Image description

গণভোটে সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ এর পক্ষে প্রচারণা না চালাতে নির্দেশনা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। কোনো পক্ষ নিলে গণভোট অধ্যাদেশ ও গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী তা ‘দণ্ডনীয় অপরাধ’ হবে তুলে ধরে ভোটকে প্রভাবিত না করতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। এ-বিষয়ক চিঠি রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে পাঠিয়েছে সাংবিধানিক সংস্থাটি। গতকাল ইসির তরফে এ চিঠি পাঠানো হয়। চিঠির অনুলিপি মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিবসহ সংশ্লিষ্ট সবার কাছেও পাঠানো হয়েছে।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির গণভোটে হ্যাঁ-এর পক্ষে সরকারের তরফে প্রচার চালানো নিয়ে বিতর্কের মধ্যে এমন নির্দেশনা দিল নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

গণভোটে কোনো পক্ষ না নিতে দেওয়া ইসির চিঠিতে বলা হয়, প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োজিত কোনো ব্যক্তি গণভোট বিষয়ে জনগণকে অবহিত ও সচেতন করতে পারবেন; তবে তিনি গণভোটে ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে বা ‘না’ এর পক্ষে ভোট দেওয়ার জন্য জনগণকে কোনোভাবে আহ্বান জানাতে পারবেন না। ‘কেননা এ ধরনের কার্যক্রম গণভোটের ফলাফলকে প্রভাবিত করতে পারে, যা গণভোট অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর ধারা ২১ এবং গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর অনুচ্ছেদ ৮৬ অনুযায়ী একটি দণ্ডনীয় অপরাধ।’

আচরণবিধি ভঙ্গের দায়ে ১১৯ মামলা, সোয়া ১২ লাখ টাকা জরিমানা : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে ১১৯ মামলা ও ১২ লাখ ২৪ হাজার ৩০০ টাকা জরিমানা করেছে নির্বাচন কমিশনের মাঠ কর্মকর্তারা। গতকাল গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কেন্দ্রীয় সমন্বয় কমিটির সদস্যসচিব ও এনআইডি অনুবিভাগের পরিচালক (অপারেশন) মো. সাইফুল ইসলাম এ তথ্য জানান। তিনি জানান, প্রতিদিন নির্বাচনে মাঠপর্যায়ের পরিবেশ সুষ্ঠু রাখতে নানা কার্যক্রম এর মধ্যে আচরণবিধি লঙ্ঘনে মামলা ও জরিমানা করা হচ্ছে। ৮ জানুয়ারি থেকে ২৮ জানুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটরা নির্বাচনি আচরণবিধি প্রতিপালন বা অভিযোগ বিষয়ে গৃহীত ব্যবস্থা (জেল বা জরিমানা) সম্পর্কে প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ১৭৬টি নির্বাচনি এলাকায় ১৯২টি আচরণবিধি ভঙ্গের ঘটনা ঘটেছে। এতে মোট জরিমানা করা হয়েছে ১২ লাখ ২৪ হাজার ৩০০ টাকা। আর মামলা করা হয়েছে ১১৯টি। নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জানান, ইসির কাছে কোনো অভিযোগ এলেও প্রাথমিক পর্যায়ে রিটার্নিং অফিসার, মাঠপর্যায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত এবং ইলেক্টোরাল ইনকোয়ারি ও বিচারক কমিটি তাৎক্ষণিকভাবে সেগুলো আমলে নিচ্ছে। প্রতিদিনই তারা মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছে। প্রতিদিনই আমরা রিপোর্ট পাচ্ছি কেস রুজু হচ্ছে; কোথাও জরিমানা হচ্ছে; কোথাও শোকজ হচ্ছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২ হাজারের কাছাকাছি প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত প্রচার চালতে পারবেন এসব প্রার্থী। আর ভোট গ্রহণ ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত।

৮ ফেব্রুয়ারির পর প্রার্থিতা ফিরে পেলে পোস্টাল ব্যালট প্রযোজ্য নয় : ফেব্রুয়ারির পর কোনো প্রার্থী আদালতের আদেশে প্রার্থিতা ফিরে পেলে সংশ্লিষ্ট আসনে দেশের ভিতরে পোস্টাল ব্যালট প্রযোজ্য হবে না। গতকাল নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান ইসি সচিব আখতার আহমেদ। তিনি বলেন, কমিশন সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আদালত যদি কারও প্রার্থিতা পুনর্বহাল করেন বা দেন তাহলে সেই পর্যন্ত আমরা পোস্টাল ব্যালটে তাদের অন্তর্ভুক্তির বিষয়টা বিবেচনায় নেব বা করা যেতে পারে। কিন্তু ৮ ফেব্রুয়ারির পরে যদি কারও প্রার্থিতা পুনর্বহাল হয় সে ক্ষেত্রে পোস্টাল ব্যালট তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হওয়ার সুযোগ নেই। কারণ ব্যালট ছাপিয়ে ভোটারদের পাঠিয়ে তারপরে রিটার্নিং অফিসারের ফেরত পেতে যে সময়টুকু দরকার, সেই ন্যূনতম সময়টুকু থাকবে না।

নির্বাচনি প্রচার ব্যানারের পরিমাপের বিষয়ে ইসি সচিব বলেন, ব্যানার তৈরি করতে হবে ১০ ফুট বাই ৪ ফুট। এই হচ্ছে আচরণ বিধিমালায়। ব্যানার রঙিন করা যাবে না। কিন্তু ডিজিটাল ডিসপ্লে বোর্ডে রঙিনটা আসার কথা। পিভিসি যদি ব্যবহার করে থাকে তাহলে সেটা আচরণবিধির ব্যতিক্রম এবং রিটার্নিং অফিসাররা সে ব্যাপারে ব্যবস্থা নেবেন। যুক্তরাষ্ট্রের পর্যবেক্ষকদের বিষয়ে ইসি সচিব বলেন, ইউএস গভর্নমেন্ট স্পনসরড অবজারভার আসবে না। কিন্তু ইউএস থেকে অবজারভার আসবে, তাঁরা ইনডিপেন্ডেন্ট।