ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে দুর্দিনের সঙ্গীদের হতাশ করেনি বিএনপি। দলীয় অবস্থান অনুযায়ী সব দলকেই কমবেশি মূল্যায়নের চেষ্টা করেছে। দুই-একটি বাদে প্রায় সব শরিককেই আসন ছাড় দিয়েছে। এ নিয়ে কিছুটা দরকষাকষি হলেও সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছেন তারা।
সূত্র জানায়, বিভিন্ন শরিক দলকে ১-২টি করে ১৩টি আসনে ছাড় দিয়েছে বিএনপি। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আসন ছাড় পেয়েছে ধর্মভিত্তিক দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ। তাদের একাংশকে ৪টি ও অপর অংশকে ১টি আসন দেওয়া হয়েছে।
১৩টি আসনের মধ্যে ৯ জন বিএনপির সমর্থন নিয়ে নিজ দলীয় প্রতীকে ও ৪ জন ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচন করবেন।
আর বিগত দিনে বিএনপির জোটে ছিলেন বিভিন্ন দলের এমন ৩ শীর্ষ নেতা নিজ দল বিলুপ্ত বা সে দল থেকে পদত্যাগ করে সরাসরি বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করছেন।
তাদের মধ্যে বাংলাদেশ লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) বিলুপ্ত করে বিএনপিতে যোগ দেওয়া শাহাদাত হোসেন সেলিম লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ), বাংলাদেশ জাতীয় দল বিলুপ্ত করে সৈয়দ এহসানুল হুদা কিশোরগঞ্জ-৫, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) মহাসচিবের পদ থেকে পদত্যাগ করে কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) আসন থেকে বিএনপিতে যোগ দিয়ে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করছেন ড. রেদোয়ান আহমেদ। তারা সরাসরি বিএনপির প্রার্থী।
তবে বিএনপি হাইকমান্ডের পক্ষ থেকে আসন ছাড় পেলেও স্থানীয় পর্যায়ে প্রচারণায় গিয়ে এক ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন শরিক দলগুলোর বেশ কিছু প্রার্থী। কারণ, সেখানের বিএনপির নেতাকর্মীরা কিছুতেই তাদের মেনে নিতে পারছেন না। অনেক জায়গায় সড়ক ও রেলপথ অবরোধ করে বিক্ষোভ হয়েছে।
আবার আপাতত মেনে নিলেও জোটপ্রার্থীর প্রচারণায় গাছাড়া ভাব রয়েছে সংশ্লিষ্ট আসনের বিএনপি নেতাকর্মীদের।
এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি উত্তাপ ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করা হচ্ছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ ও পটুয়াখালী-৩ আসনে। সেখানে বিএনপির শক্তিশালী স্বতন্ত্র প্রার্থী থাকায় বেকায়দায় রয়েছেন শরিক দলের হেভিওয়েট প্রার্থীরা।
নির্বাচন কমিশনের আরপিও’র বিধান অনুযায়ী, এবার জোট করলেও অন্য দলের প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ নেই। আর শরিক দলগুলোর প্রতীকগুলোও ততটা পরিচিত নয়। তাই কৌশল হিসেবে কেউ কেউ নিজ দল বিলুপ্ত বা সেখান থেকে পদত্যাগ করে সরাসরি বিএনপিতে যোগ দিয়ে ধানের শীষ প্রতীকে মনোনয়ন নিয়েছেন।
আবার কেউ কেউ বিএনপির একক সমর্থন পেলেও নির্বাচন করছেন নিজ দলের প্রতীকে। কিন্তু স্থানীয় বিএনপির তেমন সহযোগিতা পাচ্ছেন না তারা। বরং বিভিন্ন স্থানে বাধার মুখে পড়ছেন কেউ কেউ। এ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিনিয়ত সংবাদ প্রকাশ হচ্ছে।
ইতোমধ্যে বিএনপি হাইকমান্ডের পক্ষ থেকে একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা কাজে আসছে না। এসব আসনে বিএনপির অনেকেই স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে বহিষ্কারের খড়গ পেয়েছেন। তারপরও নির্বাচন করার পক্ষে অনড় রয়েছেন তারা।
বিএনপির সমর্থন পেলেও এসব আসনে মনোনয়ন পাওয়া শরিক নেতাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। তাই উদ্বিগ্ন হয়ে গুলশান কার্যালয়ে গিয়ে তারেক রহমানের সঙ্গেও দেখা করেছেন তারা।
তবে আগামী ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিনও কেউ কেউ নির্বাচন থেকে সরে যেতে পারেন বলে তারা আশাবাদী।
এ ব্যাপারে ঢাকা-১২ (তেজগাঁও, শেরেবাংলা নগর) আসনের বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী ও বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘‘বিএনপির অঙ্গসংগঠনের বেশিরভাগ নেতাকর্মীই আমাদের সঙ্গে কাজ করছেন। তবে বিএনপি নেতা সাইফুল আলম নিরব যেহেতু স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আছেন, তার সঙ্গে দলছুট কিছু নেতাকর্মী রয়েছেন। আশা করি একপর্যায়ে তারাও এদিকে চলে আসবেন।’’
