নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলায় মিজানুর রহমান ওরফে রনি নামের এক যুবককে প্রকাশ্যে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার পর ওই যুবককে ডাকাত আখ্যা দিয়ে একদল যুবক বাজারে মিষ্টি বিতরণ করে, যা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার রাত ১০টার দিকে নরোত্তমপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের কালিরহাট বাজারসংলগ্ন কাজী বাড়ির সামনের সড়কে এ ঘটনা ঘটে। নিহত মিজানুর রহমান কবিরহাট পৌরসভার জৈনদপুর এলাকার শহীদের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে চুরি, ডাকাতি, অস্ত্র ও সরকারি কর্মচারীর ওপর হামলাসহ অন্তত ছয়টি মামলা রয়েছে। শনিবার রাত ৮টার দিকে কালিরহাট বাজারে ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির নির্বাচনি বৈঠক চলছিল। এ সময় মিজানুর রহমান সেখানে উপস্থিত হয়ে নিজেকে দলের ত্যাগী কর্মী দাবি করেন এবং তাকে বৈঠকে আসতে না বলায় সেখানে উপস্থিত নেতাকর্মীদের সঙ্গে গালাগাল ও বাগ্বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে বিএনপি কর্মীরা ধাওয়া দিলে তিনি সেখান থেকে চলে যান।
পরে কালিবাজারের উত্তরে কাজী বাড়ির সামনে তাকে কয়েকজন যুবক আটক করে। তারা লাঠি ও লোহার পাইপ দিয়ে মুখ ও মাথায় এলোপাতাড়ি পিটিয়ে ঘটনাস্থলেই তাকে হত্যা করে। লাশ সড়কে ফেলে রাখে।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার দাবি, মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির অভিযোগ ছিল। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রস্তুত করে। ঘটনাস্থল থেকে রক্তমাখা লাঠি ও লোহার পাইপ উদ্ধার করা হয়। নিহতের পকেট থেকে একটি খেলনা পিস্তল ও টিপ ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে।
নরোত্তমপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি হারুনুর রশীদ হারুন বলেন, আমরা আমাদের অফিসে বসে নির্বাচনি কথাবার্তা বলছিলাম। সেখানে মিজানুর রহমান এলে কথাকাটাকাটি হয়। পরে সেখান থেকে সে চলে যায়। পরে শুনি কে বা কারা তাকে হত্যা করে লাশ রাস্তায় ফেলে যায়। মিষ্টি বিতরণের বিষয়টি আমার জানা নেই।
কবিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিজাম উদ্দিন ভূঁঞা বলেন, গণপিটুনিতে ডাকাত নিহত হওয়ার খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে যাই। ঘটনাস্থলে লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। নিহতের পরিবার এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রোববার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।