উদ্যোক্তাদের আর্থিক প্রণোদনা দেওয়া হবে। বড় বড় আইটি প্রতিষ্ঠানগুলোকে এই অঞ্চলে আইটি শিল্প স্থাপন করে এই এলাকার শিক্ষিত তরুণ-যুব সমাজকে আইটি কোম্পানিগুলোতে চাকরির সুযোগ করে দিয়ে তাদের আইটিতে কাজ করার সক্ষমতা বাড়ানোর ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির কাজ করা হবে। তাদের বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা দেয়া হবে। তা হলে রংপুরের আবু সাঈদ ও চট্রগ্রামের ওয়াসিমসহ যে ১৪শ’ জন যে স্বপ্ন নিয়ে শহীদ হয়েছে তাদের সেই ঋণ কিছুটা শোধ হবে। 

এ সময় তারেক রহমান আরও বলেন, প্রিয় ভাই বোনেরা আগস্টের ৫ তারিখে দেশের পরিবর্তন চেয়েছে। মানুষ চায় নিজের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে হবে, মানুষ চায় নিরাপদে পথ হাঁটবে। নিরাপদে ঘুমাবে। তাই জুলাই-বিপ্লবের সকল শহীদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য, ভোটের অধিকার ফিরিয়ে আনতে যে হাজার মানুষ আত্মত্যাগ ও জীবন উৎসর্গ করেছে। তাদের সেই আত্মত্যাগকে মূল্যায়ন করতে হলে আমরা জুলাই সনদে যে স্বাক্ষর করেছি তাকে সম্মান করতে হবে। তাই ধানের শীষে যেমন ভোট দিবেন তেমনি আর একটি দ্বিতীয় ব্যালট পেপারে হ্যাঁ এবং না থাকবে সেই ব্যালট পেপারে হ্যাঁ এর পক্ষে ভোট দিবেন। জুলাই বিপ্লব-পাঁচ আগস্টের আন্দোলন কোন রাজনৈতিক দলে ইশারায় হয়নি। জনগণের দীর্ঘদিনের যে নিপিড়ন-নিষ্পেষণ থেকে মুক্তির আকাঙ্ক্ষা ছিল তা থেকে স্বতস্ফুর্ত বিস্ফোরণে হয়েছে।  

তিনি নেতাকর্মীদের ভোটের পবিত্র আমানত প্রয়োগের জন্য বলেন, ‘আপনারা ভোরবেলা ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ফজরের নামাজ পড়বেন, ভোটকেন্দ্র পাহারা দেবেন। যাতে আপনার ভোট কেউ ছিনতাই করতে না পারে।’

তিনি পিছিয়ে পড়া রংপুর অঞ্চলের প্রসঙ্গ তুলে বলেন, কে বলেছে রংপুর অঞ্চল পিছিয়ে পড়া। রংপুর অঞ্চল সব চেয়ে সমৃদ্ধ অঞ্চল। এখানে পীরগঞ্জে কয়লা-লৌহ খনি, দিনাজপুরে কয়লা, পাথর খনি আছে। রংপুর-দিনাজপুর কৃষি সমৃদ্ধ এলাকা। এই সব সম্পদ আমরা পরিকল্পিতভাবে কাজে লাগাতে পারলে রংপুর-দিনাজপুর হবে সব চেয়ে সমৃদ্ধ ও উন্নত এলাকা। দেশের বিভিন্ন নদ-নদীর পানি সংকট প্রসঙ্গ তুলে বলেন, রংপুর অঞ্চলের পানির সংকট দূর করতে আমরা সরকার গঠন করলে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করব। যা কৃষিতে নতুন বিপ্লব ঘটাবে। কৃষকদের জন্য ১০ হাজার টাকা কৃষি ঋণ মওকুফ করে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। 

দেশের দেশে জুলাই আন্দোলন প্রসঙ্গে তারেক রহমান আরও বলেন, আবু সাঈদ যে ত্যাগ করেছে তা দেশের মানুষ ভুলতে পারবে না। সেই আন্দোলনে কি নৃশংসভাবে নিরিহ ১৪শ’ ব্যক্তি হত্যা করা হয়েছে। তা দেশের মানুষ কোনদিন ভুলবে না। সকল মানুষ পরিবর্তন চেয়েছে তাই তা হয়েছে। 

এখন আমাদের দায়িত্ব জনগণকে সামনে কাতারে দাঁড়িয়ে নিয়মতান্ত্রিকভাবে কাজ করতে হবে। আগামী নির্বাচনে ঘর থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। আমাদের অর্ধেক নারী সমাজকে সামনে নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। তা না হলে দেশের সামগ্রীক উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই আমরা সকল মা-গৃহীনিদের হাতে আমরা আর্থিকসহ বিভিন্ন সহযোগিতা দিব। যাতে তারা সাবলম্বী হতে পারে। তরুণ-যুব সমাজের জন্য প্রত্যেক কৃষক ভাইয়ের হাতে কৃষকদের কৃষি কার্ড দিতে চাই। এই কৃষি কাজের মাধ্যমে আমরা তাদের জমি অনুযায়ী অন্তত একটি ফসলের বীজ সার তুলে দিতে চাই। যাতে কৃষকরা অস্তে আস্তে সাবলম্বী হয়। এ জন্য চাই আপনাদের সহযোগিতা ছাড়া সম্ভব হবে না। এ সময় তিনি জনগণের পরিকল্পনা শুনতে চাই বললে উপস্থিত জনতা সমস্বরে আগামীতে ধানের শীষে ভোট দিয়ে বিএনপিকে ক্ষমতায় আনতে চাই। জনতার উদ্দেশ্যে তাদের কথার প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেন, বিগত ১৬ বছরের নিশি রাতের নির্বাচন হতে দেব না। প্রত্যেককে ফজরের নামাজ পড়ে ভোট কেন্দ্রের লাইনে দাঁড়াতে হবে। যাতে আপনার ভোট যেন ছিনতাই না হয়। 

দলের রংপুর মহানগর কমিটির আহ্বায়ক সামসুজ্জামান সামুর সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য রাখেন পার্টির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য এজেডএম ডা. জাহিদ হোসেন, রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল হাবিব দুলু, রংপুর বিভাগের ৩৩টি আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী এর মধ্যে অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম, ব্যারিস্টার নওশাদ জমির, রংপুর জেলার ৬টি আসনের প্রার্থী মোর্কারম হোসেন সুজন, মোহাম্মদ আলী সরকার, সামসুজ্জামান সামু, এমদাদুল হক ভরসা, অধ্যাপক গোলাম রব্বানী ও ইঞ্জিনিয়ার শাহরিয়ার ইসলাম তুহিন, আব্দুল খালেক প্রমুখ।