Image description

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) গত দেড় দশকের কর্মকাণ্ডে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগের যেন শেষ নেই। দুদকের মামলা, আদালতে অভিযোগপত্র, বিভাগীয় তদন্ত—কোনোটিই থামাতে পারেনি একশ্রেণির কর্মকর্তার প্রভাব। শাস্তির বদলে মিলেছে পদোন্নতি, গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব ও ক্ষমতা। আওয়ামী লীগ আমলে এমপি-মন্ত্রী, রাজনৈতিক প্রভাবশালী মহল ও মন্ত্রণালয়ের একাংশের ছত্রছায়ায় এ বলয় শক্তিশালী হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

ভবনের নকশা অনুমোদন, ভূমি ব্যবহার, প্রকল্প বাস্তবায়ন ও কারিগরি সিদ্ধান্তের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় দীর্ঘদিন ধরে থাকা কর্মকর্তাদের একটি অংশের নাম এসেছে বিভিন্ন মামলা, তদন্ত ও অভিযোগে। তাদের কেউ প্রকৌশল বিভাগের শীর্ষ পদে, কেউ প্রকল্প পরিচালক, আবার কেউ নগর পরিকল্পনা ও ভবনের নকশা অনুমোদনের মতো স্পর্শকাতর দায়িত্বে রয়েছেন।

২০২৪ সালের ১৪ জুলাই গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের স্মারকের পরিপ্রেক্ষিতে সিডিএ থেকে পাঠানো এক চিঠিতে বিভাগীয় মামলা ও দুদকের মামলা চলমান থাকা ১৫ কর্মকর্তার ব্যাপারে তথ্য পাঠানো হয় মন্ত্রণালয়ে। তৎকালীন সচিব মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান স্বাক্ষরিত ওই তালিকায় প্রধান প্রকৌশলী, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, নির্বাহী প্রকৌশলী, সহকারী প্রকৌশলী, অথরাইজড অফিসার ও এস্টিমেটর পদে থাকা কর্মকর্তারা ছিলেন।

তালিকায় ছিলেন তৎকালীন প্রধান প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) ও প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ (ভারপ্রাপ্ত) কাজী হাসান বিন শামস, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী-২ এ এ এম হাবিবুর রহমান, নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাং মনজুর হাসান ও মো. আশরাফুল ইসলাম, চলতি দায়িত্বের নির্বাহী প্রকৌশলী আহম্মদ মঈনুদ্দিন, চলতি দায়িত্বের নির্বাহী প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালক মো. মাহফুজুর রহমান, অথরাইজড অফিসার-১ ও নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ হাসান, সহকারী প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালক আ হ ম মিছবাহ্ উদ্দিন, সহকারী প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) মুহাম্মদ ইলিয়াছ আকতার, উপসহকারী প্রকৌশলী মো. ওসমান সিকদার ও মুহাম্মদ হামিদুল হক ও সৈয়দ গোলাম সরোয়ার এবং উপসহকারী প্রকৌশলী মো. জাহাঙ্গীর আলম। তালিকায় থাকা কাজী হাসান বিন শামস পরে বদলি হয়ে চলে যান।

দুর্নীতির অভিযোগে বিচার চললেও অনেক কর্মকর্তাই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। যেমন কালুরঘাট সড়ক উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পের দুর্নীতির অভিযোগে ২০১০ সালে ২২টি মামলা হয়। প্রথমে ৪৭ জনকে আসামি করা হয়েছিল। পরে ছয়জনের সংশ্লিষ্টতা না পাওয়ায় ৪১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। এসব মামলায় সিডিএর প্রকৌশলী ও ঠিকাদাররা আসামি ছিলেন। আদালত মোহাম্মদ হাসান নামে এক আসামিকে ‘পলাতক আসামি’ হিসেবে উল্লেখ করে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেয়। মামলার পাশাপাশি প্রশাসনিক ব্যবস্থার পথও তখন খোলা হয়েছিল। কিন্তু বিচারাধীন মামলার মধ্যেই মোহাম্মদ হাসান গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন এবং পরে অথরাইজড অফিসার-১-এর দায়িত্ব পান। ভবনের নকশা অনুমোদনসহ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের সঙ্গে যুক্ত এই পদে থাকা অবস্থায় তাকে ২০২৪ সালের নভেম্বরে সাময়িক বরখাস্তের আদেশ দেওয়া হয়।

