ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়াই ব্যান্ডউইথ ব্যবসায় জোটবদ্ধ হওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে বেসরকারি সাবমেরিন ক্যাবল নির্মাণের লাইসেন্স পাওয়া তিন কোম্পানি। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, কনসোর্টিয়ামের মাধ্যমে দেশের ইন্টারনেট ব্যবসার বড় অংশ কুক্ষিগত করার পথ তৈরি হচ্ছে।
মন্ত্রণালয়ের দাবি, তিন প্রতিষ্ঠানকে আলাদাভাবে লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে; যৌথভাবে ব্যবসার অনুমতি দেওয়া হয়নি। এমন উদ্যোগ আইনবিরুদ্ধ এবং বাজার নিয়ন্ত্রণের কৌশল বলেও মনে করছে মন্ত্রণালয়। তবে তিন কোম্পানির দাবি, লাইসেন্স দেওয়ার সময় জোটবদ্ধভাবে ব্যবসা করার ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়নি।
দেশের প্রথম বেসরকারি সাবমেরিন ক্যাবল প্রকল্প বাস্তবায়নে ২০২৩ সালের শেষ দিকে কনসোর্টিয়াম গঠন করে সামিট কমিউনিকেশনস, সিডিনেট কমিউনিকেশন্স ও মেটাকোর সাবকম। তিন প্রতিষ্ঠান মিলে এ পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। প্রকল্পের জন্য সাতটি মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন মিললেও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) অনুমোদন এখনো বাকি। এর মধ্যে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের আপত্তি নতুন করে জটিলতা তৈরি করেছে।
ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, মন্ত্রণালয়ের পূর্বানুমোদন ছাড়া আলাদাভাবে লাইসেন্স পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর যৌথভাবে কনসোর্টিয়াম করার সুযোগ নেই। তারা অনুমতি ছাড়াই কনসোর্টিয়াম করেছে। সরকারের তৃতীয় সাবমেরিন ক্যাবল সি-মি-উই-৬ প্রকল্পের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বেসরকারি সাবমেরিন ক্যাবল এলে সরকারের ১ হাজার ২০০ কোটি টাকার কী হবে।
সিডিনেটের সিইও মশিউর রহমান বলেন, ব্যবসার জন্য প্রয়োজনীয় নয়টি লাইসেন্সের মধ্যে সাতটির অনুমোদন পাওয়া গেছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনও রয়েছে। কিন্তু ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের একটি চিঠিতে কার্যক্রম আটকে আছে। অক্টোবরের মধ্যে ছাড়পত্র পেলে নভেম্বরে কাজ শুরু করে ফেব্রুয়ারিতে অপারেশনাল কার্যক্রম শুরুর আশা করছেন তারা। সাধারণ আইএসপি ও ক্ষুদ্র ইন্টারনেট ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, তিন কোম্পানির এই জোট বাজারে সিন্ডিকেট তৈরি করে ব্যান্ডউইথের দাম নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। এতে ছোট অপারেটররা প্রতিযোগিতা থেকে ছিটকে পড়ার পাশাপাশি গ্রাহক পর্যায়ে ইন্টারনেটের দাম বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বিটিআরসির জরুরি হস্তক্ষেপ চেয়েছেন তারা।
অন্যদিকে, দেশে ব্যান্ডউইথ সংকটের আশঙ্কাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করা হচ্ছে। বর্তমানে দুটি সাবমেরিন ক্যাবলের সক্ষমতা প্রায় ৭ হাজার জিবিপিএস। ২০২৭ সালে সি-মি-উই-৬ চালু হলে সরকারি সক্ষমতা ৩৪ হাজার জিবিপিএসে উন্নীত হবে। বিটিআরসির হিসাবে, ২০৩০ সালে জাতীয় চাহিদা হতে পারে ৩০ হাজার জিবিপিএস। অথচ ২০২৭ সালের মধ্যেই সরকারি সাবমেরিন ক্যাবল ও আইটিসির সম্মিলিত সক্ষমতা ৪১ হাজার জিবিপিএস ছাড়াবে।