Image description

সাইকেল চুরির অভিযোগে রাজধানীর জিগাতলায় ‘ঢাকা রেসিডেন্সি’ নামের একটি আবাসিক হোস্টেলের মালিক, ম্যানেজার ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ঢাকা কলেজের তিন শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় এক শিক্ষার্থীর মাথা ফেটে যায় এবং অন্যদের আটক রেখে মারধর ও হেনস্তার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। বর্তমানে আহত এক শিক্ষার্থী ধানমন্ডি পপুলার মেডিকেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

শুক্রবার বেলা আড়াই টার দিকে ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থীদের মারধর করে আটকে রেখে সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টার দিকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এসময় তাদের কাছে থাকা আইফোন ও কয়েকটি মোবাইল ফোন ভেঙে ফেলার অভিযোগ ওঠেছে হোস্টেল মালিকের বিরুদ্ধে ।

ভুক্তভোগীদের মধ্যে রাকিব ঢাকা কলেজের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী। প্রান্ত একই শিক্ষাবর্ষের অর্থনীতি বিভাগের এবং শাফিন আহমেদ ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের শিক্ষার্থী।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী, তাদের এক রুমমেট অপূর্বের সাইকেল শুক্রবার সকালে চুরি হয়। এ ঘটনায় তারা সংশ্লিষ্ট হোস্টেল কর্তৃপক্ষের কাছে গিয়ে সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ দেখতে চান। তবে ক্যামেরা নষ্ট বলে জানানো হয়। পরে ফুটেজ দেখানোর কথা বলে তাদের কিছুদূর নিয়ে গিয়ে আবার ফিরিয়ে আনা হয়। এ সময় কমিটির লোকজনের সঙ্গে কথা বলার কথা জানানো হয় তাঁদের।

তারা আরও জানান, পরে প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার ও মালিকের সঙ্গে তাঁদের কথা হয়। এ সময় সাইকেল চুরির ঘটনায় নিরাপত্তার দায়িত্ব নিয়ে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। তাঁদের অভিযোগ, ম্যানেজার তাদের জিনিসপত্রের নিরাপত্তার দায়িত্ব নিতে অস্বীকৃতি জানান। এ নিয়ে কথা বলার একপর্যায়ে শিক্ষার্থী রাকিব মুঠোফোনে ভিডিও ধারণ করতে থাকেন।

ভুক্তভোগীদের দাবি, ভিডিও ধারণের সময় তাদের সঙ্গে কর্তৃপক্ষের লোকজনের বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে রাকিবের কাছ থেকে জোর করে মুঠোফোন কেড়ে নিয়ে মাটিতে আছাড় দিয়ে ভেঙে ফেলা হয়। পরে প্রতিষ্ঠানের মালিক, ম্যানেজার ও কর্মচারীরা মিলে তাদের মারধর করেন বলে অভিযোগ করেন তাঁরা।

ওই শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, মারধর করতে করতে তাঁদের গেটের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে গেট বন্ধ করে আবারও মারধর করা হয়। এ সময় বাঁশ দিয়েও আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ তাঁদের। এতে রাকিবের মাথা ফেটে যায় এবং অন্য শিক্ষার্থীর নাকে ও হাতে আঘাত লাগে।

 আধা ঘণ্টার মধ্যে নিজেদের জিনিসপত্র নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তারা। পরে তাড়াহুড়া করে তাঁরা ঢাকা কলেজের পশ্চিম ছাত্রাবাসের গিয়ে ওঠেন বলে জানান।

এ বিষয়ে ঢাকা কলেজ উপাধ্যক্ষকে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।