Image description

বেদখল ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ধ্বংসের পথে ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার ঐতিহাসিক বাইশরশি জমিদারবাড়ি। ইতোমধ্যে কয়েকটি ভবন নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। টিকে থাকা দালানকোঠাগুলোও জরাজীর্ণ। মূল্যবান দরজা-জানালা ও লোহার কারুকার্যখচিত প্রত্ননিদর্শন চুরি হচ্ছে নিয়মিত। সন্ধ্যার পর বাড়িটি পরিণত হয় চোর ও মাদকসেবীদের আড্ডাস্থলে।

দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে দর্শনার্থীরা ঐতিহাসিক এ জমিদারবাড়ি দেখতে এলেও বেহাল দশা দেখে হতাশ হয়ে ফিরছেন। ভবনের দেয়ালের ইট-সুরকি খসে পড়ছে। ইটের ফাঁকে জন্মেছে বট ও ডুমুরগাছ, দেয়ালে জমেছে শেওলা। স্থানীয়দের অভিযোগ, বাড়িটির চারপাশের অনেক জমি ভূমিদস্যুরা দখল করে নিয়েছে। প্রশাসনের কাছে একাধিকবার অভিযোগ ও দাবি জানিয়েও প্রতিকার মেলেনি। স্থানীয় সূত্র জানায়, আঠারো শতকের শুরুর দিকে প্রভাবশালী বাইশরশি জমিদাররা ফরিদপুর, বরিশালসহ ২২টি পরগনা বা জোতমহলের অধিপতি ছিলেন। সুকুমার চন্দ্র রায় বাহাদুর সদরপুরের বাইশরশি গ্রামে প্রায় ৫০ একর জমির ওপর বিশাল এ জমিদারবাড়ি নির্মাণ করেন। বাগানবাড়ি, পাঁচটি শান বাঁধানো পুকুর, দুটি পূজামণ্ডপ এবং দ্বিতলবিশিষ্ট ছোটবড় ১৪টি দালানকোঠা নিয়ে গড়ে উঠেছিল বাড়িটি।

জানা যায়, সতেরো শতকের গোড়ার দিকে লবণ ব্যবসায়ী সাহা পরিবার বিপুল সম্পদের মালিক হয়ে কয়েকটি জমিদারি পরগনা কিনে জমিদারি গ্রহণ করে। আঠারো শতক থেকে ১৯৪৭ সালে ভারত ভাগের আগ পর্যন্ত পরিবারটির সম্পদ ও জমিদারি বিস্তৃত হয়। ১৯৪৭ সালের পর ১৯৬২ সালে জমিদারি প্রথা বিলুপ্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত কলকাতা থেকে জমিদারি পরিচালনা করা হতো।

প্রথা বিলুপ্তির পর জমিদার সুকুমার চন্দ্র রায় বাহাদুর ছাড়া পরিবারের সবাই কলকাতায় চলে যান। ১৯৭১ সালে সুকুমার আত্মহত্যা করলে বাড়িটি পুরোপুরি পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে।

গত বছর বাড়িতে সোনাভর্তি কলস রয়েছে-এমন গুজবে একটি চক্র রাতের আঁধারে বিভিন্ন স্থানে খোঁড়াখুঁড়ি শুরু করে। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় সংসদ সদস্যের হস্তক্ষেপে তা বন্ধ হয়।

খুলনা থেকে আসা বিধান রায় ও সুকদেব সরকার বলেন, ‘অনেক আশা নিয়ে বাড়িটি দেখতে এসেছিলাম। কিন্তু দেখার মতো কিছুই নেই। যা আছে, তাও ধ্বংসের পথে। বাড়িটি সংরক্ষণ করা সরকারের উচিত।’

স্থানীয় বাসিন্দা প্রভাত কুমার রায় বলেন, ‘দখল ও নজরদারির অভাবে বাড়িটির সবকিছুই শেষ হওয়ার পথে। এখনো যে স্মৃতিটুকু আছে, তা আগামী প্রজন্মের জন্য বাঁচিয়ে রাখা উচিত।’

ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবুল বলেন, ‘বাইশরশি জমিদারবাড়ি আমাদের ইতিহাসের অংশ। এ বাড়িটি সংরক্ষণের জন্য সরকারের কাছে আবেদন জানানো হবে।’