Image description

হামলার পর গ্রেফতার, দায়িত্বে অবহেলায় ওসি প্রত্যাহার, তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস; সবই হচ্ছে। তবু স্বাস্থ্যকেন্দ্র, বসতবাড়ি কিংবা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ কাটছে না। কোথাও চিকিৎসাকেন্দ্রে হামলা ও লুটপাট, কোথাও দিনের আলোয় বাড়ি দখলের অভিযোগ, আবার কোথাও চাঁদা না দেওয়ায় অফিস ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠছে। ক্ষমতার পালাবদলের পরও এসব ঘটনার পুনরাবৃত্তি মানুষের মনে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে, অপরাধের পর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, কিন্তু অপরাধ ঘটানোর সাহস ও সুযোগ বন্ধ হবে কবে?

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও হামলা, দখল ও চাঁদাবাজি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ৭ মাসের বেশি সময় পেরিয়েছে। রাজনৈতিক বাস্তবতা বদলেছে, কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো নাগরিকের জানমাল ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চ্যালেঞ্জ আবার সামনে এনেছে।

মানবাধিকারকর্মী ও সমাজ বিশ্লেষকদের মতে, অপরাধে জড়িত ব্যক্তির পরিচয় কিংবা ঘটনার ধরন বদলালেই পরিস্থিতির পরিবর্তন হয় না। পরিবর্তনের প্রমাণ মিলবে তখনই, যখন রাজনৈতিক প্রভাব অপরাধীর সুরক্ষা হয়ে দাঁড়াবে না এবং আইন প্রয়োগের মানদণ্ড হবে সবার জন্য এক।

ঘটনার পর ব্যবস্থা, প্রতিরোধের ঘাটতি কোথায়?

গত কয়েক দিনে রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট, ইসিবি চত্বরে কনটেন্ট নির্মাতা সালমান মুক্তাদিরের প্রতিষ্ঠানে হামলা এবং মোহাম্মদপুরে দিনের বেলায় হামলা চালিয়ে বাড়ি দখলের অভিযোগ উদ্বেগ বাড়িয়েছে। রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলার ঘটনায় ৯ জনকে গ্রেফতারের কথা জানিয়েছে পুলিশ। দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। সালমান মুক্তাদিরের প্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনায় চার জনকে গ্রেফতারের কথা জানিয়েছে ক্যান্টনমেন্ট থানা পুলিশ।

তবে মানবাধিকারকর্মীদের প্রশ্ন, প্রত্যক্ষ হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি পরিকল্পনাকারী ও পৃষ্ঠপোষকদেরও কি জবাবদিহির আওতায় আনা হচ্ছে? রাজনৈতিক প্রভাব থাকলে সেই প্রভাব অতিক্রম করে আইন প্রয়োগ করা যাচ্ছে কি?

রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সাংবাদিকদের বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট ওসির দায়িত্বে অবহেলা ছিল। তাকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা কঠোর অবস্থানে আছি। তদন্তে যারই সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে, তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রশাসনিক কারণ, দায়িত্বে অবহেলা বা কোনও ঘটনায় সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেলে ওসিদের বদলি করা হয়। তবে বদলিই শেষ ব্যবস্থা নয়; প্রয়োজন হলে বিভাগীয় ও ফৌজদারি ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে।’

সালমান মুক্তাদিরের অভিযোগ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সালমান মুক্তাদির যদি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বা মামলা করেন, আমরা তা তদন্ত করে দেখবো। গণতন্ত্র ও বাকস্বাধীনতার অধিকার সবারই আছে, কিন্তু অভিযোগের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট তথ্যও থাকতে হবে।’

‘অপরাধের সংস্কৃতি বদলাতে হবে’

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের সিনিয়র সমন্বয়কারী আবু আহমেদ ফয়জুল কবিরের মতে, এসব ঘটনার পুনরাবৃত্তি শুধু আইনশৃঙ্খলার তাৎক্ষণিক সমস্যা নয়; এর সঙ্গে ক্ষমতার অপব্যবহার ও জবাবদিহির সংকটও যুক্ত।

তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘হামলা, ভাঙচুর, দখলবাজি ও চাঁদাবাজি কোনও স্বাভাবিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অংশ হতে পারে না। আরও গুরুত্বপূর্ণ হলো, সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে এসব অপরাধের চরিত্র বা প্যাটার্ন কিছুটা বদলালেও যদি প্রবণতাটি থেকে যায়, তাহলে আমাদের বুঝতে হবে সমস্যাটি শুধু কোনও একটি দল, গোষ্ঠী বা সময়ের নয়। এর সঙ্গে ক্ষমতার অপব্যবহার, রাজনৈতিক প্রভাব, দুর্বল জবাবদিহি এবং আইনের অসম প্রয়োগের একটি গভীর সম্পর্ক রয়েছে।’

অপরাধীর রাজনৈতিক পরিচয়ের চেয়ে অপরাধের দায়ে তাকে আইনের আওতায় আনার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেন তিনি। তার ভাষায়, ‘সরকার পরিবর্তন হলে যদি শুধু অপরাধীদের পরিচয় পরিবর্তিত হয়, কিন্তু অপরাধের সংস্কৃতি পরিবর্তিত না হয়, তাহলে সেটি রাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়।’

