বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মোশাররফ আহমেদ ঠাকুরের নিকাব নিয়ে মন্তব্যের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শাখা ছাত্রীসংস্থা।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্ত চত্বরে জবি শাখা ইসলামী ছাত্রী সংস্থার ব্যানারে এই কর্মসূচি পালিত হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা ধর্মীয় পোশাকের বিষয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যকে দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার ওপর প্রত্যক্ষ আঘাত বলে অভিহিত করে বক্তারা বলেন, সংবিধান অনুযায়ী প্রত্যেক নাগরিকের নিজ ধর্ম পালনের অধিকার রয়েছে। সেখানে একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দলের নেতার পক্ষ থেকে মুসলিম নারীদের পর্দার বিধান নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো অনভিপ্রেত।
সংবিধানের ৪১ অনুচ্ছেদের উদ্ধৃতি দিয়ে জাননো হয়, রাষ্ট্র প্রত্যেক নাগরিককে তার ধর্ম পালন, প্রচার ও নিজস্ব সংস্কৃতি চর্চার নিশ্চয়তা দিয়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাংলাদেশের জনসংখ্যার ৯০ শতাংশের বেশি মুসলিম। এমতাবস্থায় নিকাব বা হিজাব নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য কেবল ধর্মীয় অনুভূতিতেই আঘাত হানে না বরং এটি নারীর পোশাক নির্বাচনের ব্যক্তিগত স্বাধীনতাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে। বক্তারা অবিলম্বে এ ধরনের বিদ্বেষমূলক বক্তব্য পরিহার করে সমাজে সহনশীলতা বজায় রাখার আহ্বান জানান। অন্যথায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়।
এ সময় জকসুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক এবং জবি শাখা ইসলামী ছাত্রী সংস্থার সভানেত্রী মোছা. সুখীমন খাতুন বলেন, হিজাব মুসলিমদের পোশাক, এ নিয়ে কোনো বিতর্ক নেই। কিন্তু নিকাব মুসলিমদের কোনো ড্রেস নয়, এমন মন্তব্য আসলে বিভ্রান্তিকর। এখানে মূল বিষয়টি হলো মুখমণ্ডল ঢেকে রাখা। কুরআন ও হাদিসের আলোকে একজন মুসলিম যদি পরিপূর্ণ পর্দা মেনে চলতে চান, তাহলে তিনি মুখমণ্ডলও ঢেকে রাখতে পারেন। কারণ, মানুষের সৌন্দর্য মূলত তার চেহারা বা মুখমণ্ডলের মাধ্যমেই প্রকাশ পায়।
তিনি আরও বলেন, কেউ যদি মুসলিম হিসেবে তার ধর্মীয় বিশ্বাস ও ইসলামি সংস্কৃতির অংশ হিসেবে পরিপূর্ণ পর্দা পালন করতে চান, তাহলে সেখানে বাধা দেয়ার অধিকার কারও নেই। এটি ব্যক্তিগত ধর্মীয় স্বাধীনতার বিষয়।
বাংলাদেশের সামাজিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে সুখীমন খাতুন বলেন, বাংলাদেশ একটি মুসলিম অধ্যুষিত দেশ। এ দেশে বহু মানুষ ধর্মীয় অনুশাসন অনুযায়ী মুখমণ্ডল ঢেকে রাখেন বা নিকাব ব্যবহার করেন। কিন্তু দুঃখজনকভাবে এই বিষয়টি নিয়ে বারবার কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করা হচ্ছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
কর্মসূচির উদ্দেশ্য ও দাবি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই মানববন্ধনের মাধ্যমে আমরা সবার প্রতি আহ্বান জানাতে চাই সম্প্রীতির বাংলাদেশে যেন সবাই নিজ নিজ ধর্ম ও ধর্মীয় সংস্কৃতি স্বাধীনভাবে পালন করতে পারে। ইসলামি সংস্কৃতি অনুযায়ী পরিপূর্ণ হিজাব ও নিকাব পালন নিয়ে যেন কোনো কটূক্তি বা কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য না করা হয় এবং সবাই আমাদের প্রতি সহমর্মী হয়।