জ্ঞান-বিজ্ঞান-প্রযুক্তির উৎকর্ষতা নির্ভর একটি সমন্বিত শিল্প, ওষুধ শিল্প। এটি একটি অধিক উন্নত এবং প্রযুক্তি নির্ভর বর্ধনশীল খাত। দেশের ওষুধ শিল্প অভ্যন্তরীণ চাহিদার শতকরা ৯৮ ভাগ মিটিয়ে বিশ্বের ১৬০টি দেশে রফতানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছে। যা দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বা উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখছে। বৈশি^ক চ্যালেঞ্জ ও অর্থনৈতিক মন্দার মধ্যেও গত অর্থ বছরেই ওষুধ রফতানি করে এই খাত আয় করেছে ৩ হাজার কোটি টাকা। শুধু এশিয়াই নয়; উন্নত দেশগুলোতেও রয়েছে বাংলাদেশি ওষুধের সমান বিচরণ। বিশেষ করে ইউরোপ, আমেরিকা এমনকি আফ্রিকায়ও। তবে বাংলাদেশের ওষুধ শিল্পের বিশাল সম্ভাবনা সঠিক ও দূরদর্শী নীতি-কৌশলের অভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। উদ্যোক্তারা মনে করেন, দেশীয় উৎপাদন ব্যবস্থা জটিলতা দূর করা গেলে আরো বেশি রফতানি সম্ভব বহু দেশে। তবে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে ট্রাম্প প্রশাসনের বিশেষ কিছু ওষুধে শূন্যশুল্ক নীতিতেও। তবে এই সম্ভাবনায় কাঁচামাল ও জ্বালানি সংকটসহ নানা বাধা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একসময় দেশে ক্যান্সার, কিডনি, লিভার, ফুসফুসের কার্যকর কোনো ওষুধ ছিল না বললেই চলে। বর্তমানে এসব রোগের চিকিৎসায় মানসম্পন্ন ওষুধ উৎপাদনে বাংলাদেশ অনেক এগিয়ে গেছে। দেশেই জীবনরক্ষাকারী ওষুধ মেলে সহজেই। ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান, চিকিৎসক এবং সরকারের পক্ষ থেকে সমন্বিত উদ্যোগের কারণে দেশের অভ্যন্তরেই ক্যান্সার প্রতিরোধে স্বল্পদামে নতুন নতুন ওষুধ তৈরি হওয়ার কারণে মানুষের মাঝে আস্থা ও স্বস্তি দুইই বেড়েছে। দেশে উৎপাদিত ওষুধগুলোর উচ্চমান বিদেশেও প্রশংসিত হয়েছে। তৈরি পোশাক খাতের বাইরে রফতানি আয়ে ভরসা দিচ্ছে ওষুধ শিল্প। যদিও পোশাক খাতের মতো সুবিধা পেলে এই খাত অনেক আগেই সবাইকে ছাড়িয়ে যেত বলে মনে করছেন তারা।
খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের ওষুধ শিল্পখাত বরাবরই সরকার থেকে কোনো ধরনের প্রণোদনা সহায়তা পায় না। প্রণোদনা সহায়তা ছাড়াই এই খাতে দেশের এক বড় অঙ্কের জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান তৈরিতে বড় ভূমিকা রাখছে। যদিও বিগত স্বৈরাচার হাসিনা সরকারের নীতিসহায়তা অনুকূল না হওয়ার কারণে গত ১৭ বছর ধরে ওষুধ শিল্প সেই অর্থে কোনো ধরনের প্রবৃদ্ধি (গ্রোথ) হয়নি। যে কারণে গত ৬ বছর ধরে ফার্মাসিউটিক্যাল মার্কেটের আকার ৩ বিলিয়নেই আটকে আছে। এছাড়া গত ১০ বছর ধরে ওষুধের যৌক্তিক সামঞ্জস্যপূর্ণ দাম সমন্বয় করা হয়নি। যা এই শিল্পকে বিপাকে ফেলছে। একই সঙ্গে চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশনের ক্ষেত্রে ‘জেনেরিক নাম’ ব্যবহারে এক ধরনের বাধ্যবাধকতা আরোপ করার প্রক্রিয়া চলছে। জেনেরিক নামে যখনই ওষুধ লেখা হবে তখন একজন রুগীকে ওষুধ দেয়ার সিদ্ধান্ত অভিজ্ঞ চিকিৎসকের হাত থেকে একজন ওষুধের দোকানদারের হাতে চলে যাবে। তাই এই শিল্পের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে সরকারের প্রতি বিশেষ নজর দেয়ার তাগিদ এই খাতের উদ্যোক্তাদের।