ইতালিতে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে বাংলাদেশিদের লিবিয়ায় নিয়ে বন্দি করা, নির্যাতন চালানো এবং পরিবারের কাছে মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনা বিচ্ছিন্ন অপরাধ নয়। এর পেছনে রয়েছে সংঘবদ্ধ আন্তর্জাতিক মানব পাচারব্যবস্থা। এ চক্রের কার্যক্রম বন্ধ করতে মাঠপর্যায়ের দালালদের গ্রেপ্তারের পাশাপাশি তাদের আর্থিক লেনদেন ও দেশিবিদেশি সহযোগীদের শনাক্ত করে তদন্তের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক এবং অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক। তিনি বলেছেন, ভুক্তভোগীদের বর্ণনায় বাংলাদেশের দালাল, বিদেশে অবস্থানরত সহযোগী এবং নির্যাতন ও মুক্তিপণ আদায়ের সঙ্গে যুক্ত গোষ্ঠীর মধ্যে সমন্বয়ের ইঙ্গিত পাওয়া যায়। তিনি মনে করেন, এ ধরনের অপরাধ দমনে শুধু মাঠপর্যায়ের দালালদের গ্রেপ্তার যথেষ্ট নয়।
পুরো নেটওয়ার্কের কার্যক্রম, অর্থের উৎস এবং অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা জরুরি। বিদেশে ভালো চাকরি, উন্নত জীবন ও পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতার আশায় অনেক বাংলাদেশি বিদেশযাত্রার জন্য বিপুল অর্থ ব্যয় করেন। এই আকাক্সক্ষাকে পুঁজি করে পাচারকারীরা বৈধ ভিসা ও নিরাপদ অভিবাসনের আশ্বাস দেন। পরে অনেককে বিভিন্ন দেশ ঘুরিয়ে অবৈধ পথে লিবিয়ায় নেওয়া হয়। সেখানে তাদের বন্দি করে নির্যাতন চালানো হয় এবং পরিবারের কাছ থেকে বারবার মুক্তিপণ দাবি করা হয়। এতে ভুক্তভোগীদের শারীরিক নির্যাতনের পাশাপাশি পরিবারগুলো ঋণ ও আর্থিক সংকটে পড়ে। অনেকের জীবনে তৈরি হয় দীর্ঘমেয়াদি মানসিক বিপর্যয়।
ড. তৌহিদুল হক বলেন, এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের ব্যাংক হিসাব, অর্থ স্থানান্তরের ধরন, সম্পদের উৎস এবং আদায় করা অর্থের গন্তব্য অনুসন্ধান করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে বিদেশে অবস্থানরত সহযোগী ও পাচারের রুট শনাক্ত করতে হবে। বাংলাদেশ, লিবিয়া, মিসরসহ সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও দূতাবাসের মধ্যে তথ্য বিনিময়ও জরুরি। পাশাপাশি বিদেশগামীদের ভিসা, চাকরির চুক্তি ও নিয়োগদাতার পরিচয় যাচাইয়ের সুযোগ বাড়াতে হবে। পাচারের শিকার ব্যক্তিদের অপরাধী হিসেবে বিবেচনা না করে তাদের নিরাপত্তা, চিকিৎসা, মানসিক সহায়তা ও আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।