Image description
যান চলাচলে বিধি-নিষেধ

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গত ৮ থেকে ২৬ জানুয়ারি পর্যন্ত ১২৮টি আসনে ১৪৪টি আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে। এতে ৯ লাখ পাঁচ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পাশাপাশি ৯৪টি মামলা করা হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে নির্বাচন ভবনে নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

আচরণবিধি লঙ্ঘন কম হওয়ার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘মনোনয়নপত্রের সঙ্গে দলীয় প্রধানের অঙ্গীকারনামা রয়েছে। অঙ্গীকার করেছেন যে আচরণবিধি পরিপন্থী কাজ করব না। এটি এখানে ভালো ফল দিয়েছে। আচরণবিধি প্রায় শতভাগ এনশিউর করতে পেরেছি বলে নির্বাচন কমিশন মনে করে।

এখন পর্যন্ত নির্বাচনী পরিবেশ ও মাঠ কেমন আছে, জানতে চাইলে তিনি বলেন, মাঠ পর্যায়ে পরিদর্শন করে যেটুকু দেখতে পাচ্ছি, নির্বাচন কমিশন মনে করে, অতীতের অনেক নির্বাচনের চেয়ে এবারের নির্বাচনের মাঠের পরিবেশ অত্যন্ত চমৎকার আছে। এক প্রশ্নের জবাবে এই কমিশনার বলেন, কমিশন কোনো শঙ্কা প্রকাশ করছে না। প্রতিনিয়ত রাজনৈতিক নেতারা আমাদের সঙ্গে দেখা করতে আসছেন। উনাদের পরামর্শ, পর্যবেক্ষণ জানাচ্ছেন।

সে অনুযায়ী আমরা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিচ্ছি। এ ছাড়া গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে যে বিষয়গুলো আসছে, তাৎক্ষণিকভাবে আমরা রিটার্নিং অফিসারের নজরে আনছি, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীকে ত্বরিত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বলা হচ্ছে।

নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর সরকারের প্রকল্প নেওয়ার বিষয়টি নজরে আনলে এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, এটি অন্তর্বর্তী সরকার। এটি রাজনৈতিক কোনো সরকার নয়। এখানে কোনো প্রার্থী নেই।

আচরণবিধিতে বলা আছেযাঁরা রাজনৈতিক দল, প্রার্থী, নির্বাচন করবেন, তাঁরা এই কাজটা করতে পারবেন না। সরকার তো রুটিন ওয়ার্ক হিসেবে এগুলো করছে।

জামায়াত ও এনসিপির অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, দুটি দলের যে অভিযোগ ছিল সেগুলো আমরা খুব মনোযোগের সঙ্গে শুনেছি এবং সমাধানের জন্য এরই মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছি।

দলগুলো বলছে এখন পর্যন্ত লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই। বিষয়টি নজরে আনলে আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড কোন জায়গায় নেই, কেন নেইএ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট অভিযোগগুলো আমরা সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসার ও ইলেকটোরাল ইনকোয়ারি কমিটির কাছে পাঠিয়েছি। তারা আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে।

নির্বাচন কমিশনের প্রতি মানুষের অনাস্থা কাটিয়ে উঠতে পেরেছেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, আস্থা-অনাস্থার বিষয়টি জনগণের। আমরা মনে করি, শতভাগ আস্থার সঙ্গে জনগণ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে। রাজনৈতিক দলগুলো অংশ নিচ্ছে এবং একটা উৎসবমুখর পরিবেশে মাঠে-ঘাটে প্রচারণা চলছে। এগুলো আস্থার বহিঃপ্রকাশ।

একটি দল থেকে নির্বাচন না হওয়ার ষড়যন্ত্র হচ্ছেএমন আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন মনে করে, কোনো আশঙ্কা সঠিক হবে না। ইনশাআল্লাহ আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সবাই দেখবে, জাতি দেখবে, বিশ্ব দেখবে, একটি সুন্দর নির্বাচন হয়েছে।

সড়ক ও নৌযান চলাচলে বিধি-নিষেধ আরোপ : এদিকে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সামনে রেখে যান চলাচলে বিধি-নিষেধ আরোপ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইসির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মোটরসাইকেল চলাচল বন্ধ থাকবে তিন দিন এবং নির্দিষ্ট কয়েক ধরনের যানবাহন ২৪ ঘণ্টা চলাচল করতে পারবে না। একই সঙ্গে নৌযান চলাচলেও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। তবে জরুরি সেবা, নির্বাচনসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও বিশেষ প্রয়োজনের ক্ষেত্রে এসব বিধি-নিষেধ শিথিল থাকবে।

গতকাল মঙ্গলবার নির্বাচন পরিচালনা-২ অধিশাখার উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেনের স্বাক্ষরিত পৃথক দুটি চিঠির মাধ্যমে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এবং নৌবিভাগকে এসব নির্দেশনা বাস্তবায়নের অনুরোধ জানানো হয়েছে। চিঠিতে ভোটগ্রহণের আগের রাত, অর্থাৎ ১১ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত ১২টা থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা পর্যন্ত মোট ২৪ ঘণ্টা ট্যাক্সিক্যাব, পিকআপ, মাইক্রোবাস ও ট্রাক চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকবে। এ ছাড়া ১০ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত ১২টা থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত ১২টা পর্যন্ত মোট ৭২ ঘণ্টা মোটরসাইকেল চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে। ১১ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত ১২টা থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত ১২টা পর্যন্ত লঞ্চ, ইঞ্জিন বোট (নির্দিষ্ট রুটে চলাচলকারী ছাড়া) ইত্যাদি নৌযান চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকবে।

তবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী, প্রশাসন, অনুমতিপ্রাপ্ত পর্যবেক্ষক ও সংবাদপত্রের গাড়ির ক্ষেত্রে এ নিষেধাজ্ঞা শিথিল থাকবে। এ ছাড়া জরুরি সেবা যেমনওষুধ, স্বাস্থ্য-চিকিৎসা ও অনুরূপ কাজে ব্যবহৃত যানবাহন; টিকিট প্রদর্শন করে বিমানবন্দরে যাওয়া-আসা করার যাত্রী বা আত্মীয়-স্বজনের গাড়ি; দূরপাল্লার যাত্রী বহনকারী যানবাহন; প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও তাঁদের নির্বাচনী এজেন্টের জন্য রিটার্নিং অফিসারের অনুমোদনের পর একটি গাড়ি (জিপ/কার/মাইক্রোবাস); টেলিযোগাযোগ সেবায় নিয়োজিত বিটিআরসি ও লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের যানবাহনের বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা শিথিল রাখা হয়েছে।

ইসির নির্দেশনায় আরো বলা হয়েছে, জাতীয় মহাসড়ক, বন্দর এবং আন্ত জেলা বা মহানগর থেকে বের হওয়া বা প্রবেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা শিথিল থাকবে। এ ছাড়া স্থানীয় বাস্তবতা ও প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনাররা চাইলে আরো কিছু যানবাহনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারবেন বা শিথিল করতে পারবেন।