নিজ দলীয় প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন যারা
বিএনপির দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এখন পর্যন্ত জোট সঙ্গীদের ১৩টি আসনে ছাড় দিয়েছে বিএনপি।
জোট শরিকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আসন ছাড় পেয়েছে ধর্মভিত্তিক পুরোনো দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের একাংশ। তাদের একটি অংশ পেয়েছে ৪টি আসন। তারা ধানের শীষ নয়, নিজ দলের ‘খেজুর গাছ’ প্রতীকেই নির্বাচন করছেন। অপর অংশ পেয়েছে ১টি।
এর মধ্যে সিলেট-৫ (কানাইঘাট-জকিগঞ্জ) আসনে দলটির সভাপতি মাওলানা মোহাম্মদ উবায়দুল্লাহ ফারুক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ), সহ-সভাপতি মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব, নীলফামারী-১ (ডিমলা-ডোমার) আসনে মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী ও নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা) আসনে প্রার্থী হয়েছেন দলটির কেন্দ্রীয় নেতা মুফতি মনির হোসেন কাসেমী।
এছাড়া নিজ দলীয় প্রতীকে ভোট করবেন ভোলা-১ আসনে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ (গরুর গাড়ি), ঢাকা-১২ আসনে বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক (হাতুড়ি), ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ (বাঞ্ছারামপুর) আসনে গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি (মাথাল), বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না (কেটলি), পটুয়াখালী-৩ (দশমিনা, গলাচিপা) আসনে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নূর (ট্রাক)।
ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করা শরিকরা
বিএনপির সমর্থনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নড়াইল-২ (লোহাগড়া) আসন থেকে ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, ঢাকা-১৩ (মোহাম্মদপুর, আদাবর) আসনে এনডিএমের ববি হাজ্জাজ, ঝিনাইদহ-৪ (সদর) আসনে গণঅধিকার পরিষদের রাশেদ খান ও যশোর-২ (মনিরামপুর) আসন থেকে নির্বাচন করছেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের একাংশের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মুফতি রশীদ বিন ওয়াক্কাস। তিনি প্রয়াত সাবেক এমপি মুফতি মুহাম্মদ ওয়াক্কাসের ছেলে।
জোটে থাকলেও আসন ছাড় পায়নি যেসব দল
বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে বিএনপির সঙ্গী বেশিরভাগ দলকে আসন ছাড় দিলেও দুই-একটি দলকে কোনও আসনে সমর্থন দেয়নি বিএনপি। জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রব ২০১৮ সালে লক্ষ্মীপুর-৪ ও সাধারণ সম্পাদক শহিদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন ঢাকা-১৮ আসনে বিএনপির সমর্থন পেলেও এবার এখন পর্যন্ত তাদের কোনও আসন ছাড় দেওয়া হয়নি।
এছাড়া বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান পিরোজপুর-২ আসনে নির্বাচনি প্রচারণা চালালেও তাকেও মনোনয়ন দেওয়া হয়নি।
আর এলডিপি মহাসচিব রেদোয়ান আহমেদের পদত্যাগ ও আসন সমঝোতা প্রত্যাশিত না হওয়ায় জামায়াত জোটে যুক্ত হয়েছেন দলটির প্রেসিডেন্ট ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ।
বিবাদ মিটেনি ৭ আসনে
যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের বিএনপির ছেড়ে দেওয়া ৭টি আসনে স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে এখনও সমঝোতায় পৌঁছতে পারছেন না ঘোষিত প্রার্থীরা। সেখানে বিএনপির স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও প্রচারণা চালাচ্ছেন। কোনও কোনও জায়গায় দিন দিন বিবাদ ও অসন্তোষ আরও বাড়ছে। ঘটছে বিক্ষোভের ঘটনাও।
এ নিয়ে বেকায়দায় আছেন শরিক নেতারা। বিশেষ করে যারা ধানের শীষ ছাড়া নিজ প্রতীকে নির্বাচন করছেন, তারা সবচেয়ে বেশি অস্বস্তিতে ভুগছেন। কারণ একই আসনে বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী থাকলে নেতাকর্মীরা ছুটছেন তাদের দিকে। আর দল মনোনীত জোট প্রার্থীর পক্ষে থাকছেন হাতেগোনা কিছু নেতাকর্মী। তাই এ নিয়ে দুশ্চিন্তা বাড়ছে নেতাদের।
