আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতার আসার পর বন্ধ হয়ে যাওয়া ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার বাহ্রা ইউনিয়নের মাইলাইল গ্রামের শহীদ জিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কার্যক্রম নতুন করে শুরু হয়েছে। ১৭ বছর পর কিছু প্রবাসীদের উদ্যোগে বিদ্যালয়টি ফের চালু হয়।
বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) ছাত্র-ছাত্রীদের বই বিতরণ ও রজনীগন্ধা ফুল দিয়ে নতুন বছরে শুভেচ্ছা জানানোর মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু করা হয়।
জানা যায়, স্থানীয় সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মধ্যে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে মো. মিল্টন নামে এক শিক্ষানুরাগী এলাকার মুরুব্বিদের নিয়ে ১৯৯৯ সালে গড়ে তুলেন একটি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। যার নাম দেওয়া হয় ‘শহীদ জিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়’। শিক্ষার মান, প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি সবই ছিল ভালো। তবে নামটির কারণেই ৮ বছর শিক্ষা কার্যক্রম চলার পর ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার বন্ধ করে দেয় বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম। বর্তমানে এলাকার কিছু শিক্ষানুরাগী ও প্রবাসী মিলে সার্বিক সহযোগিতা করে ফের বিদ্যালয়টির কার্যক্রম চালু করা হয়।
জানা যায়, ২০২৫ সালে নতুন কমিটির সভাপতি মোক্তারুজ্জামান মিল্টন, কুয়েত প্রবাসী সহ-সভাপতি আলমগীর কবীর, ইয়াসিন আহমেদ, প্রধান উপদেষ্টা সেলিম, ইব্রাহিম, ফারুক হোসেন, ক্যাশিয়ার আকবর আলী, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শরিফুল জামান রিংকুসহ সবার সার্বিক সহযোগিতায় পহেলা জানুয়ারি বই বিতরণ ও ছাত্র-ছাত্রীদের রজনীগন্ধা ফুল দিয়ে নতুন বছরের শুভেচ্ছা এবং নতুন কার্যক্রমকে স্বাগত জানানো হয়।
সৌদি আরব প্রবাসী মো. শরিফুল জামান বলেন, আমরা প্রবাসীরা মিলে এবং এলাকাবাসীদের সহযোগিতায় ফের স্কুলটি কার্যক্রম চালু করতে পেরে আনন্দিত।
স্থানীয়রা জানান, মাইলাইল থেকে আগলার দূরত্ব প্রায় ৩ কিলোমিটার। যাতায়াত অবস্থা ভালো না হওয়ায় মাইলাইলের কোমলমতি শিশুদের কাঁদামাটির রাস্তা মাড়িয়ে আগলা স্কুলে যেতে নানা সমস্যায় পড়তে হয়। বিশেষ করে বর্ষার দিনে বৃষ্টিতে ভোগান্তি বেড়ে যায় বহুগুণ।
এ বিষয়ে নবাবগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কাজী রাশেদ বলেন, বিদ্যালয়টি ফের চালুর ব্যাপারে স্থানীয়দের জোর দাবি ছিল। তাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ফের শিক্ষা কার্যক্রম চালু করতে আমাদের শতভাগ সহযোগিতা ছিল।