Image description

সন্ধ্যা থেকে শুরু হয়ে চলে সারা রাত, ইলেকট্রনিক ড্যান্স মিউজিকের (ইডিএম) উচ্চ শব্দে আলো-আঁধারিতে কাঁপে ক্লাব-রিসোর্টের নির্ধারিত হলরুম। চলতে থাকে উচ্চবিত্ত আর প্রভাবশালী পরিবারে বেড়ে ওঠা একশ্রেণির তরুণ-তরুণীর উন্মাতাল নৃত্য। তাদের কারও হাতে মদের স্বচ্ছ গ্লাস, কারও হাতে জ্বলন্ত সিগারেট। ইয়াবা, এমডিএমএ, কোকেন ও কেটামিনের মতো মাদকের দুর্গন্ধে ভারি হয় এলাকা। মাদকে বুঁদ হয়ে কেউ কেউ হাত ধরে, কেউবা বিকৃত আলিঙ্গনে চলে যায় সারি সারি সাজানো অভিজাত কটেজে। সেখানে চলে বিকৃত অসামাজিকতা। দেশে মাদকের অন্ধকার রাজ্যের নতুন এ আয়োজনের নাম ‘রেভ পার্টি’।

সাধারণ অর্থে এ রেভ পার্টি মূলত ইলেকট্রনিক মিউজিক ও ডিজে বা লাইভ মিউজিকসহ বড় ড্যান্স পার্টিকে বোঝায়। তবে জ্যামাইকান শব্দ থেকে আসা এ রেভ (RAVE) শব্দের অর্থ নাচ ও মদ্যপানের আসর। ইংরেজিতে এ শব্দটি কোনো বিষয়ে অনিয়ন্ত্রিত বা উত্তেজিতভাবে কথা বলা কিংবা রাগে প্রলাপ বকা অর্থেও ব্যবহৃত হয়। তবে দেশে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দেশে এ পার্টি মূলত ধনীর দুলাল-দুলালিদের মাদকের আসর হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। একসময় সমাজের এ শ্রেণিটি সিসা বার কিংবা ডিজে পার্টির নামে মাদকে বুঁদ থাকলেও এখন এর নাম হয়েছে রেভ পার্টি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, একসময় কক্সবাজারের মতো পর্যটনকেন্দ্রিক এলাকাতেই এ ধরনের পার্টির আয়োজন দেখা যেত। তবে দেড় থেকে দুই বছর ধরে এ ধরনের পার্টির ব্যাপ্তি ও এলাকা বেড়েছে। রাজধানীর বাইরে বিভিন্ন রিসোর্ট, ক্লাব ও ব্যক্তিমালিকানাধীন ভেন্যুতে বসছে রেভ পার্টির ছোট-বড় আয়োজন। এসব মাদকের আসরের বাইরে কড়া নিরাপত্তা ও তল্লাশি থাকে। শুধু আগেভাবে নিবন্ধন করা তরুণ-তরুণীরাই যেতে পারেন এসব মাদকের আসরে। ইনস্টাগ্রামের মতো নানা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলে এ কর্মের নিয়ন্ত্রণ।

সম্প্রতি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কয়েকটি অভিযানেও মিলেছে মাদক আসরের নতুন সংস্করণের এ ধরনের তথ্য। সাম্প্রতিক সময়ে গাজীপুরের একটি রিসোর্টে ডিজে পার্টিতে অভিযান চালিয়ে এমডিএমএ, কুশ, কোকেন, অ্যালকোহলসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়। এরপরই নড়েচড়ে বসেন অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। তবে শুরু হওয়া এ অভিযানের মধ্যেই তা থামাতে প্রভাবশালীদের ফোনও এসেছে বলে সূত্র জানিয়েছে।

ডিএনসি কর্মকর্তারা বলছেন, ডিজে পার্টি, সিসা বারের পর রেভ পার্টির নামে মাদকের নতুন এ আসর এখন বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কক্সবাজার থেকে রিসোর্ট-ক্লাবে: ডিএনসির সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দেশে রেভ পার্টির বড় আয়োজনগুলোর একটি পরিচিতি পায় কক্সবাজারকে ঘিরে। গত বছরের জানুয়ারিতে কক্সবাজারের পেচার দ্বীপের একটি বিচ রিসোর্টে তিন দিনের ‘বার্নিং ক্র্যাব ফেস্টিভ্যাল’ আয়োজন করা হয়। সেখানে দেশি-বিদেশি শিল্পীর ডিজে, একাধিক স্টেজ ও রাতের সংগীত আয়োজন ছিল। এরপর এসব রেভ পার্টির আয়োজন শুধু বড় পর্যটন কেন্দ্রেই সীমিত থাকেনি। রাজধানীর আশপাশসহ বিভিন্ন এলাকার রিসোর্ট ও ক্লাবকে বেছে নেওয়া হচ্ছে রাতভর এসব মাদকের আসর আয়োজনে। কখনো পুরো রিসোর্ট বা কখনো নির্দিষ্ট অংশ ভাড়া নিয়ে এ ধরনের আয়োজন করা হচ্ছে।

