Image description

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের বারবার কর্মবিরতি ও ধর্মঘটের কারণে ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসাসেবা। কখনো বেতন-ভাতা বৃদ্ধি, কখনো চিকিৎসকদের নিরাপত্তা, কখনো সহকর্মীদের ওপর হামলা ও হেনস্তার প্রতিবাদ-বিভিন্ন দাবিতে কর্মবিরতিতে যাচ্ছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। এতে সবচেয়ে বেশি মূল্য দিতে হচ্ছে দূরদূরান্ত থেকে আসা রোগী ও তাদের স্বজনদের। চিকিৎসা নিতে এসে অপেক্ষা, ওয়ার্ডে চিকিৎসকের খোঁজ না পাওয়া এবং চিকিৎসা পেতে বিলম্বের অভিযোগও উঠছে বারবার।

গতকাল ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জামের সংকট, অতিরিক্ত রোগীর চাপ এবং নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ তুলে রামেক হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেন। ইন্টার্ন ডক্টরস সোসাইটির সভাপতি ডা. এস এম তপু অভিযোগ করেন, বিভিন্ন ওয়ার্ডে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও সরঞ্জামের ঘাটতি আছে। পাশাপাশি রোগীর স্বজনদের অবাধ প্রবেশ এবং নিরাপত্তাকর্মীদের দায়িত্ব পালনে অবহেলার কারণে তাঁরা হামলা ও হুমকির ঝুঁকিতে থাকছেন। এ কারণে তাঁরা কর্মবিরতে গেছেন।

৮ জুন ছয় দফা দাবিতে দুই দিন কর্মবিরতি পালন করেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। এতে হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হয় এবং রোগী ও তাদের স্বজনরা ভোগান্তিতে পড়েন। ২১ এপ্রিল রোগীর স্বজনদের হাতে চিকিৎসকদের হেনস্তার অভিযোগে ২৪ ঘণ্টার কর্মবিরতি পালন করেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। ওই সময় প্রায় ২৩০ জন ইন্টার্ন চিকিৎসক কর্মবিরতিতে অংশ নেন। এ ঘটনায় কর্মবিরতির পেছনে ছিল রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চিকিৎসকদের সঙ্গে স্বজনদের বিরোধ। চারঘাটের ধর্মহাটা গ্রামের ৫০ বছর বয়সি জুলিয়ারা বেগমের মৃত্যুর পর তাঁর স্বজনরা চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ তোলেন। অন্যদিকে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের দাবি ছিল, তাঁদের সহকর্মীদের হেনস্তা করা হয়েছে।

ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতির কারণে রোগীদের ভোগান্তি নতুন নয়। ২০২৪ সালের ২৪ মার্চ বেতন-ভাতা বাড়ানোর দাবিতে রামেক হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা কর্মবিরতি শুরু করেন। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শেখ শামীম আহমেদ জানান, ইন্টার্নরা কর্মবিরতিতে গেলে সেবায় সংকট তৈরি হয়। বিভিন্ন অনাকাক্সিক্ষত ঘটনার কারণে তাঁরা কর্মবিরতিতে যান। তবে তাঁদের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ তাঁরা নিয়ে থাকেন।

জনস্বাস্থ্যবিদ অধ্যাপক ডা. চিন্ময় কান্তির মতে, চিকিৎসকরা নিরাপত্তা ও কর্মপরিবেশের নিশ্চয়তা চান, আর রোগীরা চান সময়মতো চিকিৎসা। হাসপাতাল ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা ও জনবলসংকটের সমাধান না হলে দুই পক্ষের এই সংকটের চূড়ান্ত ভোগান্তি রোগীদেরই বহন করতে হবে।