নির্বাচিত সরকারের কাছে মানুষের প্রত্যাশা বেশি থাকার কারণও ব্যাখ্যা করেন এই মানবাধিকারকর্মী। তিনি বলেন, নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সরকার রাজনৈতিক বৈধতার পাশাপাশি নাগরিকের জানমাল, সম্পদ ও অধিকার রক্ষার স্পষ্ট ম্যান্ডেট পায়। মানুষকে যদি হামলা, দখল কিংবা চাঁদাবাজির ভয় নিয়েই চলতে হয়, তাহলে আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার কার্যকারিতা ও সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছা প্রশ্নের মুখে পড়ে।

আবু আহমেদ ফয়জুল কবির বলেন, ‘এখন সরকারের সবচেয়ে জরুরি কাজ হচ্ছে শুধু বিচ্ছিন্ন ঘটনা মোকাবিলা করা নয়, এই অপরাধগুলোর পেছনে যে ক্ষমতার কাঠামো ও পৃষ্ঠপোষকতা কাজ করছে, সেটি চিহ্নিত করা এবং যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া। কারণ, শেষ পর্যন্ত মানুষের কাছে কিন্তু সরকারের সাফল্যের মাপকাঠি হয়ে ওঠে মানুষের দৈনন্দিন নিরাপত্তা।’

পরিচয় বদলালেও অপরাধের ধরন বদলায় না

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক সমস্যাটিকে দেখছেন আইন প্রয়োগের কাঠামোর জায়গা থেকে। তার মতে, অন্তর্বর্তী ও নির্বাচিত সরকারের সময়ে অপরাধের ধরনে পার্থক্য থাকলেও মূল প্রশ্ন হলো, অভিযুক্তের পরিচয় অনুযায়ী আইন প্রয়োগের ধরন বদলে যাচ্ছে কিনা।

তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বিভিন্ন পক্ষ সুযোগ অনুযায়ী হামলা, দখল ও চাঁদাবাজিতে জড়িয়েছে বা জড়ানোর চেষ্টা করেছে। নির্বাচিত সরকারের সময়ে ক্ষমতাসীন দলের অঙ্গসংগঠন, সমর্থক বা অনুসারীদের মধ্যে অপরাধপ্রবণ ব্যক্তিরা রাজনৈতিক প্রভাবকে আর্থিক সুবিধা আদায়ের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করতে সক্রিয় হয়ে ওঠে।

‘কোনও অপরাধীর রাজনৈতিক পরিচয় বা ঘটনার সঙ্গে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এক ধরনের প্যাটার্ন অনুসরণ করে, আর ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব বা অন্য কোনও কারণে একই ধরনের অপরাধ ঘটলে আরেক ধরনের প্যাটার্ন দেখা যায়। সব সরকারের সময়ই আমরা এই বৈশিষ্ট্য দেখেছি।’ - ড. তৌহিদুল হক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

ড. তৌহিদুল হক বলেন, ‘কোনও অপরাধীর রাজনৈতিক পরিচয় বা ঘটনার সঙ্গে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এক ধরনের প্যাটার্ন অনুসরণ করে, আর ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব বা অন্য কোনও কারণে একই ধরনের অপরাধ ঘটলে আরেক ধরনের প্যাটার্ন দেখা যায়। সব সরকারের সময়ই আমরা এই বৈশিষ্ট্য দেখেছি।’

তার মতে, অপরাধী শক্তিশালী বা রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী বলে আইনের প্রয়োগ বদলে গেলে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা, তদন্ত শেষ করে অভিযোগপত্র দেওয়া এবং দ্রুত বিচারের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে অভিন্ন মানদণ্ড থাকতে হবে।

রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও বাধার মুখে পড়ে বলে মনে করেন ড. তৌহিদুল হক। তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গিয়ে তারা বাধার মুখে পড়ে, অনেক সময় নিজেরাই হামলার শিকার হয়। আবার কোনও ব্যবস্থা নিলে রাজনৈতিক ট্যাগ দেওয়া হয় বা সমালোচনার মুখে পড়তে হয়। এতে দ্রুত ও পেশাদারভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে এক ধরনের নিরুৎসাহ তৈরি হয়।’

এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সরকারের সদিচ্ছার বাস্তব প্রয়োগ প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিজ্ঞতা ও মতামত, সরকারের সদিচ্ছা এবং উভয় পক্ষের সক্ষমতা সমন্বয় করে পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর জোর দেন এই শিক্ষাবিদ। তিনি বলেন, ‘কোনও ঘটনায় ব্যবস্থা হবে, আবার কোনও ঘটনায় হবে না, এমন অবস্থা চলতে থাকলে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না। রাজনৈতিক, ব্যক্তিগত বা সামাজিক যে ধরনের অপরাধই হোক, প্রয়োজন কার্যকর, দৃশ্যমান ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং আইনের সমান প্রয়োগ।’

