Image description
 

‘ভাই চাকরি থেকে পেনশনে (অবসর) এসে পরিবার নিয়ে বাড়িতে থাকবেন বলে একটি পাকা ঘর তৈরি করছিলেন। গত শুক্রবারও তিনি স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে বাড়িতে এসে ঘর দেখে যান। কিন্তু ভাইয়ের আর নতুন করে থাকা হলো। এখন চির ঘুমে থাকবেন কবরে।’ চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুরে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত র‌্যাব কর্মকর্তা মোতালেব হোসেন ভুঁইয়ার মরদেহ মঙ্গলবার রাতে কুমিল্লায় গ্রামের বাড়িতে আনার পর এভাবেই আহাজারি করেন মোতালেবের বড় বোন মঞ্জুয়ারা বেগম। 

মঙ্গলবার রাতে জেলার সদর উপজেলার কালিরবাজার ইউনিয়নের অলিপুর ভুঁইয়াপাড়া ঈদগাহ মাঠে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হয়। এ সময় র‌্যাব কর্মকর্তা, সহকর্মী ও এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি পেশার লোকজন অংশ নেন। 
 
এর আগে চট্টগ্রামে প্রথম জানাজা শেষে নিহতের স্ত্রী, সন্তান ও পরিবারের লোকজন মরদেহ গ্রহণ করে রাত সাড়ে ৮টার দিকে কুমিল্লায় গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসেন। মোতালেব হোসেন কুমিল্লার সদর উপজেলার কালিরবাজার ইউনিয়নের অলিপুর গ্রামের প্রয়াত আবদুল খালেক ভুইয়ার পুত্র। ৮ ভাই ও ৩ বোনের মধ্যে নিহত মোতালেব সবার ছোট। তিনি এক ছেলে ও দুই কন্যা সন্তানের জনক। তার বড় ছেলে সাকিব অনার্স প্রথম বর্ষ, মেয়ে শামীমা জান্নাত এসএসসি পরীক্ষার্থী ও ছোট মেয়ে মুনতাহা আক্তার ৫ম শ্রেণিতে পড়ে। 

মোতালেব বিজিবিতে যোগাদান করেন ১৯৯৩ সালে। গত দুই বছর আগে তিনি র‌্যাবে পোস্টিং নেন। রাজধানীর পিলখানা এলাকায় তার বাসা। মোতালেবের মৃত্যুর খবর সোমবার সন্ধ্যায় মোবাইল ফোনে চট্টগ্রাম থেকে গ্রামের বাড়িতে জানানো হলে পরিবারে শোকের ছায়া নেমে আসে।

বিকেলে গ্রামের বাড়িতে গিয়ে দেখা গেছে, মরদেহ দেখতে স্বজন ও প্রতিবেশীরা বাড়িতে ভিড় করছেন। মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্স বাড়িতে আসার পর কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিবারের স্বজনরা। এ সময় নিহতের বড় বোন মঞ্জুয়ারা বেগম আহাজারি করে বলেন, গত শুক্রবার আমার ভাই বাড়িতে এসেছিল। চট্টগ্রামে যাওয়ার সময় তার বড় মেয়ে বারবার বলছিল আব্বু আজ যেয়ো না। মেয়েকে সান্ত্বনা দিয়ে মোতালেব বলেছিল, সরকারি কাজ, যেতেই হবে। মেয়েটি কান্না বুকে জমা রেখেই বাবাকে বিদায় দেয়।
 
মোতালেবের বড় ভাই জাকির হোসেন সমকালকে বলেন, আমাদের প্রথমে মোবাইলে জানানো হয় মোতালেব অভিযানে গিয়ে আহত হয়েছেন। একটু পর জানানো হয় নিহত হয়েছে। মোতালেব ছিল আমাদের পরিবারের ছোট। তাই সে ছিল খুব আদরের। ছোট বেলা থেকেই ছিল বেশ সাহসী। সে জীবন দিয়ে তা প্রমাণ করে গেল।

র‌্যাব ১১ সিপিসি-২ কুমিল্লার অধিনায়ক মেজর সাদমান ইবনে আলম বলেন, দায়িত্ব পালনকালে সন্ত্রাসীদের হাতে মোতালেবের এ মৃত্যু সত্যই দুঃখজনক। দেশের জন্য এমন মৃত্যু অনুসরণীয় হয়ে থাকবে। আমরা সব সময় এ পরিবারের পাশে থাকব।