মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার বৈকুণ্ঠপুরে কালীগঙ্গা নদীর ওপর ৩৬৫ মিটার দীর্ঘ সেতু নির্মাণ করা হয় তিন বছর আগে। কিন্তু জমি অধিগ্রহণ জটিলতায় দীর্ঘদিনেও সেতুর দুই পাশে সংযোগ সড়ক না হওয়ায় ৪২ দশমিক ৩৪ কোটি টাকায় নির্মিত সেতুটি আজ অকেজো। এতে ভোগান্তির শিকার হচ্ছে দুই প্রান্তের অন্তত ৩০ গ্রামের মানুষ। জমি অধিগ্রহণ জটিলতায় সেতুর সংযোগ সড়ক নির্মাণে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। এ অবস্থায় ঝুঁকি নিয়েই খেয়া পার হচ্ছে দুই পারের মানুষ। এ সেতু চালু হলে জেলা সদরের সঙ্গে ঘিওর উপজেলা সদরসহ আশপাশ এলাকার যোগাযোগব্যবস্থা সহজ হবে।
সংযোগ সড়ক না হওয়ায় পুবপারের লোকজন ঘিওর উপজেলা সদর ও আশপাশ এলাকা এবং পশ্চিমপারের লোকজন জেলা সদরসহ আশপাশ এলাকায় যাতায়াতে ভোগান্তি পোহাচ্ছে। এ ছাড়া দুই পারের মানুষ হেঁটে খেয়াঘাটে গিয়ে নৌকায় নদী পার হচ্ছে। এলাকাবাসীর মতে যোগাযোগ সহজ করার পরিবর্তে সেতুটি এখন হতাশার প্রতীক। তারা জানায়, ব্যক্তিগত ঝুঁকি নিয়ে ফেরি নৌকায় করে মানুষ কালীগঙ্গা নদী পার হয়, অন্যদিকে মোটরসাইকেল, ভ্যান এবং রিকশা একে একে নদী পার করা হয়।
তারা আরও জানায়, কয়েক মিনিটের রাস্তা পার হতে এখন কয়েক ঘণ্টা লাগে। প্রয়োজনীয় গন্তব্যে পৌঁছাতে প্রায় ১৫ কিলোমিটার অতিরিক্ত ভ্রমণ করতে হয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে সেতুসংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা জানান, জমি অধিগ্রহণে জটিলতার কারণে এ বিলম্ব হয়েছে। সংযোগ সড়কের জন্য প্রায় ৬.২০ একর জমি অধিগ্রহণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিকদের ক্ষতিপূরণ দিতে ১২.১০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল। তবে ক্ষতিপূরণের চেক বিতরণে বিলম্বের কারণে জমির মালিকরা তাঁদের জমির দখল হস্তান্তর করেননি; যার পরিপ্রেক্ষিতে নির্মাণকাজ স্থবির হয়ে পড়ে। ফলস্বরূপ সেতুটি তিন বছর ধরে অকেজো পড়ে আছে।
মানিকগঞ্জ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী এ বি এম খোরশেদ আলম বলেন, জমিসংক্রান্ত জটিলতার কারণে ঠিকাদাররা সংযোগ সড়কের কাজ শুরু করতে পারছেন না। তবে প্রক্রিয়াটি প্রায় শেষের দিকে। ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিকদের কাছে ক্ষতিপূরণের চেক হস্তান্তর করা হলে অবিলম্বে নির্মাণকাজ শুরু করা হবে। মানিকগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘জমি অধিগ্রহণ একটি চলমান প্রক্রিয়া। ইতোমধ্যে নোটিস জারি করা হয়েছে। আমরা ৭১ জন ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিককে চিহ্নিত করেছি। নয়জন ইতোমধ্যে ক্ষতিপূরণের জন্য আবেদন করেছেন এবং আবেদনপত্র পাওয়ার পর বাকিদের চেক দেওয়া হবে।’