Image description

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে গণভোটের বিষয়বস্তু জনগণের কাছে স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে নগর ও শহরাঞ্চলের জনবহুল স্থানে ডিজিটাল ও ম্যানুয়্যাল বিলবোর্ড স্থাপনের পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় সারা দেশের সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার মেয়র, প্যানেল মেয়র ও প্রশাসকদের এ নির্দেশনা দেয়া হয়।

বিকেল ৩টায় প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (উপদেষ্টা পদমর্যাদা) ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট বিষয়ে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমের মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক আলী রীয়াজ। সভায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এবং গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসকরা সশরীরে উপস্থিত ছিলেন। অন্যান্য সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার প্রতিনিধিরা অনলাইনে অংশ নেন। মোট ১২টি সিটি করপোরেশন ও ৩৩০টি পৌরসভার প্রশাসকরা সভায় যুক্ত হন।

সভার শুরুতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়।

সভায় তথ্য সচিব ও স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব জানান, সরকারের নির্দেশনা মোতাবেক ইতোমধ্যেই বিভিন্ন সিটি করপোরেশন ও পৌরসভা গণভোটের বিষয়ে জনসচেতনতামূলক প্রচার কার্যক্রম শুরু করেছে। কিছু জায়গায় বিলবোর্ডের মাধ্যমেও প্রচার চলছে। আরও বিলবোর্ড স্থাপনের বিষয়ে কার্যক্রম গ্রহণ করা হচ্ছে। সচিব, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় জানান, বিভিন্ন স্থানে তথ্য চিত্র প্রদর্শন, উঠান বৈঠক, ভোট আলাপ সহ বিভিন্ন সভা সমাবেশের মাধ্যমে সচেতনতামূলক প্রচার প্রচারণা চলছে। অতিরিক্ত সচিব, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় জানান যে ভোটের গাড়ি বিভিন্ন জেলায় ঘুরে ঘুরে প্রচারণা চালাচ্ছে। এখন পর্যন্ত ০৭ (সাত) টি ভিডিও কন্টেন্ট তৈরি করা হয়েছে, আরও ভিডিও কন্টেন্ট তৈরির কার্যক্রম চলমান রয়েছে। প্রশাসক, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন সোশাল মিডিয়ায় প্রচারের উপর গুরুত্ব আরোপ করেন। এছাড়া, অন্যান্য সিটি করপোরেশন এর প্রশাসকগণ তাদের গৃহীত কার্যক্রম সভায় উপস্থাপন করেন। প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার বলেন, ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন মহানগরী ও গুরুত্বপূর্ণ পৌর শহরগুলোর প্রবেশপথসহ জনবহুল স্থানে ডিজিটাল ও স্থির বিলবোর্ডের মাধ্যমে গণভোটের বিষয়বস্তু প্রচার করতে হবে। স্থানীয় সরকার এর বিস্তৃত নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে ভোটারদের দোরগোড়ায় পৌছাতে হবে। এছাড়াও মসজিদের ইমাম ও অন্যান্য ধর্মের নেতৃবৃন্দের মাধ্যমে ভোটারদের নিকট গণভোটের বিষয়বস্তু স্পষ্ট করতে হবে।

সভার সভাপতি সবাইকে গণভোটের লোগো সর্বত্র ব্যবহার করতে অনুরোধ করেন যেন তা জনগণের মধ্যে আলোড়ন সৃষ্টি করতে পারে। আগামী ৭ দিনের মধ্যে বিলবোর্ডের মাধ্যমে গণভোটের লোগো, নির্বাচন কমিশন কর্তৃক প্রকাশিত গণভোটের ব্যালট এবং গণভোট সম্পর্কিত লিফলেট যথাসম্ভব জনবহুল স্থানে প্রচার করতে হবে। সিটি করপোরেশন এবং পৌরসভাগুলোকে তাদের সক্ষমতার মধ্যে সর্বোচ্চ প্রচার করতে অনুরোধ করেন। তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় হতে প্রাপ্ত কন্টেন্ট যত বেশিসংখ্যক স্থানে যতবার সম্ভব প্রচারের অনুরোধ করেন।