Image description

জরাজীর্ণ টিনের চাল, শেওলা ধরেছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কলোনির দেওয়ালে। কিন্তু কাগজপত্র বলছে কলোনি মেরামতসহ বিভিন্ন সংস্কার কাজে খরচ হয়েছে ১ কোটি ৫৩ লাখ ১৪ হাজার টাকা।

অভিযোগ উঠেছে, বড় ধরনের অনিয়ম ও লুটপাট হয়েছে গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) অফিস ও কোয়ার্টার এলাকায় জঙ্গল পরিষ্কার, রং করা ও বাউন্ডারি ওয়াল মেরামতের কাজে। কোনো কাজ না করেই বছর বছর ভুয়া ভাউচার দাখিল করে গত তিন অর্থবছরে দফায় দফায় এসব টাকা লুট করা হয়েছে। এসব বিষয়ে সদুত্তর পাওয়া যায়নি পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, ২০২২-২৩ অর্থবছরে কোয়ার্টার মেরামতের নামে চার লাখ ৫০ হাজার, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১০ লাখ, একই কাজ দেখিয়ে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১২ লাখ, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ২৮ লাখ, আবার ২০২২-২৩ অর্থবছরে ২৪ লাখ ৫০ হাজার, দেওয়াল রংসহ দপ্তর মেরামতের নামে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ২০ লাখ ৪৯ হাজার, রেইনকার্ট মেরামতসহ স্যানিটারি মালামাল স্থাপনের জন্য ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ২১ লাখ ৭৬ হাজার, একই কাজ দেখিয়ে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আবারও রেইনকার্ট মেরামতসহ ভূ-সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণ ও কোয়ার্টারের স্থাপনা মেরামতের নামে ৩১ লাখ ৮৯ হাজার টাকার বিল-ভাউচার করে টাকা উত্তোলন করা হয়। এভাবে ২০২২ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছরে কোনো কাজ না করেই ১ কোটি ৫৩ লাখ ১৪ টাকার বিল তুলে নেওয়া হয়।

সরেজমিনে দেখা যায়, জরাজীর্ণ টিনের চালের ছিদ্র দিয়ে আকাশ দেখা যায়। টিনে জং ধরে খুলে পড়ছে। শেওলা ধরেছে স্টাফ কোয়ার্টারগুলোর দেওয়ালে, খসে পড়ছে পলেস্তরা। হেলে পড়েছে চারপাশের সীমানাপ্রাচীর। কোয়ার্টারের ছাদে ঘাস জন্মেছে, চুইয়ে পানি পড়ে। মেঝেতে গর্ত ও খানাখন্দ। পোকা-মাকড়ের বসতবাড়ি। আর ঘর থেকে বের হলেই নজরে পড়বে কোয়ার্টারের চারপাশে ঝাড়-জঙ্গলে ভরা। বছর বছর ভাউচার দিয়ে টাকা তুললেও কোয়ার্টার মেরামত তো দূরের কথা জঙ্গল পরিষ্কারও করা হয়নি। রাত হলে অন্ধকারে ডুবে থাকে গোটা কোয়ার্টার এলাকা।

গাইবান্ধায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের কলোনির বাসিন্দারা জানান, বৃষ্টি এলেই ভিজে যায় ঘরের মেঝে। জরাজীর্ন টিন, শ্যাওলা ধরা পুুরোনো দেয়াল। কলোনিতে চরম ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তাদের দাবি বরাদ্দ না থাকায় নিজের টাকায় মেরামত করতে হয় এসব বাসাবাড়ি।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য বলছে, ২০২২-২৩ থেকে ২৫-২৬ প্রতি অর্থবছরে কলোনির বাসাবাড়ি মেরামত করা হয়েছে। খরচের খাতায় দেখা যায়, জঙ্গল পরিষ্কার, কলোনি, দপ্তর ভবন, পানির লাইনসহ বিভিন্ন সংস্কার কাজে ১ কোটি ৫৩ লাখ ১৪ হাজার টাকা ব্যয়।

তবে কোন কোন জায়গায় সংস্কার কাজ হয়েছে, কোন কোন পত্রিকায় কবে দরপত্র আহ্বান করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয় এবং কোন ঠিকাদার বা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নাম বা কোনো তথ্যই দিতে পারেননি পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীসহ কেউই।

২০২৫ সালের ২৬ নভেম্বর থেকে গাইবান্ধায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীর দায়িত্ব পালন করছেন শরিফুল ইসলাম। এর আগে একই পদে দায়িত্বে ছিলেন হাফিজুল হক, যিনি বর্তমানে রংপুরে প্রধান প্রকৌশলীর দপ্তরে কর্মরত। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম বলেন, সে সময় আমি ছিলাম না। তাই কী কাজ হয়েছে তা দেখিয়ে দিতে পারব না। তৎকালীন যারা কাজগুলো করেছে, বিষয়টি তারাই বলতে পারবেন।