রাজধানীর উত্তরের প্রবেশদ্বার ঢাকা-১৮ আসন। উত্তরা, খিলক্ষেত, নিকুঞ্জ ও দক্ষিণখান এলাকা নিয়ে এই আসনটি গঠিত। এতে উচ্চবিত্তের পাশাপাশি মধ্যবিত্ত এবং নিম্নবিত্তরাও বসবাস করেন। আসনটিতে ইতিমধ্যে নির্বাচনী আমেজ শুরু হয়ে গেছে। প্রার্থীরা গণসংযোগ করছেন। যাচ্ছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে। বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন ঢাকা মহানগর উত্তরের সহ-সভাপতি এসএম জাহাঙ্গীর হোসেন। জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট থেকে প্রার্থী হয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ঢাকা মহানগর উত্তরে আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব। মূল লড়াইটা হবে এই দুই তরুণ প্রার্থীর মধ্যে।
এই আসনে কোন প্রার্থী কতোটা পরিচিত এবং জনপ্রিয়- তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা কৌতূহল দেখা গেছে। এলাকায় উন্নয়নে কোন প্রার্থী কাজ করবে এনিয়ে চায়ের দোকান থেকে শুরু করে বিভিন্ন জায়গায় আলোচনা শোনা যায়। প্রার্থীরা জয় পেলে নাগরিক সুবিধা নিশ্চিতের আশ্বাস দিচ্ছেন। এলাকায় এবং ব্যক্তি সমস্যা নিয়ে সাধারণ মানুষ প্রার্থীদের কাছে যাচ্ছে। যতটুকু সম্ভব ওই সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছেন প্রার্থীরা।
সরজমিন উত্তরায় বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, এই এলাকায় সাধারণ মানুষের নির্বাচন নিয়ে তেমন আগ্রহ নেই। তারা নিজেদের নিরাপত্তাকে বড় করে দেখছেন। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় হত্যার বিষয়টি সবচেয়ে বেশি তাদের ভাবিয়ে তুলেছে। নির্বাচন হলে এই পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হবে বলেও মনে করছে কেউ কেউ। ভোটাররা এবার যোগ্য প্রার্থীকে নির্বাচিত করে তাদের প্রতিনিধি হিসেবে সংসদ পাঠাতে চায়। এক্ষেত্রে তারা বিএনপি’র প্রার্থী জাহাঙ্গীর হোসেনকে এগিয়ে রাখছেন। তাদের ভাষ্য, এলাকায় যেকোনো সামাজিক এবং সাধারণ মানুষের বিপদে জাহাঙ্গীর হোসেনকে ডাকা মাত্র পাওয়া যায়। তিনি সাধারণ মানুষের ভাষাও খুব সহজে বুঝতে পারেন। তিনি নির্বাচিত হলে এই আসনে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে আর কোনো চিন্তা থাকবে না। ওদিকে জামায়াত জোটের প্রার্থী নির্বাচিত হবে বলেও কেউ কেউ মনে করছেন।
উত্তরা ৯ নম্বর সেক্টরের রিকশাচালক নজরুল ইসলাম মানবজমিনকে বলেন, জাহাঙ্গীর হোসেন ছাড়া এই আসনে অন্য দলের প্রার্থীকে এখনো দেখেনি।
এই আসনের ভোটার ও বাসিন্দা শরীফ। তিনি মানবজমিনকে বলেন, জাহাঙ্গীর হোসেন নির্বাচিত হলে তিনি এলাকায় উন্নয়নে কাজ করবেন। অন্য কেউ নির্বাচিত হলে কাজ তো দূরের কথা আমরা তাকে চোখেও দেখতে পারবো না।
জানা গেছে, প্রথমে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ছিলেন আশরাফুল হক। তবে ১১ দলের জোট গঠনের পর নিজেদের প্রার্থী প্রত্যাহার করে এনসিপির আরিফুল ইসলাম আদীবকে সমর্থন দেয় জামায়াত।
আরিফুল ইসলাম আদীব বলেন, জোটের কারণে এই আসন থেকে প্রার্থী হয়েছেন। এই আসনের ভোটাররা তাকে নির্বাচিত করলে তিনি এলাকায় বিভিন্ন নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করবেন।
জাহাঙ্গীর হোসেন মানবজমিনকে বলেন, নির্বাচন কমিশনের নির্বাচনী আচারণবিধি মেনে যতটুকু কাজ করা যায়, সেটুকু আমরা করছি। আর ঢাকা-১৮ আসনের ভোটাররা আমাকে নির্বাচিত করলে এলাকায় উন্নয়নে সবসময় পাশে পাবেন। আমি নির্বাচিত হলে এই আসনে সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, জলাবদ্ধতা নিরসন, চাঁদাবাজি বন্ধ এবং যানজট নিরসনসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড করবো।
ঢাকা-১৮ আসনটি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ১, ১৭, ৪৩, ৪৪, ৪৫, ৪৬, ৪৭, ৪৮, ৪৯, ৫০, ৫১, ৫২, ৫৩ ও ৫৪ নম্বর ওয়ার্ড এবং খিলক্ষেত, উত্তরা, দক্ষিণখান ও উত্তরখান এলাকা নিয়ে গঠিত। এই আসনে মোট ভোটার ৬ লাখ ৯ হাজার। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৩ লাখ ১১ হাজার এবং নারী ভোটার ২ লাখ ৯৭ হাজার।