Image description
চার দিনের রিমান্ডে

রাজধানীর বাংলামটর এলাকায় আতঙ্কের নাম যুবদলের বহিষ্কৃত নেতা ফেরদৌস আহমেদ সায়মন। এককভাবে নিয়ন্ত্রণ করতেন পুরো এলাকার চাঁদাবাজি, জায়গা দখল এবং মাদক ব্যবসা। তার ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পায়নি কেউ। প্রায়ই কথা কথায় গুলি ছুড়ে এলাকায় আতঙ্ক তৈরি করতেন। শুক্রবার সরেজমিন অনুসন্ধানে সায়মনের নানা অপরাধের চিত্র মিলেছে।

সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার রাতে সোহান নামে এক যুবককে অস্ত্রের বাঁট দিয়ে আঘাত করে মাথা ফাটান সায়মন। দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়েন। পরে স্থানীয়রা তার বাসা ঘেরাও করে। খবর পেয়ে পুলিশ সায়মনসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করে।

এ ঘটনায় রাজধানীর হাতিরঝিল থানায় দায়ের হওয়া মামলায় সায়মনসহ চারজনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ। প্রধান আসামি সায়মনকে চার দিন এবং অন্য তিন আসামির তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নাসিম সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করলে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ইসরাত জাহান এ আদেশ দেন। রিমান্ডে যাওয়া অন্য তিন আসামি হলেন ওমর (৩২), মোর্শেদ (২৫) ও মো. শাওন (২৫)।

চাঁদার দাবিকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার রাত ৮টায় রাজধানীর বাংলামটরের পেট্রোল পাম্পের গলিতে মো. সোহান নামে এক ব্যবসায়ীর পথ রোধ করেন সায়মন ও তার সহযোগীরা। এ সময় কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে তাকে পিস্তলের বাঁট দিয়ে মাথায় আঘাত করা হয়। এতে তার মাথা ফেটে যায়। একপর্যায়ে সায়মন বেশ কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে আতঙ্ক তৈরি করেন। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দারা এগিয়ে এলে সায়মন তার সহযোগীদের নিয়ে একটি ভবনে প্রবেশ করেন। তখন বাইরে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকেন স্থানীয়রা। এ সময় একটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করেন বিক্ষুব্ধ জনতা। পরে মোটরসাইকেলটিতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় হাতিরঝিল থানা পুলিশ। এ সময় তাদেরও অবরোধ করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ,

ডিবি, এসআরবির ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান। বিক্ষোভের মুখে তারাও অনেকটাই বেকায়দায় পড়েন। পরে সায়মনসহ চারজনকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়।

হাতিরঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘তাদের গ্রেপ্তারের পর ঘটনার বিষয়ে বেশকিছু তথ্য আমরা পেয়েছি। সেগুলো ধরে তদন্ত কার্যক্রম চলছে।’

এ ঘটনায় হাতিরঝিল থানায় মামলা দায়ের করেন হামলার শিকার সোহান। মামলার এজাহারে বলা হয়, তার কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেছিলেন সায়মন।

জাতীয়তাবাদী যুবদলের ঢাকা মহানগর উত্তরের আওতাধীন হাতিরঝিল থানার আহ্বায়ক ছিলেন সায়মন। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডসহ সুনির্দিষ্ট বেশকিছু অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে আগেই সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়। বহিষ্কারের পরও দলীয় পরিচয়েই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে চালিয়ে যান তিনি। গড়ে তোলেন নিজস্ব বাহিনী।

শুক্রবার সরেজমিন দেখা যায়, অনেকটাই নীরব বাংলামটরের পেট্রোলপাম্পের গলি। বন্ধ বেশকিছু দোকানপাট। স্থানীয়দের মধ্যে অজানা আতঙ্ক।

৫ আগস্টের পর বাংলামটর পাম্পের গলিতে আওয়ামী লীগ নেতা সাঈদ হোসেনের একটি সেলুন নিজের দখলে নেন সায়মন। মিল্লাত নামে দলটির আরেক নেতার দোকানও রয়েছে তার দখলে। সম্প্রতি এলাকার ডেন্টাল কেয়ার থেকে চাঁদা দাবি করেন সায়মন। জননী ইন্টারন্যাশনাল বিকাশের দোকানের মালিক আব্দুর রউফ বলেন, কিছুদিন আগে সায়মনসহ কয়েকজন আমার দোকানে আসে। ছুরি দিয়ে আমাকে আঘাত করে। পরে দোকানে থাকা প্রায় দেড় লাখ টাকা নিয়ে যায়।

জানতে চাইলে হামলার শিকার সোহান বলেন, ৫ আগস্টের পর থেকে তার চাঁদাবাজি শুরু হয়েছে। কেউ তার চাঁদার বিরুদ্ধে কথা বলতে পারে না। কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে নির্যাতন করা হয়।