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো প্রফেসর ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, সেন্ট্রাল যেসব সহায়তা করা দেয়া দরকার গ্যাস থেকে শুরু করে অন্যান্য যেসব সেখানে উপাদান দেয়া দরকার। সিইটিপি প্রতিষ্ঠা করা দরকার। রিসার্চ ও ডেভলপমেন্টে বিভিন্ন ধরনের সুবিধা দেয়া দরকার। এগুলো যদি আমরা যদি দিতে পারি তাহলে যারা এপিআই শিল্প পার্কে প্লট নিয়েছেন তারা তখন উৎপাদন করতে পারবেন এবং এপিআই শিল্প পার্কের মাধ্যমে আমরা যদি নিজেরাও কাঁচামালের একটা অংশ উৎপাদন করতে পারি তাহলে কিন্তু আমাদের প্রতিযোগিতার সক্ষমতাটা বাড়বে। একই সঙ্গে এলডিসি উত্তরণের পর মেধাস্বত্ব ও পেটেন্ট জটিলতা মোকাবেলায় প্রস্তুতির পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের প্রফেসর ড. সৈয়দ আব্দুল হামিদ বলেন, আমাদের পোর্টে সমস্যা আছে। শিল্প সংশ্লিষ্টরা যে কাঁচামাল আনে সেই কাঁচামালগুলো আনার ক্ষেত্রেও তাদের অনেক প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হতে হয়। আর যারা এই রফতানিতে প্রতিযোগিতা করবে, যাদের সাথে প্রতিযোগিতা করবো যে সমস্ত দেশ বিশেষ করে ভারত সেখানে কিন্তু এত প্রতিবন্ধকতা বা সমস্যা নেই। এই খাতে ভারত ব্যবসা-বাণিজ্য পরিবেশ তৈরিতে সর্বোচ্চ সুবিধা দিচ্ছে, যা আমাদের থেকে অনেক অনেকগুণ বেশি।
সূত্র মতে, দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদার প্রায় ৯৮ শতাংশ চাহিদা মেটায় দেশীয় ওষুধ শিল্প। তবে এর বাইরে বিশ্ববাজারেও সম্ভাবনার ডানা মেলেছে বহুদিন ধরে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মোট রফতানি হয়েছে ২৪ কোটি ডলার। অর্থাৎ কোয়ার্টার বিলিয়নের কাছাকাছি। বাংলাদেশি ওষুধের বড় বাজার এখন এশিয়ায়। কেননা শ্রীলঙ্কায় রফতানি হয়েছে ৩ কোটি ৬ লাখ ডলারের ওষুধ। এছাড়া মিয়ানমারে প্রায় ৩ কোটি ৭ লাখ ডলার অর্থাৎ দুই দেশ থেকে এসেছে মোট রফতানি আয়ের এক চতুর্থাংশ। তবে এশিয়ার বাইরে উন্নত দেশগুলোতেও রয়েছে সমান বিচরণ। বিশেষ করে ইউরোপ, আমেরিকা এমনকি আফ্রিকায়ও। উদ্যোক্তারা মনে করেন দেশীয় উৎপাদন ব্যবস্থা জটিলতা দূর করা গেলে আরো বেশি রফতানি সম্ভব বহু দেশে।
