Image description

ঢাকা পৌঁছাতেই সন্ধ্যা হয়ে যায়। চেনা এই শহর তখন ঢেকে গেছে রাতের আঁধারে। দীর্ঘ জার্নি। ক্লান্ত শরীর, তবুও উচ্ছ্বসিত মন। তিনি ফিরছেন তার পুরনো কর্মস্থলে। যার সঙ্গে জড়িয়ে আছে হাজারো স্মৃতি। গালফের অত্যাধুনিক বিমানবন্দর দোহায় ন্যাপ নিয়েছেন। কাতার এয়ারওয়েজের আরোহীদের জন্য ওই ট্রানজিটটি বেশ উপভোগ্য। নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন্টের কথা বলছি।

ঢাকা মিশন শুরু করতে সোমবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশে পৌঁছান তিনি। মঙ্গলবার ঢাকায় নতুন এক ভোর দেখেছেন। প্রাতরাশ সেরেই ঢুকেন বারিধারার স্মৃতিবিজড়িত সেই কম্পাউন্ডে। যেখানে বহুদিন কেটেছে তার। অবশ্য যে চেয়ারে তিনি কাল বসেছেন, সেটা তার জন্য সম্পূর্ণ নতুন, রোমাঞ্চকর বটে। দুপুরের পর যান সেগুনবাগিচায়। সেখানে তার প্রথম বৈঠক হয় রাষ্ট্রাচার অনুবিভাগের প্রধান নুরাল ইসলামের সঙ্গে। দুনিয়া জুড়ে অভিন্ন রেওয়াজ, প্রটোকল হচ্ছে আবাসিক বা অনাবাসিক যেকোনো নতুন দূতের প্রথম সাক্ষাৎ হবে রাষ্ট্রাচার প্রধানের সঙ্গে। সেখানে তিনি তার পরিচয়পত্র প্রদর্শন করবেন। যা পরবর্তীতে প্রেসিডেন্টের কাছে পেশ করবেন।

ক্রিডেনশিয়াল সাব-মিশনের আনুষ্ঠানিকতা এখন থেকে শুরু। মান্যবরকে রাষ্ট্রাচার প্রধান পরিচয় করিয়ে দেন পররাষ্ট্র সচিবের সঙ্গে। পরক্ষণেই তিনি সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন স?চিব আসাদ আলম সিয়ামের সঙ্গে। আলম ওই চেয়ারে বসার আগে ওয়াশিংটনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করেছেন। পেশাদার কূটনীতিক ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন্ট সেগুনবাগিচায় ছিলেন প্রায় ৫০ মিনিট। দু’টি রুমে বসেছেন। কথা বলেছেন যৎসামান্য। হাই হ্যালো টাইপ। কিন্তু এর মাঝেও তিনি তার পুরনো স্মৃতিতে সাঁতরে বেরিয়েছেন। ব্রেন্ট জানিয়েছেন তিনি প্রথম ঢাকায় আসেন ২০১৪ সালে। সেটা ছিল তার ব্যক্তিগত সফর। একান্ত ক’জন বন্ধুর সঙ্গে। ব্রেন্টের ভাষ্য মতে, বন্ধুদের আগ্রহেই তিনি নতুন এক দেশ ভ্রমণে আগ্রহী হয়েছিলেন। ব্রেন্ট ২০১৫ সালে প্রথম অফিসিয়াল সফরে বাংলাদেশে আসেন। তখন তিনি স্টেট ডিপার্টমেন্টে বাংলাদেশ ডেস্ক দেখভালের দায়িত্বরত। প্রথম বাংলাদেশে পোস্টিং পান ২০১৯ সালে। ছিলেন ২০২১ অবধি। করোনার কঠিন দিনগুলোতে মার্কিন নাগরিকদের নিরাপদে সরিয়ে নেয়ার কাজে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত ছিলেন তিনি। ব্রেন্ট ঢাকা শহরে কাজ করেছেন। এর অলিগলিতে না হাঁটলেও গাড়ি-রিকশায় চড়েছেন কূটনৈতিক জোনের সড়কগুলোতে। নিরাপত্তাসহ নানা কারণে নিয়ন্ত্রিত চলাফেরা ছিল তার। কিন্তু তাই বলে একেবারে জনবিচ্ছিন্ন ছিলেন না তিনি। কিছু মানুষের সঙ্গে গড়ে উঠেছিল তার আত্মিক সম্পর্ক। নিশ্চয়ই তিনি সময় সুযোগে সেই পুরনো মুখগুলো খুঁজবেন।

সেইসঙ্গে ৪-৫ বছরের পরিবর্তনগুলোও দেখার চেষ্টা করবেন মনের অগোচরে। তিনি নিশ্চয় খুঁজে পাবেন পরিচিত আবহ- মানুষের হাসি, ব্যস্ততা আর প্রাণচাঞ্চল্য। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি এমনটা আভাস দিয়েছেন। ৯ই জানুয়া?রি মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরে শপথ নেয়ার পর ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন্ট ব?লেন, বাংলা?দে?শের সঙ্গে আমি খুব ভালোভাবে পরিচিত, সেই বাংলাদেশে ফিরতে পেরে আমি ভীষণ আনন্দিত। ঢাকার যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসে আমেরিকান ও স্থানীয় কর্মীদের নিয়ে গঠিত একটি শক্তিশালী দলের নেতৃত্ব দেয়ার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করতে চাই। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের লক্ষ্যকে এগিয়ে নিতে এবং প্রতিদিন নিরলসভাবে কাজ করে আমেরিকাকে আরও নিরাপদ, শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ করে তুলতে আমি উচ্ছ্বসিত।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রা?ম্প ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের ১৯তম রাষ্ট্রদূত হিসেবে পাঠিয়েছেন ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন্টকে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, ব্রেন্ট যুক্তরাষ্ট্রের ফরেন সার্ভিসের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। ঢাকায় সবশেষ মার্কিন রাষ্ট্রদূত ছিলেন পিটার হাস্‌। ঢাকায় তিনি পিটার হাস্‌-এর স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন। ২০২২ সালের মার্চ থেকে ২০২৪ সালের এপ্রিল পর্যন্ত তিনি ঢাকায় দায়িত্ব পালন করেন। উল্লেখ্য, আগামী বৃহস্পতিবার প্রেসিডেন্ট মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে পেশ করে আনুষ্ঠানিকভাবে ঢাকা মিশন শুরু করবেন ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন্ট।