সূত্র বলছে, চলতি বছরের এপ্রিলে গাজীপুরের ভাওয়াল রিসোর্টে রেভ পার্টির আড়ালে মাদকের সন্ধান পায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তৎকালীন র্যাব (বর্তমানে বিলুপ্ত) এবং ডিএনসি যৌথ অভিযান চালিয়ে মাদক উদ্ধারের পাশাপাশি পার্টির আয়োজন ঘিরে মাদক সেবন ও সরবরাহের তথ্য পায়। সেই ঘটনার কয়েক মাসের মধ্যেই সম্প্রতি গাজীপুরের পূবাইল রিসোর্ট ক্লাবের ‘সনিক প্লাস’ নামে আয়োজিত রেভ পার্টিতে অভিযান চালায় ডিএনসি। সেখানে কোকেন, কুশ, এমডিএমএ, মাদক মেশানো গাম ও লজেন্স এবং বিদেশি মদ জব্দ করা হয়। গ্রেপ্তার করা হয় আয়োজক ও মাদক সরবরাহের সঙ্গে জড়িত চারজনকে।

ওই অভিযানে থাকা ডিএনসির একজন কর্মকর্তা কালবেলাকে বলেন, ওই পার্টিতে ইনস্টাগ্রামসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের গোপন গ্রুপে প্রচার চালিয়ে প্রায় ৬০০ তরুণ-তরুণী ও কিশোর-কিশোরীকে পার্টিতে যুক্ত করা হয়েছিল। জনপ্রতি ৬ থেকে ১২ হাজার টাকায় টিকিট বিক্রি করা হয়। রিসোর্টটি ভাড়া নিয়ে পার্টির আড়ালে অংশগ্রহণকারীদের কাছে মাদক সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়েছিল।

ওই কর্মকর্তা বলেন, কথিত পার্টিতে প্রবেশ ফি ৬ থেকে ১২ হাজার টাকা নেওয়া হলেও মাদকের আলাদা টাকা এবং কটেজ ব্যবহার করলে আলাদা বিল দেওয়া লাগে।

গাজীপুর জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক এমদাদুল ইসলাম মিঠুন কালবেলাকে বলেন, ঢাকা ডিএনসির কর্মকর্তা, গোয়েন্দা শাখার কর্মকর্তা এবং গাজীপুর জেলা ডিএনসির কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে অভিযানটি চালানো হয়েছিল। রেভ পার্টির নামে সেখানে মাদক সরবরাহ এবং সেবন চলছিল। এ ছাড়া, অনৈতিক অনেক কার্যকলাপের প্রমাণ পাওয়া যায়। এসব আয়োজনের পেছনে কারা কারা জড়িত, সেগুলো নিয়ে বিস্তারিত তদন্ত চলছে।

এক মাস আগে থেকেই ইনস্টাগ্রামে প্রচার: ডিএনসির কয়েকটি অভিযান কার্যক্রম বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, রেভ পার্টির আয়োজন শুরু হয় ভেন্যু নির্ধারণ দিয়ে। সাধারণত শহরের কোলাহল থেকে দূরে রিসোর্ট, বিচসাইড ভেন্যু, ক্লাব কিংবা ব্যক্তিমালিকানাধীন জায়গা বেছে নেওয়া হয়। এরপর আয়োজনের থিম, সময়সূচি, ডিজে ও শিল্পীদের তালিকা এবং টিকিটের ধরন ঠিক করা হয়। বড় আয়োজনে একাধিক ডিজে, আলাদা মিউজিক জোন, বিশেষ আলো, লেজার ও সাউন্ড সিস্টেমের মতো আয়োজন থাকে। পরের ধাপে শুরু হয় প্রচার। রেভ পার্টির পুরো প্রচার চলে ইনস্টাগ্রামে। আয়োজন প্রকাশ্যে হলেও ভেতরের জগৎটি বেশ নিয়ন্ত্রিত। একটি রেভ পার্টির আয়োজনের পুরো কার্যক্রম শুরু হয় অনুষ্ঠানের অন্তত এক মাস আগে। এই প্রতিবেদক এ ধরনের বেশ কয়েকটি ইনস্টাগ্রাম পেজের লিংকও পান। তাতে দেখা যায়, আয়োজকরা প্রথমে ইনস্টাগ্রামে আলাদা পেজ খুলে সেখানে প্রচার শুরু করে। ধীরে ধীরে অনুসারী বাড়িয়ে সম্ভাব্য অংশগ্রহণকারীদের কাছে আয়োজনের তথ্য পৌঁছে দেওয়া হয়। তবে সাধারণ কোনো পার্টি হিসেবে এসব আয়োজনকে উপস্থাপন করা হয় না। বরং প্রচারে এটিকে আলাদা ধরনের অভিজ্ঞতা, অনিয়ন্ত্রিত উল্লাস কিংবা আধ্যাত্মিক অনুভূতির জায়গা হিসেবে তুলে ধরা হয়।

