Image description

রাজধানীর বাজারে আবার বেড়েছে ডিমের দাম। খুচরা বাজারে ফার্মের মুরগির ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৫৫ থেকে ১৬০ টাকায়।

ডজনে দাম বেড়েছে ১০ থেকে ১৫ টাকা। এদিকে প্রায় সব ধরনের সবজির দামও বেড়েছে। এতে নিত্যপণ্যের বাজারে কেনাকাটায় অস্বস্তিতে পড়েছে স্বল্প অয়ের মানুষ।

ব্রয়লার মুরগির দাম এখন কেজিপ্রতি ২০০ টাকার আশপাশে।

এতে ডিম ও মাংস মিলিয়ে তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী আমিষের জোগানে হিমশিম খাচ্ছে স্বল্প আয়ের মানুষ।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর রামপুরা, বাড্ডা, মহাখালী কাঁচাবাজার ও জোয়ারসাহারা বাজার ঘুরে দেখা যায়, বেশির ভাগ দোকানে ফার্মের মুরগির ডিম ডজনপ্রতি ১৫৫ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আবার দোকানগুলোতে এক হালি ৬০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে।

খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, মুরগির খাবার ও ওষুধের দাম, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি এবং লোডশেডিংয়ের সময় ডিজেলচালিত জেনারেটর ব্যবহারে উৎপাদন খরচ বেড়েছে।

পাশাপাশি মৌসুমের এ সময়ে গরম ও আর্দ্রতা বেশি থাকায় মুরগির ডিম উৎপাদন কিছুটা কমে যায়। এসব কারণে বাজারে ডিমের সরবরাহ ও দামের ওপর প্রভাব পড়েছে বলে তাঁদের দাবি।

ব্যবসায়ীদের কেউ কেউ বলছেন, সম্প্রতি পরিবহন ব্যয় বেড়েছে। এর প্রভাব পড়ছে ডিমসহ বিভিন্ন নিত্যপণ্যের দামে। তবে বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, পরিবহন ব্যয় বাড়ার বিষয়টিকে অজুহাত হিসেবে দেখিয়ে কিছু ব্যবসায়ী এরই মধ্যে পণ্যের দাম বাড়ানোর চেষ্টা করছেন।

তাই বাজারে নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন।

ডিমের পাশাপাশি কিছুটা বেড়েছে পেঁয়াজের দামও। খুচরা বাজারগুলোতে পেঁয়াজ কেজিতে পাঁচ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে বিক্রি হতে দেখা গেছে। খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, আড়তে দাম বাড়ার কারণে তাঁরাও দাম বাড়িয়ে বিক্রি করছেন। যদিও খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, সরবরাহ সংকটের কারণে আড়তে পেঁয়াজের দাম কিছুটা বাড়লেও আবার দাম কমে গেছে।

এ বিষয়ে রাজধানীর কারওয়ান বাজারের পেঁয়াজের আড়তদার জালাল উদ্দিন গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সরবরাহ কমে যাওয়ার কারণে হঠাৎ পেঁয়াজের দাম কিছুটা বেড়ে গিয়েছিল। আজ (বৃহস্পতিবার) আবার পাইকারি পর্যায়ে কেজিতে পাঁচ টাকা করে কমেছে।’

বাজার ঘুরে দেখা যায়, বেশির ভাগ সবজি এখনো বাড়তি দরে বিক্রি হচ্ছে। পটোল ও ঢেঁড়স প্রতি কেজি ৬০ থেকে ৭০ টাকা, কাঁকরোল ৮০ টাকা, বেগুন জাতভেদে ৮০ থেকে ১৬০ টাকা, করলা ৯০ থেকে ১০০ টাকা, টমেটো ১০০ থেকে ১৩০ টাকা, ধুন্দল ও চিচিঙ্গা ৬০ থেকে ৭০ টাকা, পেঁপে ৩০ থেকে ৪০ টাকা এবং কাঁচা মরিচ ১৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

বাড়তি দরেই এখনো বিক্রি হচ্ছে সব ধরনের মাছ। বাজারে দুই কেজি ওজনের রুই মাছ ৩৮০  থেকে ৪০০ টাকা প্রতি কেজি, বড় রুই প্রতি কেজি ৪৫০ টাকা, মাঝারি কাতল ৪০০ টাকা এবং বড় কাতল ৪৫০ টাকা। বড় তেলাপিয়া প্রতি কেজি ২৮০ টাকা, ছোট তেলাপিয়া ২৪০ টাকা এবং পাঙ্গাশ ২০০ থেকে ২২০ টাকা কেজি। চাষের চিংড়ি আকারভেদে ৭০০ থেকে এক হাজার ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

বিক্রেতারা বলছেন, ‘মাছ পরিবহনে গাড়িভাড়া বেড়েছে। এতে আড়তে কিছুটা দাম বেড়েছে। আমাদেরও দাম বাড়িয়ে বিক্রি করতে হচ্ছে।’ মুরগির বাজারে ব্রয়লার ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা এবং সোনালি মুরগি জাতভেদে ৩০০ থেকে ৩৪০ টাকা কেজি। ক্রেতারা বলছেন, একের পর এক নিত্যপণ্যের দাম বাড়ায় সংসারের ব্যয় সামলানো কঠিন হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে ডিম, সবজি ও মাছের মতো প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় খাবারের দাম বাড়ায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।

বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, পরিবহন ব্যয় সামান্য বাড়লেও এর সুযোগ নিয়ে যাতে অযৌক্তিকভাবে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ানো না হয়, সে বিষয়ে সরকারের বাজার তদারকি জোরদার করা প্রয়োজন। পাশাপাশি ডিমসহ নিত্যপণ্যের সরবরাহ ব্যবস্থায় কোনো ধরনের কৃত্রিম সংকট তৈরি হচ্ছে কি না, সেটিও নজরদারির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।