সরকার ও ক্ষমতাসীন দলের জন্য ‘অশনিসংকেত’

সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোকে বিচ্ছিন্নভাবে দেখার সুযোগ নেই বলে মনে করছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। রবিবার দেওয়া বিবৃতিতে রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও ইসিবি চত্বরের ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়ে দখল ও চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতাকে সরকার ও ক্ষমতাসীন দলের জন্য ‘অশনিসংকেত’ বলেছে সংস্থাটি।

টিআইবির মতে, রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, কিশোরগঞ্জে জলমহাল দখল নিয়ে সংঘর্ষসহ সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো ২০২৪ সালের আগস্টের পর থেকে বিভিন্ন স্থানে দখল, চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তারের প্রবণতার ধারাবাহিকতা।

সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের একাংশের বিরুদ্ধে বাস টার্মিনাল, বাজার, জলমহাল, বালুমহাল, ক্যাবল-ইন্টারনেট ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন খাতে দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠছে। এসব কর্মকাণ্ড দলীয় কোন্দল ও সহিংসতায়ও রূপ নিচ্ছে।

কার্যকর আত্মশুদ্ধি, কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনি ব্যবস্থা নেওয়া না হলে পরিস্থিতি আরও নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার আশঙ্কা জানিয়েছে টিআইবি। সংস্থাটি বলছে, দলীয় পরিচয় বা রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার কারণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কার্যকর ব্যবস্থা নিতে না পারলে স্বেচ্ছাচারিতা, দুর্নীতি ও বিচারহীনতার সংস্কৃতি পুনঃপ্রতিষ্ঠার ঝুঁকি তৈরি হবে।

‘রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, লুটপাট ও ধ্বংস এবং সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলার ঘটনা শুধু ফৌজদারি অপরাধ নয়; এগুলো মানুষের নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা, সম্পত্তির অধিকার এবং আইনের শাসনের ওপর গুরুতর আঘাত।’- ইজাজুল ইসলাম, নির্বাহী পরিচালক, এইচআরএসএস

হামলাকারীর সঙ্গে নির্দেশদাতাকেও ধরার দাবি

হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির (এইচআরএসএস) নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম সাম্প্রতিক হামলার ঘটনায় প্রত্যক্ষ হামলাকারীদের পাশাপাশি পরিকল্পনাকারী, নির্দেশদাতা, অর্থদাতা ও সহযোগীদের শনাক্ত করার দাবি জানিয়েছেন।

তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, লুটপাট ও ধ্বংস এবং সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলার ঘটনা শুধু ফৌজদারি অপরাধ নয়; এগুলো মানুষের নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা, সম্পত্তির অধিকার এবং আইনের শাসনের ওপর গুরুতর আঘাত।’

রাড্ডায় হামলার সময় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত চেয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত স্বাস্থ্যকেন্দ্র দ্রুত পুনঃস্থাপন, লুট হওয়া টিকা ও স্বাস্থ্যনথি উদ্ধার এবং সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলার ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান তিনি।

তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান তার ইউটিউব চ্যানেলে বলেন, ‘সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুরের ঘটনা অবশ্যই দুঃখজনক এবং এর দায়ীদের শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনা সরকারের দায়িত্ব। তিনি অনেক পরিশ্রম করে জায়গাটি গড়ে তুলেছেন, তাই তার ক্ষোভ ও কষ্ট স্বাভাবিক। তবে ঘটনার পরপরই তিনি যেভাবে বিষয়টিকে চাঁদাবাজি এবং বিএনপির সঙ্গে যুক্ত করে উপস্থাপন করেছেন, পরবর্তী তথ্যের সঙ্গে তার পুরোপুরি মিল পাওয়া যাচ্ছে না।’

তিনি বলেন, ‘পরবর্তী সময়ে সালমান নিজেই বলেছেন, তার কাছে সরাসরি চাঁদা চাওয়া হয়নি এবং বাড়ির মালিকের কাছেও চাঁদা চাওয়া হয়েছিল কিনা, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন। এখন পর্যন্ত যে তথ্য সামনে এসেছে, তাতে জমি নিয়ে দুপক্ষের বিরোধের বিষয়টিই প্রাথমিকভাবে উঠে আসছে। তদন্তে অবশ্য ভিন্ন তথ্যও আসতে পারে। তাই নিশ্চিত না হয়ে কোনও রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তিকে দায়ী করে বক্তব্য দেওয়া দায়িত্বশীলতার পরিচয় নয়।’

ডা. জাহেদ উর রহমান আরও বলেন, ‘সালমান মুক্তাদিরের মতো জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটরের বক্তব্যের প্রভাব ও পৌঁছায় অনেক বেশি। মিসইনফরমেশন, ডিসইনফরমেশন বা ম্যালইনফরমেশন ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রের ক্ষতি করতে পারে। তাই জনপ্রিয় ব্যক্তিদের আরও সতর্কভাবে তথ্য উপস্থাপন করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সরকারকে দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত ও বিচারের আওতায় আনতে হবে।’