ঢাকার ধামরাইয়ে বেড়াতে এসে হিন্দু বাড়িতে গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন এক মুসলিম গৃহবধূ। অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে স্বামীকে ঘরের খুঁটির সঙ্গে রশি দিয়ে বেধে রেখে ওই গৃহবধূকে পালা ক্রমে রাতভর ধর্ষণ করা হয়। সেইসঙ্গে গৃহবধূর পরনে থাকা কানের দুল, গলার চেন ও হাতের বালা সহ সাড়ে তিন ভরি ওজনের স্বর্ণের গহনা ও ছিনিয়ে নেয় ওই সংঘবদ্ধ ধর্ষণকারীরা।
এ সঙ্গবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার বালিয়া ইউনিয়নের হিন্দু অধ্যুষিত এলাকা রামরাবন গ্রামের শান্তি রানী মনিদাসীর বাড়িতে। স্বামী স্ত্রীকে হত্যার ভয় দেখিয়ে ওই বাড়ি থেকে স্বামী স্ত্রীকে বিতাড়িত করা হয়। এরপর শুক্রবার সকালে বালিয়া ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের মেম্বার মন্টু চন্দ্র মনিদাসের নিকট এ ঘটনায় বিচার প্রার্থী হন তারা। এ ঘটনা স্থানীয় মুসলিম সমাজে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মানিকগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা ও ধামরাই উপজেলার পাবরাইল এনডি কনস্ট্রাকশন ফার্মের গাড়ি চালক মোঃ আব্দুর রাজ্জাক তার সহধর্মিনীকে নিয়ে বালিয়াটি প্রাসাদে ঘুরতে যান রাম রাবণ গ্রামের ফনি চন্দ্র মনি দাসের ছেলে ও এন ডি কনস্ট্রাকশন ফার্মের নিরাপত্তা কর্মী কৃষ্ণ চন্দ্র মনি দাস কে সঙ্গে করে। দিনশেষে সন্ধ্যার দিকে রামরাবন গ্রামের ওই কৃষ্ণচন্দ্র মনিদাসের বাড়িতে বেড়াতে যান, ওই এনডি কনস্ট্রাকশন ফার্ম এর গাড়ি চালক মোঃ আব্দুর রাজ্জাক ও তার সহধর্মিনী। ওই বাড়িতে মন্দির প্রাঙ্গণে পৌষ পার্বণ চন্দ্র মনি দাস আব্দুর রাজ্জাক ও তার স্ত্রীকে রাত্রি যাপনের জন্য কৃষ্ণচন্দ্র মনিদাস এর বোন শান্তি রানী দাস এর বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর রাত বারোটার দিকে পাঁচ সাত জন হিন্দু যুবক চাপাতি ও রামদা সহ ধারালো অস্ত্রের মুখে চিমনি করে গাড়ি চালক আব্দুর রাজ্জাককে রশি দিয়ে বেঁধে রেখে তার সহধর্মিনীকে জোরপূর্বক পালা ক্রমে রাতভর ধর্ষণ করে।
এ ঘটনার পর শুক্রবার সকালে ভুক্তভোগীরা স্থানীয় ইউপির সদস্য মন্টু চন্দ্র মনি দাস সহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের কাছে বিচার চান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সজীব চন্দ্র মনি দাস সহ উঃশৃংখল যুবক ধর্ষিতা ও তার স্বামীকে লাঠিপেটা করে গ্রাম থেকে বিতাড়িত করে বলে এলাকাবাসী অভিযোগ করে।
এ ব্যাপারে ইউপি সদস্য মন্টু চন্দ্র মনি দাস বলেন, যে বাড়িতে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে আমি ওই বাড়িতে গিয়ে কাউকে খুঁজে পাইনি।। এছাড়া ধর্ষকদেরও সনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে ধামরাই থানার এএসআই হারাধন সরকার বলেন , আমি সরে জমিনে পরিদর্শন করেছি। ধর্ষিতা ওই ভিকটিমের এবং ধর্ষণকারীদের খুঁজে পাইনি। এ ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে পরবর্তীপদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।