অবশ্য এই অঞ্চলে ওষুধ শিল্পের যাত্রা শুরু হয় প্রায় ৭৫ বছর আগে ব্রিটিশ-ভারত শাসন আমলে। ষাটের দশকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ফার্মেসি বিভাগ চালু হওয়ার পর ঢাকা ও চট্টগ্রামে কিছু বহুজাতিক ওষুধ কোম্পানি তাদের কাজ শুরু করে। সেখান থেকেই দেশের ওষুধ শিল্পের অগ্রযাত্রা শুরু হয়। এরপর দেশের কিছু উদ্যোক্তা সত্তরের দশকে এসে এই শিল্পে মনোযোগ দেন। আর বর্তমানে ওষুধ শিল্পখাতে এক সাফল্যের নাম। দেশেই উৎপাদন করা হচ্ছে ক্যান্সার, কিডনি, লিভারসহ বিভিন্ন জটিল ও বিরল রোগের ওষুধ। পাশাপাশি এই ওষুধ পাওয়াও সহজ হয়েছে। ফলে রোগীদের বিদেশমুখীতাও অনেক কমে এসেছে। একসময় ক্যান্সার, কিডনি, লিভার, ফুসফুসের কার্যকর কোনো ওষুধ ছিল না বললেই চলে। অথচ দেশের বাজারে এখন এসব রোগের চিকিৎসায় কোনো ধরনের ওষুধের ঘাটতি নেই। ক্যান্সারের মতো রোগের ওষুধ সাশ্রয়ী মূল্যে এখন সর্বত্র পাওয়া যায়। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়- ক্যান্সার সাপোর্টিভ কেয়ারের একটি অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ পেগফিলগ্রাসটিম এক সময় ৪০ হাজার টাকার উপরে দাম ছিল, এখন এই ওষুধ ৪ হাজার টাকায় পাওয়া যায়। অন্যান্য কেমোথেরাপির ওষুধগুলোও দেশে তৈরি হচ্ছে।
এদিকে ওষুধ শিল্প খাতে নতুন নতুন ধরনের জীবনরক্ষাকারী উচ্চমানের ভ্যাকসিন উৎপাদন ওষুধ শিল্পখাতকে রীতিমতো মর্যাদার আসনে আসীন করেছে। আগে একটি প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিনের জন্যে একসময় বিদেশের দিকে হাত পেতে থাকতে হতো। কিন্তু এখন সেই সব ভ্যাকসিন বাংলাদেশেই তৈরি হচ্ছে এবং সাশ্রয়ী মূল্যে জনগণ পাচ্ছে। এটি এক ধরনের বিপ্লব বললেও ভুল হবে না। দেশেই এখন র্যাবিস, র্যাবিস-আইজি, হেপাটাইটিস বি, টাইফয়েড, টিটেনাস, টিটেনাস-আইজি, মিজেলস-রুবেলা, এন্টিভেনাম, ফ্লু ও মেনিনজাইটিস, প্যালিলোভাক্সসহ নানান ধরনের ভ্যাকসিন তৈরি হচ্ছে। এটি সম্ভব হয়েছে দেশের ফার্মাসিস্ট, কেমিস্ট, বায়োকেমিস্ট, বায়োটেকনোলজিস্ট, চিকিৎসক, প্রকৌশলী সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার মধ্যে দিয়ে। অনেক কোম্পানিই এখন বিশ্বমানের ভ্যাকসিন উৎপাদন করার সক্ষমতা দেখিয়েছি-যা বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা কর্তৃকও প্রশংসিত হয়েছে।
তবে শত সম্ভাবনার এই শিল্প ঘিরে এখনও কিছু সমস্যাও রয়ে গেছে। বিশেষত মানহীন ও নকল ওষুধ এই শিল্পের জন্যে সবচেয়ে ক্ষতিকর হয়ে দাঁড়িয়েছে। বড় বড় কোম্পানিগুলো যখন সর্ব প্রচেষ্টা দিয়ে ওষুধের আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করে বিশ্ব বাজারে নিজেদেরকে বিস্তৃত করছে, তখন মানহীন নকল ওষুধ জনজীবনে নানান ধরনের আশংকা তৈরি করছে। মানহীন ওষুধের নেতিবাচক প্রভাব কখনও কখনও আন্তর্জাতিক বাজারে নানান ধরনের ক্ষতির উপসর্গ তৈরি করছে।
এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক শুল্ক সমন্বয়ের ফলে বাংলাদেশের ওষুধ শিল্প কিছু সুযোগ পেতে পারে; তবে তাৎক্ষণিক সুবিধা সীমিত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। কারণ, এই পদক্ষেপের আওতাভুক্ত অত্যন্ত বিশেষায়িত অনেক ওষুধ বর্তমানে বাংলাদেশে উৎপাদিত হয় না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট খাতের নেতারা। ‘ট্রেড এক্সপ্যানশন অ্যাক্ট’-এর ২৩২ নম্বর ধারার আওতায়, গত মঙ্গলবার থেকে নির্দিষ্ট কিছু লাইসেন্সপ্রাপ্ত ওষুধ ও এর উপাদানের ওপর ১০০ শতাংশ ‘অ্যাড ভ্যালরেম’ শুল্ক (পণ্যের মূল্যের নির্দিষ্ট শতাংশ হারে ধার্যকৃত আমদানি শুল্ক) আরোপের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণার একটি সংযুক্তি তালিকায় উল্লিখিত কোম্পানিগুলোর জন্য ৩১ জুলাই থেকেই এই শুল্ক কার্যকর হয়েছে এবং আওতাভুক্ত অন্যান্য কোম্পানির ক্ষেত্রে তা ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।
যোগ্য দেশ বা অঞ্চলের তালিকায় বাংলাদেশের পাশাপাশি আর্জেন্টিনা, কম্বোডিয়া, ইকুয়েডর, এল সালভাদর, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, গুয়াতেমালা, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, জাপান, জর্ডান, মালয়েশিয়া, উত্তর মেসিডোনিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, সুইজারল্যান্ড ও লিচেনস্টাইন, তাইওয়ান, থাইল্যান্ড, যুক্তরাজ্য এবং ভিয়েতনাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই শুল্ক সমন্বয়ের আওতায়, যোগ্য দেশ বা অঞ্চলগুলো থেকে আসা নির্দিষ্ট কিছু ওষুধ ও সংশ্লিষ্ট উপাদানের ওপর কোনো শুল্ক (শূন্য শতাংশ অ্যাড ভ্যালরেম শুল্ক) আরোপ করা হবে না।
আওতাভুক্ত পণ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘অরফান ড্রাগ’ (বিরল রোগ বা ‘অরফান ডিজিজ’-এর চিকিৎসা, প্রতিরোধ বা রোগ নির্ণয়ের জন্য বিশেষভাবে তৈরি ওষুধ), নিউক্লিয়ার মেডিসিন, প্লাজমা-ভিত্তিক চিকিৎসা পদ্ধতি, প্রজননক্ষমতা বৃদ্ধির ওষুধ, সেল থেরাপি বা কোষ-ভিত্তিক চিকিৎসা পণ্য, জিন থেরাপি পণ্য এবং অ্যান্টিবডি-ড্রাগ কনজুগেট। এছাড়া এই তালিকায় আরও রয়েছেÑরাসায়নিক, জৈবিক, তেজস্ক্রিয় ও পারমাণবিক হুমকি মোকাবিলায় ব্যবহৃত চিকিৎসা-সামগ্রী, মার্কিন কর্তৃপক্ষের চিহ্নিত অন্যান্য বিশেষায়িত ওষুধ এবং নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে প্রাণিস্বাস্থ্যের জন্য ব্যবহৃত ওষুধ।
তবে ওষুধ শিল্পখাতের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিরা বলেছেন, শুল্ক সংক্রান্ত এই পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশের জন্য তাৎক্ষণিক রফতানি সুবিধা পাওয়া নিশ্চিত নয়; কারণ স্থানীয় উৎপাদকদের কাছে এ ধরনের বিশেষায়িত পণ্য উৎপাদনের সক্ষমতা সীমিত।
বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের নির্বাহী পরিচালক শওকত হায়দার বলেন, যেসব অত্যন্ত জটিল বা উন্নত মানের ওষুধ বাংলাদেশ উৎপাদন করে না, সেসব ক্ষেত্রে শুল্ক পরিবর্তনের ফলে দেশটির খুব একটা লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা নেই। তিনি বলেন, শুল্ক পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য কোনো সুবিধা পাবে না, কারণ আমরা এ ধরনের