Image description

চট্টগ্রাম–১১ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মোহাম্মদ শফিউল আলম তার হলফনামা ঘিরে প্রকাশিত সংবাদকে ‘অসত্য ও বিভ্রান্তিকর’ দাবি করেছেন। বৃহস্পতিবার রাতে পাঠানো এক লিখিত প্রতিবাদে তিনি দৈনিক আমার দেশের অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত সংবাদটি অসত্য বলে দাবি করেন।

বৃহস্পতিবার রাতে 'জামায়াত প্রার্থীর হলফনামায় বিস্ময়কর তথ্য!' শিরোনামে অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত প্রতিবেদনের পর এ প্রতিবাদ জানান শফিউল আলম। তিনি বলেন, প্রতিবেদনে তার দুই ছেলে ও এক মেয়ের বার্ষিক পাঁচ লাখ টাকার আয় উল্লেখ করা হয়, যা ‘সম্পূর্ণ অসত্য’। তার দাবি, বড় ছেলে ইন্তেখাব আলম দিলানের বার্ষিক নেট আয় মাত্র ৫০ হাজার টাকা-এ তথ্য হলফনামায় স্পষ্টভাবে রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও জমা দেওয়া হয়েছে। ছোট ছেলে ইফতেখার উদ্দিন দিহান ও মেয়ে সুবাইতা বুশরার কোনো আয় বা সম্পদের তথ্য হলফনামায় নেই।

শফিউল আলম আরও বলেন, সংবাদে তার সন্তানদের পেশা ‘আইনি পরামর্শক’ উল্লেখ করার তথ্যটিও সঠিক নয়। স্ত্রী ও বড় ছেলের আয় মিলিয়েই পাঁচ লাখ টাকা দেখানো হয়েছে-এ তথ্য হলফনামায় যথাযথভাবে সংযুক্ত আছে।

প্রতিবাদে তিনি দাবি করেন, নির্বাচনের আগে এমন ‘অসত্য ও বিভ্রান্তিকর’ প্রতিবেদন তার ব্যক্তিগত সুনাম ক্ষুণ্ন করেছে এবং প্রার্থী হিসেবে তার ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সংবাদটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি দাবি করেন, হলফনামায় তিনি সব তথ্য ঠিকভাবে উল্লেখ করেছেন এবং কোনো তথ্য গোপন করেননি। 'সত্য যাচাই না করে এমন সংবাদ প্রকাশ আমার প্রতি অবিচার,'বলেন শফিউল আলম।

প্রতিবেদকের বক্তব্য

হলফনামার ভিত্তিতেই প্রতিবেদনটি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদক। তার ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে জমা হওয়া হলফনামার ৫ নম্বর কলামে ‘নির্ভরশীলদের পেশার তালিকা’ অংশে তিন সন্তানের নামই রয়েছে। সেখানে প্রার্থীর স্ত্রীর নাম উল্লেখ নেই।

প্রতিবেদকের দাবি, হলফনামার ৬ নম্বর কলামে নির্ভরশীলদের বার্ষিক আয় হিসেবে কয়েকটি উৎসে মোট আয় দেখানো হয়। সেখানে ৩ নম্বর অংশে ব্যবসায়ে ৫০ হাজার টাকা, শেয়ার–বন্ড ও ব্যাংক আমানতে ৯৯ হাজার ১৯৭ টাকা, পেশা (চিকিৎসা, শিক্ষকতা, আইন পরামর্শক ইত্যাদি) খাতে ২ লাখ টাকা এবং চাকরি খাতে ১ লাখ ২৯ হাজার ৫০০ টাকা উল্লেখ রয়েছে। তিনি বলেন, সংবাদটি পুরোপুরি হলফনামার তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই প্রস্তুত করা হয়েছে।