কারো গায়ে জ্যাকেট, কেউ পরেছে ব্লেজার, সঙ্গে রঙিন সানগ্লাস চোখে। কেউ সেজেছে মাথায় টুপি দিয়ে, কেউ আবার গলায় পুতির মালায়। তবে এমন বর্ণিল সাজে রেড কার্পেটে হাঁটা তারা কেউ মানুষ নয়, পোষা প্রাণী। অবশ্যই তাদের সঙ্গে ছিলেন প্রাণী প্রেমীরাও। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) টিএসসি প্রাঙ্গণে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হওয়া ‘প্রথম পেট কার্নিভাল’ এর দৃশ্য এটি।
আয়োজকরা বলছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন উদ্যোগ এবারই প্রথম। শিক্ষার্থী ও তাদের পোষা প্রাণীর পাশাপাশি ক্যাম্পাসে থাকা অন্যান্য প্রাণীর চিকিৎসা ও যত্নে সচেতনতা তৈরিতে এই আয়োজন। এতে শতাধিক পোষা প্রাণী নিয়ে হাজির হয়েছেন তরুণ-তরুণীরা।
এতে নিজেদের পোষা প্রাণীদের বর্ণিল সাজে সাজিয়ে নিয়ে আসেন প্রাণী প্রেমীরা। র্যাম্প শো, যেমন খুশি তেমন সাজোসহ নানা আয়োজনে প্রাণীগুলো মুখর করে রাখে উৎসবকে। সঙ্গে ছিল পোষা প্রাণীদের জন্য চিকিৎসাসেবা, খাবার ও উপহারের বিশেষ ব্যবস্থাও।
কেয়ার ডিইউ এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সহায়তায় আজ মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) উদ্যোগে এ আয়োজন বিকেল তিনটা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়।
দুই বছর বয়সী নিজের পোষা বিড়াল লাড্ডুকে নিয়ে পেট কার্নিভালে এসেছিলেন মিতু আক্তার। তিনি বলেন, পেট কার্নিভালে এসে অবশ্যই ভালো লাগছে। এরকম আয়োজন নিয়মিত করা উচিত বলে আমি মনে করি। আমার পেটটি ঘুরে বেড়াতে পছন্দ করে।
তিনি আরও জানান, তার বিড়ালটি অনেক শান্ত। তবে এখানে মানুষের আনাগোনা ও অনেক পোষা দেখে একটু ভয় পেয়ে গেছে।
সাহিদা আলম নামে ঢাবির এক ছাত্রী নিজের পোষা বিড়াল নিয়ে পেট কার্নিভালে আসেন। তিনি বলেন, আমি অনেক দিন ধরে এক্সাইটেড ছিলাম এবং আমার বিড়ালটা কুমিল্লায় থাকে আর আমি থাকি হলে। বোনকে দিয়ে আমার বিড়ালটা আনালাম এবং আমার কালকে সেমিস্টার ফাইনাল তাও এসেছি। কারণ আমি অনেক এক্সাইটেড ছিলাম এই প্রোগ্রামটার জন্য।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষার্থী সাগুফতা ইয়াসমিন জেরিন নারায়ণগঞ্জ থেকে নিয়ে এসেছেন তার পোষ্য কবুতর হাননাকে। পেট কার্নিভালে এসে জেরিনের মাথায় ঘুরে দেশি জাতের কবুতরটি।
এ আয়োজনে ডাকসুর সহ-সভাপতি (ভিপি) সাদিক কায়েম বলেন, আজকের যে কার্নিভাল এটা কোনো প্রোগ্রাম নয়। এটা একটা সচেতনতামূলক আয়োজন। একজন মানুষ হিসেবে এটা আমাদের দায়িত্ব জীববৈচিত্র্য যদি রক্ষা করা। তাই আমাদের প্রাণীর প্রতি সহানুভূতিশীল হতে হবে। সেটাকে একটা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার জন্যই আজকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংষদ এই কার্নিভালের আয়োজন করেছে।
‘‘আমরা এর মাধ্যমে সমাজে যে মেসেজটা দিতে চাই, আমাদের প্রাণীর প্রতি অনেক বেশি মমত্ববোধ দেখাতে হবে। আমাদের এই জীববৈচিত্র্য রক্ষার জন্য আমাদেরকে আন্তরিক হতে হবে।’’