এ ধরনের পেজগুলো বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, প্রতিটি আয়োজনকে আলাদা পরিচিতি দিতেও নানা কৌশল ব্যবহার করে আয়োজকরা। কোনো পার্টির নির্দিষ্ট নাম, কোনোটির বিশেষ প্রতীক, আবার কোনো আয়োজনের জন্য নির্দিষ্ট রং বা নকশার পোশাক রাখা হয়। ফলে একই ধরনের আয়োজন হলেও প্রতিটি পার্টির নিজস্ব একটি পরিচয় তৈরি হয়। এজন্য আয়োজকরা প্রতিটি আয়োজনের নির্দিষ্ট নামকরণও করে থাকে, যেন অংশগ্রহণকারীরা বুঝতে পারে যে কারা পার্টির আয়োজন করেছে।

প্রচারের পাশাপাশি শুরু হয় অংশগ্রহণকারীদের রেজিস্ট্রেশন। এক্ষেত্রে অংশ নিতে চাওয়াদের ক্ষেত্রে শুধু নাম ও মোবাইল নম্বরেই সীমাবদ্ধ থাকে না তথ্য সংগ্রহ। অনেক আয়োজনেই জাতীয় পরিচয়পত্র, মোবাইল নম্বর ও ইনস্টাগ্রাম আইডিসহ বিভিন্ন তথ্য নেওয়া হয়। মোবাইল নম্বরে ওটিপি পাঠিয়ে আবেদনকারী ব্যক্তির নম্বর যাচাই করা হয়। এরপর তার দেওয়া ইনস্টাগ্রাম আইডিতে ফলো রিকোয়েস্ট পাঠানো হয়। রিকোয়েস্ট গ্রহণ করার পর আয়োজকদের কেউ কেউ ওই ব্যক্তির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কার্যক্রমও পর্যবেক্ষণ করে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, নিবন্ধনকারী আগে এ ধরনের কোনো পার্টিতে অংশ নিয়েছিল কি না, কার সঙ্গে তার যোগাযোগ এবং সামাজিক ও আর্থিক পরিমণ্ডল কেমন—এসব বিষয়ও যাচাই করা হয়।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ঢাকা গোয়েন্দা বিভাগের উপপরিচালক মেহেদী হাসান কালবেলাকে বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে পার্টির নাম, থিম, ভেন্যু, ডিজে লাইনআপ ও টিকিটের তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া হয়। লোক দেখানো কিছু আয়োজন সবার জন্য উন্মুক্ত থাকলেও বেশিরভাগই নির্দিষ্ট সার্কেলকে লক্ষ্য করে প্রচার চালানো হয়। তবে ভেন্যুর নাম উন্মুক্ত করা হয় অনুষ্ঠানের দিন কয়েক ঘণ্টা আগে। ভেন্যু জানার পর সেখানে ধীরে ধীরে প্রবেশ করে অংশগ্রহণকারীরা।

তিনি জানান, এভাবে প্রকাশ্যে প্রচার চললেও ভেতরে তৈরি থাকে একটি নির্দিষ্ট সার্কেল। আগের পার্টিতে যারা ছিলেন, তাদের মাধ্যমে পরের আয়োজনের খবর ছড়ায়। ফলে এক আয়োজনের অংশগ্রহণকারীরাই পরবর্তী আয়োজনের সম্ভাব্য অতিথিতে পরিণত হন। এ ছাড়া, রেফারেন্সের ব্যবস্থার কারণে একটি আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরাই পরবর্তী আয়োজনের নতুন অংশগ্রহণকারী নিয়ে আসার সুযোগ পান। এভাবে গড়ে উঠছে পার্টিভিত্তিক এ মাদকসেবীদের বলয়।

