Image description

সাপ্তাহিক ও সাধারণ ছুটির দিনেও বসে নেই প্রশাসন। দাপ্তরিক কাজ গতিশীল এবং ঝুলে থাকা প্রকল্পের বাস্তবায়ন দ্রুততর করতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও মাঠ প্রশাসনের ১ হাজার ২০০ কর্মকর্তাকে ঢাকায় ডেকেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। আগামী কাল ছুটির দিনে তাদের সঙ্গে ঢাকায় জরুরি সভা হবে। এই সভায় স্থানীয় সরকারমন্ত্রী, স্থানীয় সরকার ও জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, মুখ্য সচিবসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন। সভায় মাঠপর্যায়ের নানা চ্যালেঞ্জ ও সমস্যা নিয়ে আলোচনা পর্যালোচনা করা হবে। সবচেয়ে বেশি আলোচনা হতে পারে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন নিয়ে।

স্থানীয় সরকার বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সভাটি সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে কয়েকটি কমিটি করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সভায় চারটি নির্দিষ্ট এজেন্ডা রয়েছে। এর মধ্যে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন, ডেঙ্গু প্রতিরোধ অভিযান, বৃক্ষরোপণ অভিযান ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হবে। বিবিধ আলোচনায় ইউএনওদের নানা দিকনির্দেশনা দিতে পারেন বলেও মনে করছেন স্থানীয় সরকার বিভাগের কর্মকর্তারা। আগামীকাল সকাল ৯টায় সমবায় ভবনে অনুষ্ঠেয় এই সভায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিপরিষদ ও মুখ্য সচিবসহ আরও চার সচিব উপস্থিত থাকবেন। সূত্র জানায়, সারা দেশের সব সিটি করপোরেশনের নির্বাহী কর্মকর্তা, সব জেলার স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক, ৫০০ ইউএনও, উপজেলা পরিষদের প্রশাসক ও উপজেলার প্রকৌশলীদের ডাকা হয়েছে। মূলত সরকারের কার্যক্রম বা প্রকল্প উপজেলা থেকেই বাস্তবায়ন করা হয় বলে তাঁদের সরাসরি নির্দেশনা দিতে চায় মন্ত্রণালয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় সরকার বিভাগের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে এবং কাজের কোনো দীর্ঘসূত্রতা বা জট যেন তৈরি না হয় এজন্য ছুটির দিনে ডাকা হয়েছে।

যদিও মাঠ প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা ছুটির দিনে এমন সভা নিয়ে নানা মন্তব্য করেছেন। তবে সরকারি চাকরি সরকার যেভাবে চায় সেভাবেই করতে হয় বলেও উল্লেখ করেন কর্মকর্তারা। এর আগে গত ১৯ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) কর্মকর্তাদের নিয়ে সভা করে মন্ত্রণালয়। সেই গুরুত্বপূর্ণ সভায় আমন্ত্রণ জানানোর পরও বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা প্রকৌশলীদের অনেকে উপস্থিত না থাকায় তাঁদের দায়িত্ববোধ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন প্রতিমন্ত্রী। সভায় উপস্থিত থাকার কথা ছিল ৫০৩ জনের।

ছিলেন মাত্র ৪৪০ জন। অনুপস্থিত কর্মকর্তাদের কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়ার কথাও জানায় এলজিইডি। ওই মিটিংয়েও সৌরবিদ্যু নিয়ে বেশি আলোচনা হয়। ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, হাটবাজারসহ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোতে সৌর প্যানেল স্থাপনের মাধ্যমে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আগামীকালের (শনিবার) সভাতেও গুরুত্বপূর্ণ এজেন্ডায় থাকবে সৌরবিদ্যুৎ। জানা গেছে, টেকসই জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাতে দেশের সব উপজেলা পরিষদ, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান এবং হাটবাজারে সৌরবিদ্যুৎ (সোলার পিভি সিস্টেম) স্থাপন বাধ্যতামূলক করেছে সরকার। 

স্থানীয় সরকার বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ৩১ জানুয়ারির মধ্যে দেশের প্রতিটি উপজেলার ইউনিয়ন ও বাজারের স্থায়ী শেডে সোলার প্যানেল স্থাপন নিশ্চিত করতে হবে। মাঠপর্যায়ে এই কাজটি করে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রকৌশলীরা। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দেশের ৬ হাজার ৫৪৪টি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান ও বাজারের ছাদ বা স্থায়ী অবকাঠামো এই প্রকল্পের আওতায় আনা হচ্ছে। এর আগে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানিয়েছেন, সিটি করপোরেশন, উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন এবং জেলা পরিষদে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের জন্য ৩৭০ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদে ১২০ কোটি টাকা, সিটি করপোরেশনে ৭৫ কোটি টাকা, উপজেলা পরিষদে ৯৯ কোটি টাকা, পৌরসভায় ৬৪ কোটি টাকা ও জেলা পরিষদে ১২ কোটি দেওয়া হয়েছে। 

লক্ষ্য হচ্ছে এসব প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা। স্থানীয় সরকার বিভাগের এক কর্মকর্তা বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, সম্প্রতি দেশের গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবনগুলোতে পর্যায়ক্রমে সৌর প্যানেল স্থাপনের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সৌরবিদ্যুৎ নিয়ে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্ভাবনা কাজে লাগাতে চায় সরকার। এ ছাড়া ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান নিয়ে আলোচনা হবে সভায়। গত ১২ সেপ্টেম্বর ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, যা আগামী ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে। সারা দেশে আগামী পাঁচ বছরে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে  ২৫ কোটি গাছের চারা রোপণ করা হবে। কোন উপজেলায় কী অবস্থা সেটি জানতে পারে সভায়।