এই তালিকায় আছেন বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে বিএনপির সমর্থিত প্রার্থী নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না। তিনি দলীয় প্রতীক কেটলি নিয়ে লড়ছেন। তার প্রতিপক্ষ হিসেবে স্বতন্ত্র রয়েছেন বিএনপির শাহে আলম।
পটুয়াখালী-২ (দশমিনা, গলাচিপা) আসনে বিএনপির সমর্থন পেয়েছেন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নূর। তার শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে এখনও ভোটে আছেন বিএনপির স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুন। তিনি একসময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি ছিলেন।
সিলেট-৫ (কানাইঘাট ও জকিগঞ্জ) আসনে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সভাপতি মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুককে জোটের একক প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি। তবে তিনি নির্বাচন করছেন দলীয় প্রতীক খেজুর গাছ নিয়ে।
কওমি মাদ্রাসা অধ্যুষিত এ আসনটিতে দলটির উল্লেখযোগ্য ভোট ব্যাংকও আছে। অতীতে সেখান থেকে দলটির প্রার্থী বিজয়ী হওয়ারও রেকর্ড আছে। তবে এবার জোটের প্রার্থী হয়েও স্বস্তিতে নেই। একাংশের সমর্থন পেলেও এখনও মাঠে রয়েছেন বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী (বহিষ্কৃত) মামুনুর রশিদ (চাকসু) মামুন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশগঞ্জ) আসনে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সিনিয়র সহ-সভাপতি মুফতি জুনায়েদ আল হাবিব। তিনি লড়ছেন খেজুর গাছ প্রতীক নিয়ে। তার আসনে স্বতন্ত্র হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপির বহিষ্কৃত নেত্রী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা।
দুই প্রার্থীই একে অপরকে ছাড় দিতে নারাজ। প্রতিদিনই দেশব্যাপী ছড়াচ্ছে তাদের কথার উত্তাপ।
নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা) আসনে বিএনপির সমর্থনে লড়ছেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের নেতা মুফতি মনির হোসেন কাসেমী। অবশ্য তিনি দলটির একটি অংশের সমর্থন পেয়ে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। তবে তার গলার কাঁটা হিসেবে মাঠে রয়ে গেছেন বিএনপির দুই নেতা শাহ আলম ও গিয়াস উদ্দিন।
যশোর-৫ (মনিরামপুর) আসনে প্রথমে বিএনপির পক্ষ থেকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে দলের উপজেলা সভাপতি শহীদ মোহাম্মদ ইকবাল হোসেনকে। পরবর্তীকালে জোটের শরিক দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের একাংশের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মুফতি রশীদ বিন ওয়াক্কাসকে মনোনয়ন দেয় বিএনপি। দলীয় নিবন্ধন না থাকায় তিনি ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করতে পারছেন। এতে বিএনপির নেতাকর্মীরা উপজেলা সদরে ব্যাপক বিক্ষোভ করেন। সেখানে স্বতন্ত্র হয়ে নির্বাচনে রয়েছেন ইকবাল।
ঢাকা-১২ (তেজগাঁও, শেরেবাংলা নগর) আসনে যুগপতের সঙ্গী হিসেবে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক। ইতোমধ্যে বিএনপির একাংশকে নিয়ে তিনি প্রচারণা চালাচ্ছেন। তবে সেখানে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত শক্তিশালী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন সাইফুল আলম নিরব। তিনি প্রার্থিতায় এখনও অনড়। বহিষ্কারকে মেনে নিয়েই সক্রিয় থাকবেন বলে গণমাধ্যমকে জানান।
নির্ভার ৬ আসন
বিএনপির ছেড়ে দেওয়া ১৩টি আসনের মধ্যে ৭টিতে শরিকরা অস্বস্তিতে থাকলেও বাকি ৬টিতে ফুরফুরে মেজাজ মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন প্রার্থীরা। মান-অভিমান ভুলে তাদের পক্ষে মাঠে নেমেছেন স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা। অবশ্য প্রথমে তারাও হাইকমান্ডের সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারেননি। পরবর্তী সময়ে বৃহত্তর স্বার্থে মেনে নেওয়ার ঘোষণা দেন তারা।
এর মধ্যে ভোলা-১ (সদর) আসনে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থকে সমর্থন দিয়ে তার পক্ষে কাজ করার ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও দলটির জেলা আহ্বায়ক গোলাম নবী আলমগীর। ইতোমধ্যে নিজের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছেন তিনি।
