খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে রোগীর ইসিজি পরীক্ষা, রোগী ভর্তি ফি ও বহির্বিভাগে চিকিৎসা নেওয়ার ইউজার ফিসহ নানা খাতে অর্থ আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে। ২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হাসপাতালে জরুরি বিভাগের প্রায় ১ লাখ ৫৩ হাজার রোগীর কাছ থেকে আদায় করা অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করা হয়। এরই মধ্যে জরুরি বিভাগের ইনচার্জ সিনিয়র স্টাফ নার্স সুজিত বিশ্বাসকে অভিযুক্ত করে কৈফিয়ত তলব করা হয়েছে। বিষয়টি জানাজানি হলে ঘটনায় জড়িত সিন্ডিকেট ১২ লাখ টাকা দিয়ে দুর্নীতি ধামাচাপা দেওয়ার মিশনে নেমেছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি রোগী ও বহির্বিভাগে চিকিৎসা বাবদ ইউজার ফি ১১ মাসে প্রায় ১৮ লাখ টাকা লুটপাট করা হয়েছে। ইসিজি পরীক্ষাসহ আরও কয়েকটি খাতেও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে।
খুমেক হাসপাতালের ক্যাশিয়ার মো. আলিমুজ্জামান, জরুরি বিভাগের ইনচার্জ সুজিত বিশ্বাস, সিনিয়র স্টাফ নার্স মেহেদী হাসান, প্রবীণ বিশ্বাস ও আতাউর রহমান এই সিন্ডিকেটে জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে। সিনিয়র স্টাফ নার্স সুজিত বিশ্বাসকে ২০২৪ সালের ২৯ ডিসেম্বর থেকে জরুরি বিভাগের ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। প্রতি মাসেই জরুরি বিভাগ থেকে আদায় হওয়া অর্থ ক্যাশিয়ারের মাধ্যমে ব্যাংকে জমা দেওয়ার কথা থাকলেও সিন্ডিকেটটি ২০২৫ সালের অক্টোবরের পর থেকে কোনো টাকা জমা দেয়নি। এর মধ্যে গত আগস্ট মাসে সুজিত বিশ্বাস এক মাসের ছুটিতে থাকাকালীন তার দায়িত্বে ছিলেন সিনিয়র স্টাফ নার্স মেহেদী হাসান ও প্রবীণ বিশ্বাস। তারাও আদায়কৃত টাকা জমা দেননি। অভিযোগ রয়েছে, প্রতি মাসে মো. আলিমুজ্জামানকে নির্দিষ্ট পরিমাণে ঘুষ দিয়ে বাকি টাকা সিন্ডিকেটের মধ্যে ভাগাভাগি হতো। সিন্ডিকেটের দুজন সদস্য ইন্টারনেটের জুয়ায় আসক্ত ও একজন সম্প্রতি জমি ক্রয় করেছেন বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে ক্যাশিয়ার মো. আলিমুজ্জামান ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, মাসের পর মাস টাকা জমা না দেওয়ার ঘটনা তিনি হাসপাতালের পরিচালককে একাধিকবার জানিয়েছেন। কিন্তু ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তবে হাসপাতালের পরিচালক ডা. কাজী আইনুল ইসলাম বলেন, হাসপাতালের বিভিন্ন উৎস থেকে আদায়কৃত টাকা প্রতি মাসে একসঙ্গে যাচাই করা হয়। মাসের পর মাস জরুরি বিভাগের এ খাতে আদায় শূন্য দেখানো হচ্ছিল। তিনি ক্যাশিয়ারকে জিজ্ঞাসা করলে ‘দুয়েক মাস বকেয়া, দিয়ে দেবে’ এমন তথ্য দিতেন। সন্দেহ হলে তিনি রেজিস্ট্রার খাতা যাচাই করলে বিষয়টি ধরা পড়ে। এরই মধ্যে পাঁচ সদেস্যর কমিটি করা হয়েছে। তদন্তে দোষীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযুক্ত সুজিত বিশ্বাস জানান, তিনি কোনো কিছু না ভেবে টাকা তার নিজের কাছে রেখেছিলেন। আজ দেব কাল দেব বলে এই টাকা জমা দেওয়া হয়নি। তাকে কৈফিয়ত তলব করার পর তিনি ১২ লাখ টাকা নিয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু সব টাকা একসঙ্গে তাকে জমা দিতে বলা হয়েছে।