সিলেট বিভাগের ১৯টি আসনের প্রার্থীদের বিরুদ্ধে ২৬৮টি মামলা। মামলাগুলোর প্রায় শতভাগই গত সরকারের আমলে করা। অভিযুক্ত নেতাদের দলগুলো বলছে, এসব মিথ্যা মামলা, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ফল। মামলার আসামিদের বেশির ভাগই বিএনপি-জামায়াতের। এর মধ্যে বহুল আলোচিত ‘স্পর্শকাতর’ মামলাও। সেসব মামলায় অভিযুক্তরাই সিলেটের বর্তমান নির্বাচনি মাঠ কাঁপিয়ে তুলছেন।
সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএসএম কিবরিয়া হত্যা ও সাবেক মন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত হত্যা প্রচেষ্টার মতো স্পর্শকাতর মামলার অন্যতম অভিযুক্ত হচ্ছেন সিলেটের আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি সাবেক মেয়র ও বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা এবং সিলেট ৪ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী। জেলও খাটেন অনেকদিন। সব মামলায়ই তিনি এখন জামিনে। সিলেটের এই সাবেক মেয়র সিলেট ১ আসন থেকে নির্বাচন করবেন এমন আলোচনা ছিল। শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। তাকে সিলেট ৪ আসনের প্রার্থী করে বিএনপি। ওখানে প্রার্থী হয়েছিলেন আব্দুল হাকিম চৌধুরী।
তিনিও বিএনপির প্রভাবশালী নেতা ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ছিলেন। অবশেষে ওই আসনে হাকিমকে বুঝিয়ে আরিফকে প্রার্থী করে বিএনপি। এতে বিদ্রোহের আগুন জ্বলে উঠে সীমান্তের ওই আসনে। হাকিম আর দলের নেতাকর্মী-সমর্থকদের ম্যানেজ করে ওই আসনে আরিফ এখন প্রচারণার হিরো। হাকিমের হাতে হাত রেখে সব মতপথের লোকদের নিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন জাফলংয়ের উচু টিলায়, কখনো আবার সাঁকো পার হয়ে যান গোয়াইনঘাটের লক্ষ্মীর হাওড়ে।
সিলেট-৪ আসনের আরিফুল হক চৌধুরীর ১০ মামলার মধ্যে ৯টি বিচারাধীন এবং ১টি থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন। তবে ভোটাররা বলছেন, মামলার সংখ্যা নয়, নেতৃত্বের দৃঢ়তা ও জনগণের পাশে থাকার মানসিকতাই তাদের কাছে মুখ্য। এই আসনে আরিফের সঙ্গে ভোটযুদ্ধে প্রস্তুত জৈন্তাপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও জামায়াতের প্রভাবশালী নেতা জয়নাল আবেদিন।
হবিগঞ্জ-৩ আসনের বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী সাবেক মেয়র জিকে গউছ। তিনি দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক। তিনিও সিলেটের সাবেক মেয়র আরিফুল হকের সঙ্গে সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএসএম কিবরিয়া হত্যা মামলার আসামি ছিলেন। সব মিলিয়ে গউছের বিরুদ্ধে মামলার সংখ্যা ২০টি। এর মধ্যে ৬টি চলমান এবং ১৪টি থেকে খালাস পেয়েছেন। জেলও খেটেছেন দীর্ঘদিন। মামলা, জেল-জুলুমের ধকল কাটিয়ে উঠা গউছের প্রচারণা শুধু হবিগঞ্জ জেলায় নয়, পুরো বিভাগে আলোচিত। গউছ যে মঞ্চেই উঠছেন সেখানেই গত আওয়ামী লীগ সরকারের দুঃশাসনের চৌদ্দগোষ্ঠী উদ্ধার করছেন।
বর্ণনা দিচ্ছেন, তার ওপর জেল-জুলুম অত্যাচারের। তার এমন বক্তব্য ভালোই নিচ্ছে গউছের জনসভায় আগতরা। আর মামলার চাপ থাকা সত্ত্বেও গউছের প্রচারণায় কোনো স্থবিরতা নেই। জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে জনসভা ও পথসভাগুলো উৎসবমুখর হয়ে উঠছে। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও স্থানীয় সমস্যার গভীর ধারণা তাকে অন্য প্রার্থীদের থেকে আলাদা করে তুলেছে। তার সঙ্গে লড়ছেন জামায়াতের কাজী মহসিন আহমদসহ কয়েক প্রার্থী।
সিলেট-৬ আসনের জামায়াতের প্রার্থী সেলিম উদ্দিন লড়ছেন বিএনপির অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরীর সঙ্গে। মামলায় পুরো সিলেট বিভাগে তিনি শীর্ষে রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে করা ৪৪ মামলার প্রায় সবই গত সরকারের আমলে করা। তবে ১টি মামলা শুধু চলমান, বাকিগুলো থেকে খালাস পেয়েছেন। জামায়াত এসব মামলা থেকে সেলিম উদ্দিনের অব্যাহতি ইতিবাচকভাবেই প্রচারণায় কাজে লাগাচ্ছে। তাদের মতে এটা প্রার্থীর স্বচ্ছতা ও সততার প্রতীক। তার প্রচারণার মাঠও জমজমাট।
এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, সিলেট বিভাগের ১৯ আসনে মোট ৮টি দলের প্রার্থীর বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। মোট প্রার্থী ৪৮ জন এবং মোট মামলা ৩৪৬টি। এর মধ্যে ২৮৫টি মামলায় খালাস পেয়েছেন তারা। ৬১টি মামলা এখনো চলমান।