তিনি মূলত বিএনপির প্রার্থীই ছিলেন। আর আন্দালিব রহমান পার্থের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কথা ছিল ঢাকা-১৭ আসন থেকে। গত ২৭ ডিসেম্বর বিএনপি থেকে জানানো হয়—সেখান থেকে নির্বাচন করবেন তারেক রহমান। তাই ভোলার স্থানীয় বিএনপি তাকে সহজে মেনে নিয়েছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ (বাঞ্ছারামপুর) আসন থেকে বিএনপির সমর্থন পেয়েছেন গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি। প্রথমে সেখানে তাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে ঝাড়ু মিছিল পর্যন্ত হয়েছে। তবে পরবর্তীকালে বিএনপির হাইকমান্ডের নির্দেশে প্রার্থিতা থেকে সরে গেছেন সাবেক এমপি আবদুল খালেক।
নীলফামারী-১ (ডোমার ও ডিমলা) আসনে বিএনপির সমর্থন পেলেও নিজ দলীয় প্রতীক খেজুর গাছ নিয়ে নির্বাচন করছেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দি।
তিনি শুরু থেকেই প্রচার-প্রচারণায় বিএনপির নেতাকর্মীদের সহযোগিতা পাচ্ছেন বলে জানা গেছে।
ঝিনাইদহ-৪ (কালীগঞ্জ ও সদর আংশিক) আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন পেতে গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদকের পদ ছাড়েন রাশেদ খান। দলে যোগদান করেই ধানের শীষের সমর্থন পেয়ে যান তিনি। তবে প্রথমে তাকে মেনে নিতে পারেননি স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা। একপর্যায়ে তাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়। তবে শেষ পর্যন্ত দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে নেন তারা।
সেখান থেকে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে রাশেদ খানের পক্ষে কাজ করার ঘোষণা দেন বিএনপির মুর্শিদা খাতুন।
নড়াইল-২ (লোহাগড়া) আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ। তার দলের নিবন্ধন না থাকায় তিনি ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন। সেখানেও বিএনপির নেতাকর্মীরা তার পাশে রয়েছেন। এর আগে ২০১৮ সালের নির্বাচনেও আসনটি থেকে বিএনপির হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন ড. ফরহাদ।
ঢাকা-১৩ (মোহাম্মদপুর-আদাবর) আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেতে নিজ দল ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক মুভমেন্টের (এনডিএম) চেয়ারম্যান পদ ছাড়েন ববি হাজ্জাজ। তিনি ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন এবং শুরু থেকেই স্থানীয় নেতাকর্মীদের সহযোগিতা পাচ্ছেন বলে জানা গেছে।
প্রার্থীদের প্রতিক্রিয়া
এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে বিএনপির সমর্থন পাওয়া কমপক্ষে ১০ জন প্রার্থীর সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে বাংলা ট্রিবিউন। তবে বেশিরভাগ প্রার্থীর সঙ্গেই কথা বলা যায়নি।
বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে বিএনপির সমর্থিত প্রার্থী নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘‘এ আসনে দীর্ঘদিন থেকে কাজ করছি। তাই জোট থেকে বিএনপি আমাকে মনোনয়ন দিয়েছে। আমি দলীয় প্রতীক ‘কেটলি’ থেকে নির্বাচন করছি।’’ তিনি জানান, বিএনপির উল্লেখযোগ্য নেতাকর্মী তার সঙ্গে আছেন।
সিলেট-৫ (কানাইঘাট ও জকিগঞ্জ) আসনের বিএনপি সমর্থিত ‘খেজুর গাছ’ প্রতীকের প্রার্থী মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক বলেন, ‘‘বিএনপির বেশিরভাগ নেতাকর্মীই আমাদের পক্ষে। বিচ্ছিন্ন যারা আছেন, তারাও আমাদের সাথে সম্পৃক্ত হবেন।’’
বিএনপির উদ্যোগ
শরিকদের আসনে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়াদের নিয়ে শুরুতেই কঠোর অবস্থানে রয়েছে বিএনপি। গত ২৩ ডিসেম্বর গুলশানে সংবাদ সম্মেলনে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ‘‘সিদ্ধান্ত অমান্য করে শরিকদের আসনে কেউ প্রার্থী হলে তাকে বহিষ্কারসহ কঠোর সাংগঠনিক শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।’’
এরই মধ্যে নির্দেশনা অমান্য করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা ও ঢাকা-১২ আসনের বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় সাইফুল আলম নিরবসহ বেশ কয়েক জন নেতাকে বহিষ্কার করেছে দলটি।
ইতোমধ্যে দলের হাইকমান্ডের পক্ষ থেকে ২০ জানুয়ারির মধ্যে প্রার্থিতা প্রত্যাহার না করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।