এক সময় দুর্নীতিবিরোধী রাজনীতির প্রতীক হিসেবে পরিচিত ছিলেন তিনি। ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে জাতীয় রাজনীতির আলোচনায় উঠে আসা ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর এখন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পটুয়াখালী-৩ আসনের বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী।
সময়ের ব্যবধানে বদলেছে তার রাজনৈতিক পরিচয়ও। ছাত্রনেতা থেকে তিনি এখন একজন ব্যবসায়ী রাজনীতিক।
নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামা বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের ঘোষিত মোট সম্পদের পরিমাণ ৮৯ লাখ ৮২ হাজার ৮৪১ টাকা। বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছে ২০ লাখ ৪০ হাজার ৪৮ টাকা। পেশা হিসেবে তিনি নিজেকে ব্যবসায়ী হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
হলফনামা অনুযায়ী, নুরুল হক নুরের স্ত্রী মারিয়া আক্তারের মোট সম্পদের পরিমাণ দুই লাখ ৬৬ হাজার ৮১৮ টাকা। তার পেশা শিক্ষকতা। দম্পতি উভয়েই নিয়মিত আয়কর রিটার্ন দাখিল করেছেন বলে হলফনামায় উল্লেখ রয়েছে।
আয়কর রিটার্ন অনুযায়ী নুরের মোট সম্পদের পরিমাণ দেখানো হয়েছে ৯০ লাখ ৪৩ হাজার ৮৪১ টাকা এবং তার স্ত্রীর মোট সম্পদ ১২ লাখ ৬৬ হাজার ৮১৮ টাকা।
সম্পদ বিবরণে দেখা যায়, নুরুল হক নুরের হাতে নগদ অর্থ রয়েছে ২৮ লাখ ৩৮ হাজার ২১৭ টাকা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা রয়েছে দুই লাখ ৮৯ হাজার ৩১৩ টাকা। কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ দেখানো হয়েছে দুই লাখ ৭৫ হাজার টাকা।
সবচেয়ে বড় অংশ হিসেবে উল্লেখ রয়েছে উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত অন্যান্য আমানত—৫৫ লাখ ৮০ হাজার ৩১১ টাকা। তবে হলফনামায় স্বর্ণালংকার বা গহনার কোনো বিবরণ উল্লেখ করা হয়নি।
স্থাবর সম্পদের হিসাবে নুরুল হক নুরের নামে রয়েছে ৮২ ডেসিমেল কৃষিজমি, যার অর্জনকালীন মূল্য দেখানো হয়েছে ৬২ হাজার টাকা। তার স্ত্রী মারিয়া আক্তারের নামে রয়েছে তিন একর কৃষিজমি, যার মূল্য উল্লেখ করা হয়েছে ১০ লাখ টাকা।
দায় সংক্রান্ত তথ্যে বলা হয়েছে, নুরুল হক নুরের নামে পাওনাদারের কাছে দেনা রয়েছে তিন লাখ ৮৮ হাজার ১৬০ টাকা।
হলফনামায় আরও উল্লেখ করা হয়, নুরুল হক নুরের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন আদালতে বর্তমানে ছয়টি মামলা চলমান। এসব মামলার মধ্যে কয়েকটি তদন্তাধীন এবং কয়েকটিতে তিনি এজাহারভুক্ত ও অভিযুক্ত। তবে তিনি আটটি মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন বলেও হলফনামায় উল্লেখ রয়েছে।
৩১ ডিসেম্বরের দাখিলকৃত তার নির্বাচনি হলফনামা বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য পাওয়া যায়।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় প্রার্থিতা যাচাই-বাছাইয়ের দিনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে নিজের সম্পদ নিয়ে ভিপি নুরুল হক নুর বলেন, একজন শ্রমজীবী মানুষও এখন বছরে পাঁচ থেকে ছয় লাখ টাকা আয় করে। আমি হলফনামায় যে আয় ও সম্পদের তথ্য দিয়েছি, তা সঠিকভাবেই দেখানো হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এই ধারা অব্যাহত থাকবে।
তিনি বলেন, কেউ কেউ হলফনামায় ২০ ভরি স্বর্ণের মূল্য দুই লাখ টাকা দেখিয়েছেন, আবার পাঁচতলা ভবনের মূল্য দেখানো হয়েছে ৩০ লাখ টাকা—যা বর্তমান বাজারদরের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এসব তথ্য যদি প্রকৃতভাবে যাচাই করা হয়, তাহলে ৫০ শতাংশের বেশি প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়ে যাবে। অন্যদের সঙ্গে তুলনা করলে কারও সম্পদ আমার চেয়ে বেশি, কারও আরও বেশি; তবে আমার যতটুকু সম্পদ আছে, তা সৎভাবেই হলফনামায় উল্লেখ করেছি।