Image description

ফেনীতে ৩টি প্রতিষ্ঠানের অন্তত ২০ হাজার শিক্ষার্থীর শ্রেণি কার্যক্রম বন্ধ রেখে বিএনপির নির্বাচনি জনসভা করা হচ্ছে। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। রোববার (২৫ জানুয়ারি) বিকেলে শহরের পাইলট হাই স্কুল মাঠের এ জনসভায় দলটির চেয়ারপারসন তারেক রহমান প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন।

বন্ধ রাখা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে-ফেনী সরকারি কলেজ, ফেনী সরকারি পাইলট হাই স্কুল ও ফেনী সরকারি পাইলট প্রাইমারি স্কুল। এর মধ্যে কলেজে ১৮ হাজার ও হাইস্কুলে সাড়ে ১২শ এবং প্রাইমারিতে ১৩’শ শিক্ষার্থী রয়েছে।

 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বিএনপির জনসভাকে কেন্দ্র করে গত কয়েকদিন ধরে নানা আয়োজন ও প্রস্তুতি শেষে সকাল থেকে পুরো মাঠসহ এ ৩টি প্রতিষ্ঠানের প্রধান ফটকগুলো বিএনপি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয়।

 

এতে বিপাকে পড়েন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ৩টির শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মচারীরা। পুলিশের বাঁধার মুখে শিক্ষক-কর্মচারীরা পরিচয়পত্র দেখানো শর্তে ভেতরে প্রবেশ করতে পারলেও ফিরে যেতে হয়েছে ছাত্র-ছাত্রীদের।ফলে বিষয়টি ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গেছে অনেক শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের।

 

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে পাইলট প্রাইমারির ও হাইস্কুলের কয়েকজন অভিভাবক আমার দেশকে বলেন, বিগত সরকারের এমপি-মন্ত্রীরা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে এমন স্বেচ্ছাচারিতা করেছিল। কারণ তারা ফ্যাসিস্ট ছিল।

তারা বলেন, জুলাই বিপ্লবের পর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শ্রেণি কার্যক্রম বন্ধ করে রাজনৈতিক দলের জনসভা হবে; এমনটি কখনো ভাবিনি। তা-ও এমন একটি সময় যখন কোনো রাজনৈতিক সরকার ক্ষমতায় নেই। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক।

জনসভা যাদের তাদের দলীয় প্রধান হয়তো এটি অবগতও নয়, যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু অতিউৎসাহী সদস্য এমনটা করছেন বলে মন্তব্য তাদের।

ফেনী সরকারি কলেজের কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কোনো প্রকার নোটিশ ছাড়াই গেইটে এসে দেখছি ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। ফলে ক্লাস না করেই ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছি। অনেকের ইন্টারমিডিয়েট, ডিগ্রি ও অনার্সের অভ্যন্তরীণ পরীক্ষা ছিল। সেগুলো দিতে পারেনি।

এসব অভিযোগের ব্যাপারে জানতে ফেনী জেলা বিএনপির সভাপতি শেখ ফরিদ বাহারের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে পাইলট প্রাইমারি প্রধান শিক্ষক ফারহা দিবা খানম আমার দেশ প্রতিনিধিকে জানান, প্রতিষ্ঠান বন্ধ দেওয়া হয়নি। শিক্ষক-কর্মচারীরা উপস্থিত আছে। পুলিশ বলছে এটা রেডজোন। ফলে পরিচয়পত্র দেখিয়ে ভেতরে ঢুকতে হয়েছে।

পাইলট হাইস্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বিপুল সরকার আমার দেশকে জানান, স্কুলের মাঠ ব্যবহারের অনুমতি প্রসঙ্গে তিনি অবগত নয়। প্রতিষ্ঠান খোলা ছিল। শিক্ষার্থীরা আসতে না পারায় শ্রেণি কার্যক্রম হয়নি।

ফেনী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোহাম্মদ এনামুল হক খোন্দকার আমার দেশকে জানান, তিনি নিজেও ভেতরে প্রবেশে প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়েছে। শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে অভ্যন্তরীণ পরীক্ষাগুলো স্থগিত ঘোষণা করেছেন।

ফেনীর পুলিশ সুপার শফিকুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করেও তিনি কল রিসিভড না করায় এ ব্যাপারে তার বক্তব্য জানা যায়নি।

জেলা প্রশাসক মনিরা হক এর নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন,জনসভার জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার সুযোগ নেই। বিষয়টি তিনি খোঁজ নিয়ে দেখবেন।