Image description

ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের কারণে অনিরাপদ হয়ে উঠেছে মহাসড়ক। প্রায় প্রতিদিনই নানা কায়দায় ডাকাতি সংঘটিত হওয়ায় নতুন আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। কোনোভাবেই রোধ করা যাচ্ছে না এসব ডাকাতি-ছিনতাইয়ের মতো অপরাধ। নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

চট্টগ্রাম : ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চট্টগ্রাম অংশের ৭০ কিলোমিটার ও চট্টগ্রাম কক্সবাজারের ১৪০ কিলোমিটার অংশে শতাধিক ডাকাতি, ছিনতাইপ্রবণ এলাকার কারণে অনিরাপদ হয়ে উঠেছে সড়ক। দুই মহাসড়কের এসব স্পটে প্রায়ই নানা কায়দায় ডাকাতি হচ্ছে। একদিকে সড়ক দুটিতে যানবাহনের চাপ, অন্যদিকে হাইওয়ে পুলিশের পর্যাপ্ত জনবল ও লজিস্টিক ঘাটতির কারণে কোনোভাবেই রোধ করা যাচ্ছে না ডাকাতি-ছিনতাই।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ঢাকা-চট্টগ্রাম ও চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের শতাধিক স্পটে ডাকাতরা ওত পেতে থাকে। তবে মহাসড়কের একেক অংশে ডাকাতির ধরন ভিন্ন। চট্টগ্রামের সিটি গেট ধুমঘাট পর্যন্ত অংশের কুমিরা, বাঁশবাড়িয়া, নুনাছড়া, ভাটিয়ারি, ফৌজদারহাট, কমলদহ, সোনাপাহাড় এলাকার অন্তত ৫০টি স্পটে চলন্ত গাড়িতে লোহার পাইপ, ভারী বস্তু নিক্ষেপ করে গাড়ি থামিয়ে ডাকাতি, লুটপাট, ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। এ ছাড়া অনেক সময় বিপদে পড়ার ভান করে অন্যান্য যানবাহনকে থামার সংকেত দেয় ডাকাত চক্র। আর যখনই অন্য কোনো যানবাহন সাহায্য করার উদ্দেশ্যে থামে, তখনই ওই গাড়ির যাত্রী ও চালকদের সর্বস্ব লুটে নেয় চক্রের সদস্যরা।

বরিশাল :  বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের ভুরঘাটা থেকে বার্থী পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকায় ছিনতাইয়ের ঝুঁকি রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এ ছাড়া বাবুগঞ্জের নতুন হাট থেকে ইছলাদি টোল প্লাজা পর্যন্ত মহাসড়কের একটি অংশকেও ছিনতাই ও ডাকাতির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছেন যানবাহনের চালক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। মহাসড়কের যানবাহন চালক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, ছোট যানবাহন নিয়ে চলাচল করা ছিনতাইকারীরা নির্জন স্থানে একা কোনো যাত্রীকে পেলে তাকে তুলে নিয়ে মালামাল ছিনিয়ে নিয়ে ফেলে যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে নতুন হাট থেকে ইছলাদি টোল প্লাজা পর্যন্ত এবং ভুরঘাটা থেকে বার্থী বাজার পর্যন্ত অংশে জনসমাগম কম থাকায় অপরাধীরা সুযোগ নেয়। মহাসড়কের এ দুই অংশে নজরদারি বাড়ানো গেলে ছিনতাই ও ডাকাতির ঝুঁকি কমানো সম্ভব।

গাজীপুর : গাজীপুরের বিভিন্ন মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ ১০টি স্পটে ছিনতাই ও ডাকাতির ঘটনা ঘটছে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এসব অপরাধের ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়ের না হওয়ায় অপরাধীদের চিহ্নিত করতে পারছে না পুলিশ। বিশেষ করে ছিনতাইকারীদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর জখমের ঘটনা ঘটছে। রাতের আঁধারে ডাকাতদের ছোড়া ইটপাথরের আঘাতে বাস, মাইক্রোবাস, প্রাইভেট কারের যাত্রীরা আহতের ঘটনা ঘটছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের মাস্টারবাড়ি এলাকা থেকে রাজেন্দ্রপুর চৌরাস্তা পর্যন্ত প্রায় ৪ দশমিক ৩ কিলোমিটার মহাসড়ক ডাকাতির হটস্পট। ওই মহাসড়কের উভয় পাশে ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানের ২ নম্বর গেট থেকে রাজেন্দ্রপুর চৌরাস্তা পর্যন্ত প্রায় প্রতিদিন রাতে বিভিন্ন ধরনের পরিবহন থামাতে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করছে ডাকাত দল। সবচেয়ে বেশি ডাকাত দলের টার্গেটে পরিণত হয়েছে মোটরসাইকেল চালকরা।

হবিগঞ্জ : ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের হবিগঞ্জ অংশে বেশ কয়েকটি ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের ঘটনায় জনমনে বেড়ে চলেছে আতঙ্ক। সামনে শীত মৌসুমে ডাকাতি আরও বৃদ্ধি পেতে পারে এমনটাই আশঙ্কা করা হচ্ছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জেলার মাধবপুর থেকে নবীগঞ্জ পর্যন্ত প্রায় ৮৩ কিলোমিটার রাস্তা ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের আওতাধীন। বছরের অন্যান্য সময় মহাসড়কে ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা তেমন না ঘটলেও শীত মৌসুম এলেই ঘন কুয়াশার মধ্যে বেড়ে যায় ডাকাতি ও যানবাহন ছিনতাইয়ের মতো ঘটনা।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ : কানসাট-গোমস্তাপুর, কানসাট-ভোলাহাট, রহনপুর-আড্ডা সড়কে অহরহ ডাকাতির ঘটনা ঘটেই চলেছে। ফলে রাত হলেই ওই সড়কগুলোতে যানবাহন চলাচল বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে কানসাট-গোমস্তাপুর-নওগাঁ আঞ্চলিক সড়কটি ডাকাতির কারণে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। ধানকাটা মৌসুমে সড়কগুলোতে ডাকাতির ঘটনা  বেড়ে যায়। তবে সড়কগুলোতে একাধিক ছিনতাই ও ডাকাতির ঘটনা ঘটার পর রাতে পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।