প্রবেশে মাদকবিরোধী তল্লাশি, ভেতরে সরবরাহ!: ডিএনসির গোয়েন্দারা এ ধরনের পার্টির আয়োজক ও অংশ নেওয়া বেশ কয়েক তরুণ-তরুণীর কাছ থেকে পাওয়া তথ্যে বলছেন, রেভ পার্টিতে প্রবেশের সময় কড়াকড়ি তল্লাশি থাকে। আয়োজকদের পক্ষ থেকে বলা হয়, কেউ মাদক নিয়ে ভেন্যুতে ঢুকতে পারবে না। ব্যাগ ও শরীর তল্লাশি করে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। অবশ্য প্রকাশ্যে মাদক ও অ্যালকোহল নিষিদ্ধ থাকার কথা ঘোষণা থাকলেও বাস্তবে পার্টির ভেতরে মাদক সরবরাহ করে আয়োজকরাই। মূলত বাইরে থেকে কোনো মাদক নেওয়া যায় না, কিনতে হবে ভেতর থেকেই। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাইবার ইউনিটগুলোর চোখ এড়াতে এসব পার্টির প্রচারণায় স্পষ্টভাবে ঘোষণা দেওয়া হয়, অনুষ্ঠানস্থল বা ভিলার ভেতরে অ্যালকোহল, অবৈধ মাদকসহ অননুমোদিত যে কোনো ধরনের পদার্থ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। আয়োজকদের শর্তে আরও বলা হয়, কারও কাছে এসব পদার্থ পাওয়া গেলে কিংবা সেবন বা বিতরণ করতে দেখা গেলে কোনো অর্থ ফেরত না দিয়েই তাকে তাৎক্ষণিকভাবে অনুষ্ঠানস্থল থেকে বের করে দেওয়া হতে পারে।

দেশি-বিদেশি ডিজে নিয়ে রেভ পার্টি: রেভ পার্টির আয়োজনকে আকর্ষণীয় করতে দেশীয় ডিজে ও পারফরমারদের পাশাপাশি ইউরোপ, আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকাসহ বিভিন্ন দেশ থেকে ডিজে ও পারফরমার নিয়ে আসা হয় বলে জানা গেছে। বড় আয়োজনগুলোতে বিদেশি শিল্পীদের উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে আগে থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রচার চালানো হয়। কে কোন দেশের, কোন ডিজে বা গ্রুপ পারফর্ম করবে—এসব তথ্য সামনে রেখে তৈরি করা হয় আলাদা প্রচারপত্র। এতে আয়োজনের প্রতি বিত্তবান তরুণ-তরুণীদের আগ্রহও বাড়ে। তবে সংশ্লিষ্টরা জানান, এ আয়োজনের আড়ালে আয়োজকদের পাশাপাশি দেশি-বিদেশি ডিজেদের মাধ্যমেও উচ্চমূল্যের সিনথেটিক মাদক অংশগ্রহণকারীদের কাছে সরবরাহ করা হয়।

সাম্প্রতিক কয়েকটি রেভ পার্টিতে ইতালি, দক্ষিণ আফ্রিকা, মেক্সিকো ও স্পেন থেকে ডিজে ও ডিজে গ্রুপ আনার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ইতালির লুকা আগনেলি, দক্ষিণ আফ্রিকার দি অ্যাডভেন্ট, মেক্সিকোর নাস্তিয়া এবং স্পেনের সাটোরি গ্রুপের নাম রয়েছে। এসব বিদেশি শিল্পীর পারফরম্যান্সকে কেন্দ্র করে বড় পরিসরে আয়োজন সাজানো হয়।

ভয়ংকর সিনথেটিক মাদকে সয়লাব পার্টি: ডিএনসি সূত্র বলছে, রেভ পার্টি আয়োজনে কেটামিন, কোকেন, আইস, মলি, এলএসডি ও ইয়াবার মতো উচ্চমূল্যের সিনথেটিক মাদক ব্যবহারের তথ্য ও প্রমাণ পেয়েছেন তারা। পার্টির আড়ালে এসব মাদকের কেনাবেচাই হয়ে ওঠে আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য। অংশগ্রহণকারীরা আর্থিকভাবে সচ্ছল পরিবারের সন্তান হওয়ায় চড়া দামের এসব মাদক কেনার সামর্থ্যও তাদের থাকে। তা ছাড়া এ পার্টির আরেকটি অংশে থাকে ‘কটেজ রেস্ট’ নামে বিকৃত ও অসামাজিক কার্যক্রমের সুযোগ।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. হাসান মারুফ কালবেলাকে বলেন, আমরা যে কোনো ধরনের মাদকের আমদানি, বিক্রি এবং বিস্তারের বিরুদ্ধে। আমাদের কাছে যখনই এমন কোনো তথ্য আসে, আমরা তাৎক্ষণিক অভিযান চালাই। আমাদের গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সাম্প্রতিক সময়ে এসব ডিজে পার্টি, রেভ পার্টির বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয়েছে। এভাবে মাদকের বেচাকেনা এবং অনলাইন প্রচারণার বিরুদ্ধে আমরা সবসময়ই কঠোর। আমাদের নতুন আইনেও এসব নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আমরা আমাদের সামর্থ্য দিয়ে কাজ করে যাচ্ছি, আমরা কখনোই চাইনি এসবের বিস্তার ঘটুক এবং যুবসমাজ ধ্বংস হয়ে যাক। মাদকের বিরুদ্ধে সবসময়ই আমাদের জিরো টলারেন্স।