Image description
ঢাকা ৮

নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর সময়ই গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হন শরীফ ওসমান হাদি। স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে চেয়েছিলেন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র। তার মৃত্যুতে ঢাকা-৮ আসনে এখন নয়া হিসাবনিকাশ। হাদির শূন্যতা সর্বত্র। ভোটের আলোচনায়ও আছে হাদির নাম। রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ত এলাকা মতিঝিল, শাহবাগ, রমনা, পল্টন ও শাহজাহানপুর ও আশপাশের এলাকা নিয়ে গঠিত এই আসনটি।

এখানে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে লড়ছেন বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস এবং  ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী এনসিপি’র মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। এ আসনে জামায়াতের ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমীর ড. হেলাল উদ্দিন আহমেদ প্রার্থী হওয়ার কথা থাকলেও তিনি নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে সমর্থন দিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান। এ ছাড়া যাদের মনোনয়ন বৈধ হয়েছে তারা হলেন- জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের এফ এম ইসমাইল চৌধুরী, জাতীয় পার্টির জুবের আলম খান, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের এএইচএম রফিকুজ্জামান আকন্দ, গণঅধিকার পরিষদের মেঘনা আলম। তবে ভোটের মূল লড়াই হবে বিএনপি’র প্রার্থী ও ১০ দলীয় জোটের প্রার্থীর মধ্যে। তারা দুজনই এলাকায় গণসংযোগ করছেন। স্থানীয় ভোটার ও নাগরিকরা জানিয়েছেন, দল-প্রতীক নিয়ে নির্বাচন হলেও এই আসনে হাদি হত্যার একটি প্রভাব থাকবে। 

ভোটাররা প্রার্থী ও দলের কর্মকাণ্ড গভীরভাবে বিশ্লেষণ করছেন। প্রার্থীদের অতীত কর্মকাণ্ড, প্রতিশ্রুতি ও বর্তমান ভূমিকা বিচার করেই ভোট দেয়ার সিদ্ধান্ত নিতে চান তারা। পুরানা পল্টনের ৬/১ লেনের অম্বিত টাওয়ারের বাসিন্দা শারমিন আক্তার  বলেন, আমরা চাই ক্লিন ইমেজের প্রার্থীকে ভোট দিতে। আমরা এমন প্রার্থীকে চাই যিনি জনকল্যাণে কাজ করবেন, মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে দাঁড়াবেন। ফার্মেসিতে ঔষধ কিনতে এসেছিলেন মতিঝিল এলাকার বাসিন্দা জাহিদ হোসেন মালিক। বলেন, বিগত ১৬ বছর ভোট দিতে পারিনি। ভোট সুষ্ঠু হলে ভোটারদের আকৃষ্ট করতে প্রার্থীরা খারাপ কাজ করতে পারে না। 

ফকিরাপুল এলাকার ব্যবসায়ী মিলন বলেন, আগে যেমন নির্বাচন ঘিরে জমজমাট পরিবেশ থাকতো এবার এখনো সেই পরিবেশ নেই। বিশেষ করে পোস্টার-ব্যানার না থাকায় নির্বাচনের আমেজ বোঝা যাচ্ছে না। আমরা ব্যবসায় করি আমরা চাই এমন প্রার্থীকে ভোট দিতে যিনি ব্যবসায়ীদের পক্ষে কাজ করবেন। আমরা যেন নির্বিঘ্নে কোনো রকম চাঁদাবাজি ছাড়া ব্যবসা করতে পারি। কার মনে কি আছে সেটা কেউ প্রকাশ করবে না- এটাই স্বভাবিক, সুষ্ঠু ভোট হলে মানুষের সিদ্ধান্ত জানা  যাবে। তারা আসলে কেমন প্রার্থীকে পছন্দ করে।  

হাদি ঢাকা-৮ আসনে নির্বাচন করতে প্রচারণা চালাচ্ছিলেন। এই আসনে জামায়াতের প্রার্থীও সক্রিয় ছিলেন শুরু থেকে। জামায়াতের পক্ষে এলাকায় প্রচার প্রচারণাও চালানো হয়। ১০ দলীয় জোটের সমঝোতা আলোচনার মধ্যে আসনটি এনসিপি প্রার্থীকে ছেড়ে দিয়েছে জামায়াত। একইসঙ্গে এই জোটের অন্য প্রার্থীরাও নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াবেন বলে জানা গেছে। 

ঢাকা-৮ আসন ঢাকা জেলার ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৮, ৯, ১০, ১১, ১২, ১৩, ১৯, ২০ ও ২১ নং ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত। যার অন্তর্ভুক্ত থানাগুলো হচ্ছে মতিঝিল, পল্টন, শাহবাগ, শাহজাহানপুর, রমনা। এই আসনে মোট ভোটার ২ লাখ ৭০ হাজার ৬৫০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৫১ হাজার ৯৩৮ এবং নারী ভোটার ১ লাখ ১৮ হাজার ৭১১ জন।