আরেক কর্মকর্তা মুহাম্মদ ইলিয়াছ আকতার সিডিএর নকশা অনুমোদন প্রক্রিয়ার সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে যুক্ত ছিলেন। তার দায়িত্বের সময় নকশা অনুমোদন, সরকারি জমিকে ব্যক্তিমালিকানাধীন হিসেবে দেখানো, পাহাড় কাটার অনুমতি ও স্বার্থের সংঘাত নিয়ে একাধিক ঘটনা সামনে আসে।

জামালখান আসকারদীঘির ঢালে ১৪ তলা আবাসিক ভবনের নকশা ২০২৩ সালের ১৩ এপ্রিল অনুমোদন দেওয়া হয়। পরিবেশগত ছাড়পত্রের বিষয়টি নিষ্পত্তির আগেই নকশা অনুমোদনের অভিযোগ ওঠে। পরে ২০২৫ সালের ২১ এপ্রিল সিডিএ সেখানে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে ‘স্বপ্নীল আবাসন প্রকল্প’-এর স্থাপনা ভেঙে দেয়। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে নকশা বাতিলের সুপারিশ করা হয়।

আগ্রাবাদ বাদামতলী এলাকায় ডাল্লা মেডিকেলের পেছনে মুনতাসির বিল্ডিং লিমিটেডের ২০ তলা বাণিজ্যিক ভবনের নকশা অনুমোদন দেওয়া হয় ২০২৩ সালের ৫ অক্টোবর। নথিতে ভবনটির বৈধ প্রবেশপথ বা ব্যক্তিমালিকানাধীন সড়ক না থাকার বিষয়টি উঠে আসে। এরপরও গণপূর্ত বিভাগের জমিকে ব্যক্তিমালিকানাধীন দেখিয়ে নকশা অনুমোদন দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রয়োজনীয় অনাপত্তি সনদও ছিল না।

দক্ষিণ কাট্টলীর ২০২০-২১ সালের ৭২২ নম্বর মামলার নথিতেও সরকারি জমিকে ব্যক্তিমালিকানাধীন দেখানোর বিষয়টি রয়েছে। পরিদর্শক আপত্তি তুলে খতিয়ান যাচাইয়ের সুপারিশ করেছিলেন। সিডিএর একটি সূত্র জানিয়েছে, এসব ঘটনার পর অথরাইজড অফিসার পদে পদোন্নতির জন্যও তদবির চলছে।

আরেকটি ঘটনায় সামনে আসে অস্ত্র মামলা ও পরবর্তী পদোন্নতি। সিডিএর সহকারী সচিব ও সাবেক এস্টেট কর্মকর্তা মো. আলমগীর খানের ব্যবহৃত গাড়ি থেকে ২০১১ সালে স্টেশন রোড এলাকায় র্যাব বিদেশি পিস্তল ও নয়টি গুলি উদ্ধার করে। পরে অস্ত্র আইনে আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়।

২০১২ সালের মাঝামাঝি আত্মসমর্পণের পর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। দুই মাস পর জামিনে মুক্তি পান তিনি। মামলাটি এখনো বিচারাধীন। কিন্তু তার চাকরি আছে। অভিযোগপত্র দাখিলের পরও নিয়মিত বেতন পেয়েছেন এবং ১১তম গ্রেড থেকে নবম গ্রেডে পদোন্নতি পেয়েছেন।

সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৩৯ ধারায় কোনো কর্মকর্তা গ্রেপ্তার বা তার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল হলে সাময়িক বরখাস্তসহ প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। আলমগীর খানের ক্ষেত্রে গ্রেপ্তার, কারাবাস ও অভিযোগপত্রের পরও চাকরি বহাল থাকা এবং পরে পদোন্নতি পাওয়ার বিষয়টি সেই প্রশাসনিক ব্যবস্থার প্রয়োগের প্রশ্ন সামনে আনে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আলমগীর খান বলেন, ‘এসব তথ্য আপনারা কোথায় পান।’ এরপর তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরে একাধিকবার ফোন ও বার্তা পাঠিয়েও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তার রাজনৈতিক যোগাযোগের কারণে অস্ত্র মামলার পরও পদোন্নতি হয়েছে—এমন অভিযোগ রয়েছে। চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজম নাছিরের আত্মীয় ও ঘনিষ্ঠতার কারণে তিনি পদোন্নতি পেয়েছেন—এমন দাবিও করা হয়েছে। বর্তমানে সহকারী সচিব পদে থাকা আলমগীর খান সচিব পদে দায়িত্ব নেওয়ার চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এরই মধ্যে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সিডিএর অধীনে নেওয়া ১৩ প্রকল্পে কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না, তা তদন্ত চালাচ্ছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের গঠিত কমিটি। ২০২৪ সালের ১১ ডিসেম্বর গঠিত তদন্ত কমিটিতে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মনিটরিং অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. কামাল উদ্দিনকে আহ্বায়ক ও সিডিএর সচিব রবীন্দ্র চাকমাকে সদস্য সচিব করা হয়।