অত্যন্ত জটিল বা উন্নত মানের ওষুধ উৎপাদন করি না। তিনি উল্লেখ করেন, প্রয়োজনীয় পরিসর ও মান বজায় রেখে এ ধরনের জটিল ওষুধ উৎপাদনের সক্ষমতা দেশের ওষুধ শিল্পের এখনো গড়ে ওঠেনি। এই সক্ষমতা অর্জনের জন্য প্রযুক্তি, গবেষণা ও উন্নয়ন, উৎপাদন অবকাঠামো এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার নিয়মকানুন মেনে চলার ক্ষেত্রে বিপুল বিনিয়োগের প্রয়োজন হবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশে প্রাণী-চিকিৎসা বা পশুস্বাস্থ্যের জন্য ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা সীমিত এবং যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর নিয়ন্ত্রণাধীন বাজারের চাহিদা পূরণের মতো যথেষ্ট উন্নত পর্যায়ে এই শিল্প এখনো পৌঁছাতে পারেনি।
শওকত হায়দারের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের ওষুধ বাজারে প্রবেশ করাটা বিশেষভাবেই চ্যালেঞ্জিং; কারণ সেখানে ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের মতো দেশগুলোর প্রতিষ্ঠিত উৎপাদকদের কাছ থেকে তীব্র প্রতিযোগিতার মুখে পড়তে হয় বাংলাদেশি কোম্পানিগুলোকে।
ওয়ান ফার্মা লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কেএসএম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, দেশীয় উৎপাদন ব্যবস্থার জটিলতা দূর করা গেলে আরো বেশি রফতানি সম্ভব বহু দেশে। বিশেষ করে সম্ভাবনায় এই শিল্পে কাঁচামাল ও জ্বালানি সংকটসহ নানা বাধা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি বলেন, ওষুধ রফতানিতে মূল চ্যালেঞ্জ দুইটা। একটা হচ্ছে যেই দেশ আমদানি করবে তাদের যে চাহিদা থাকবে সেটা মিটানো। দ্বিতীয়ত রেজিস্ট্রেশনের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। এক বছর থেকে শুরু করে কখনো কখনো তিন বছর সময় লেগে যায়।
বাংলাদেশ ওষুধ শিল্প সমিতির মহাসচিব ডা. মো. জাকির হোসেন বলেন, গ্যাস সমস্যা, বিদ্যুৎ সমস্যা, নিরাপত্তা সমস্যা কোনটাই পাচ্ছি না। অথচ আমরাতো বড় অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগ করেছি। যার ব্যাংক ইন্টারেস্ট দিতে হচ্ছে প্রতি মাসে। তিনি বলেন, সম্ভাবনাময় এই খাতটি শুধুমাত্র সঠিক নীতি-সুবিধার অভাবে এখনও ধুকছে। অথচ সরকারের বিশেষ নজর থাকলে এই খাত অনেক আগেই পোশাক খাতকে ছাড়িয়ে যেতো পারতো। ডা. মো. জাকির হোসেন বলেন, ওষুধ রফতানির এই সম্ভাবনা, এখন আরো বড় সুযোগ তৈরি হয়েছে ট্রাম্প প্রশাসনের সাম্প্রতিক ঘোষণায়। যা নতুনভাবে সুযোগ তৈরি করেছে। তবে এই সুবিধা এখনই নয়; ভবিষ্যতে পাবো। কেননা কিছু বিরল রোগের ওষুধে শর্তসাপেক্ষে দেয়া হয়েছে শূন্য শুল্ক সুবিধা। ফলে প্রায় ২ কোটি ডলারের এই রফতানি বাজার ঘিরেও তৈরি হয়েছে বাড়তি প্রত্যাশা। তবে কাঁচামালের ক্ষেত্রে বিদেশী নির্ভরতা, গ্যাস বিদ্যুতের অনিশ্চয়তা ও বাড়তি উৎপাদন ব্যয় পিছিয়ে দিতে পারে প্রতিযোগিতা থেকে।