ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনে নির্বাচনি প্রচার এখন তুঙ্গে। দিন যতই যাচ্ছে, গণসংযোগে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রার্থীরা। নতুন ভোটারদের সমর্থনে প্রার্থীরা প্রচারে ব্যস্ত থাকলেও ‘কথার যুদ্ধ’ চালাতে ভুলছেন না কেউ। ভোটাররাও প্রার্থীদের এসব মন্তব্যকে ঘিরে নানান হিসাবনিকাশ করছে। আসনটিতে ১১ জন প্রার্থী থাকলেও মূলত বিএনপি, ১১-দলীয় জোটের প্রার্থী ও বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির প্রার্থীর মধ্যেই লড়াই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছে ভোটাররা। তবে বাকি প্রার্থীরাও ভোটের মাঠে প্রচার চালাচ্ছেন।
সরেজমিন ঘুরে ও স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দীর্ঘ ১৭ বছর পর তারা তুলনামূলকভাবে একটি ভিন্ন পরিবেশে নির্বাচন দেখছে। ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে ভোটাররা নানান বিষয় বিবেচনায় আনবে। বিশেষ করে তরুণ ও নীরব ভোটাররাই এ আসনের ব্যবধান গড়ে দেবে। দলীয় প্রার্থী ও সমর্থনের ভোটাররা সরাসরি প্রার্থীদের হয়ে কথা বললেও অধিকাংশ ভোটার কথা বলছে না। কিছুটা বললেও তা ‘ভোট কেন্দ্রে ব্যালটে উত্তর দেব’ বলে মন্তব্য করছে। তা ছাড়া নির্বাচনে বিএনপি-এনসিপির প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে বলেও তারা জানায়। শাহজাহানপুরের বাসিন্দা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আহমেদ নাসির জানান, খুব করে চাই একটা পরিবর্তন আসুক। রাষ্ট্র স্থিতিশীল হোক। নির্বাচনে কাকে ভোট দেব এখনো ঠিক করতে পারিনি। ১৩ দিন সময় আছে। ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রার্থীদের সর্ব দিক বিবেচনা করব।
রাজধানীর মধ্যভাগে অবস্থিত ঢাকা-৮ আসন মতিঝিল, শাহবাগ, রমনা, পল্টন ও শাহজাহানপুর থানা এলাকা নিয়ে গঠিত। এবার ১১ জন প্রার্থী থাকলেও মাঠে জোরালোভাবে সক্রিয় রয়েছেন মাত্র তিনজন প্রার্থী। তারা হলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির মির্জা আব্বাস (ধানের শীষ), জামায়াত জোটের জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির মুহাম্মাদ নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী (শাপলা কলি) এবং বামজোটের বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি-সিপিবির ত্রিদ্বীপ কুমার সাহা (কাস্তে)। নির্বাচন কমিশনের তথ্যানুসারে, ঢাকা-৮ এ মোট ভোটার ২ লাখ ৭৫ হাজার ৪৭১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৫২ হাজার ৭৯৫ জন। নারী ভোটার ১ লাখ ২২ হাজার ৬৭৫ এবং ১ জন তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন। এ আসনে অন্য দলের প্রার্থীরা হলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেফায়েত উল্লা (হাতপাখা), জনতার দলের মো. গোলাম সারোয়ার (কলম প্রতীক), গণঅধিকার পরিষদের (জিওপি) মেঘনা আলম (ট্রাক প্রতীক), বাংলাদেশ জাসদের এ এফ এম ইসমাইল চৌধুরী (মোটরগাড়ি-কার), জাতীয় পার্টির মো. জুবের আলম খান (লাঙ্গল), বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের মো. রাসেল কবির (ছড়ি), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্কসবাদী) এ এইচ এম রাফিকুজ্জামান আকন্দ (কাঁচি) ও বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের এস এম সরওয়ার (মোমবাতি)। জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ফজলে রুবাইয়াত পাপলু বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ঢাকা-৮ আসনে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী শহীদ শরিফ ওসমান হাদির স্থলাভিষিক্ত হলেও হাদির জনপ্রিয়তা ধরে রাখতে পারেননি। নির্বাচনি মাঠে নেমেই দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে সরাসরি বিষোদ্গার করে মির্জা আব্বাসকে আরও জনপ্রিয় করে তুলেছেন। নীরব ভোটাররা ওসমান হাদির বড় সাপোর্টার ছিল। এরাই ভোটের মাঠে বড় পার্থক্য গড়তে যাচ্ছে। নাসীরুদ্দীনকে সমর্থন দিতে গেলেও তার বিষোদ্গারের জন্য শহীদ ওসমান হাদির এসব ভোটার মির্জা আব্বাসকে সমর্থন দেওয়া শুরু করেছে।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক ও সহ-শিক্ষা সম্পাদক মাহাবুব আলম বলেন, মানুষ একটা পরিবর্তন চাইছে। তরুণদের বিশ্বাস করে এবার ভোটাররা ১১-দলীয় জোটের প্রার্থীকে ভোট দেবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। ১১-দলীয় জোট বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পল্টন থানার সহকারী সেক্রেটারি মো. এনামুল হক বলেন, দলীয় নির্দেশে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। প্রাণপণ চেষ্টা করছি ডোর টু ডোর মানুষের কাছে পৌঁছাতে। নির্বাচনের একটা হাইপ সব সময় থাকে। তবে আল্লাহর রহমতে ভোটারদের সাড়া পাচ্ছি বেশ। আশা করি ১২ তারিখ ভালো ফল ভোটাররাই নির্ধারণ করবে।