পটুয়াখালীর গলাচিপায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে সাজাপ্রাপ্ত ওয়ারেন্টভুক্ত এক আসামিকে নিয়ে আইনশৃঙ্খলা সভায় অংশ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এক বছরের সাজাপ্রাপ্ত ওই আসামির বিরুদ্ধে আদালত থেকে পাঠানো ওয়ারেন্টের কাগজ গত দুই দিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে গত সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলা পরিষদের নতুন সম্প্রসারিত ভবনের চতুর্থ তলার হলরুমে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মাসিক আইনশৃঙ্খলা কমিটির ওই সভায় গলাচিপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমতিয়াজ আহমেদসহ উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট কমিটির সদস্যদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন মোছাম্মদ রেনু আক্তার। তিনি উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক। তার বিরুদ্ধে এক বছরের সাজাপ্রাপ্ত একটি মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে।
সাজাপ্রাপ্ত ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি রেনু আক্তারকে গ্রেফতার না করার বিষয়ে জানতে চাইলে গলাচিপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে, সেটি আমরাও জানি। পুরো বিষয়টি আমরা জানার চেষ্টা করছি। জেনে আপনাকে জানানো হবে।’
তিনি বলেন, ‘সভাটির আয়োজক উপজেলা প্রশাসন। সেখানে কে উপস্থিত থাকবে আর কে থাকবেন না, সেটি তাদের ব্যাপার। প্রতিদিন অনেক ওয়ারেন্ট থাকে থানায়, সবগুলোর নাম আমার তাৎক্ষণিক জানা থাকে না। ওনার নামে ওয়ারেন্ট আছে কি না, সেটি আমরা জানার চেষ্টা করছি।’
এদিকে রেনু আক্তারের বিরুদ্ধে সিআর মামলা নম্বর ৪৭৯/১৭-এর ওয়ারেন্ট ইস্যুর একটি কপি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ওই কপিতে তাকে আদালতে হাজির করার নির্দেশসংবলিত আদেশ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিল-স্বাক্ষর দেখা যায়। নথিতে থাকা তথ্য অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধে এক বছরের সাজা রয়েছে এবং তাকে আদালতে হাজির করার জন্য ওয়ারেন্ট জারির বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে।
জানতে চাইলে রেনু আক্তার বলেন, ‘ওই মামলায় আমি গত মাসে হাইকোর্ট থেকে জামিন নিয়েছি।’ জামিনের কপি বা আইনজীবীর নাম জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমার মনে নাই।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুজর মো. ইজাজুল হক জানান, রেনু আক্তার কমিটির সদস্য নন, তবে উপজেলা বিএনপির সভাপতির সঙ্গে এসেছিলেন। তিনি বলেন, ‘সাজা বা ওয়ারেন্টের বিষয়টি তো পুলিশের দেখার কথা, আমাদের না। ওসি সাহেব তো এই কমিটির সেক্রেটারি।’