একই সময়ে ৩১ ডিসেম্বর ও ৫ জানুয়ারি কমিটির সদস্য সচিব রবীন্দ্র চাকমা স্বাক্ষরিত পৃথক দুটি চিঠিতে ১৩ প্রকল্পের পরিচালকদের কাছ থেকে ২১ ধরনের তথ্য চান। তদন্তের আওতায় থাকা প্রকল্পগুলো হলো—এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, বহদ্দারহাট ফ্লাইওভার, মুরাদপুর ফ্লাইওভার, কদমতলী ফ্লাইওভার, জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্প, কালুরঘাট-চাক্তাই রিং রোড প্রকল্প, বাকলিয়া এক্সেস রোড, চিটাগাং সিটি আউটার রিং রোড, সিডিএ স্কয়ার, কল্পতরু প্রকল্প, সল্টগোলা ডরমেটরি, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন মাস্টার প্ল্যান ও বায়েজিদ লিংক রোড প্রকল্প। তদন্ত-সংক্রান্ত নথিতে এসব প্রকল্পের মোট ব্যয় ২০ হাজার ৭১৬ কোটি টাকা উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রকল্পগুলো সাবেক চেয়ারম্যান ও নগর আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ আবদুচ ছালামের আমলে নেওয়া। তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০০৯ থেকে ২০১৯ সালের এপ্রিল পর্যন্ত এক দশক দায়িত্ব পালন করেছেন।

সিডিএর একাধিক কর্মকর্তা জানান, দীর্ঘ সময় ধরে একই কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা এবং বদলি না হওয়ার সুযোগে একটি শক্তিশালী বলয় তৈরি হয়েছে। কিছু কর্মকর্তাদের বদলি ১৫ থেকে ১৯ বছরেও হয়নি। তাদের একটি অংশ নতুন করে কাউকে পদায়ন করতে দিচ্ছেন না বলেও অভিযোগ রয়েছে।

সিডিএর একাধিক কর্মকর্তা জানান, বিগত সরকারঘনিষ্ঠ কর্মকর্তাদের একটি অংশ অনৈতিক উপায়ে বিপুল অর্থ উপার্জন করেছেন। এখন সেই অর্থ ব্যবহার করেই তারা নিজের পদ ধরে রাখা ও তদন্ত কমিটিকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করে।

সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন, চট্টগ্রাম মহানগরের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আখতার কবির বলেন, ‘উন্নয়নের নামে নেওয়া বড় প্রকল্পগুলোর পেছনে অনেক সময় নগরবাসীর স্বার্থের চেয়ে অর্থ আত্মসাতের সুযোগ ও ব্যক্তিস্বার্থ প্রাধান্য পায়। কাজের অগ্রগতি না থাকলেও বিভিন্ন মেগা প্রকল্পের পেছনে ছুটছে সংস্থাটি। সিডিএর তৎকালীন চেয়ারম্যানের সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তা ও বরাদ্দ পাওয়া ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা উচিত।’

তিনি বলেন, ‘সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা ও তদন্ত চলার পরও পদোন্নতি ও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি জবাবদিহির ঘাটতিকেই প্রকাশ করে। দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে কার্যকর নজরদারি এবং জবাবদিহি নিশ্চিত না হলে প্রকল্পে অনিয়ম বন্ধ হবে না। বরং এর দায় শেষ পর্যন্ত নগরবাসীকেই বহন করতে হবে।’

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন শাখা-৪-এর উপসচিব আম্বিয়া সুলতানার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন। পরে প্রশাসন অধিশাখা-২-এর যুগ্ম সচিব ড. এ এফ এম আমীর হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘পুরোনোরাই এ বিষয়ে বলতে পারবেন। আমি নতুন যোগদান করেছি।’

প্রকল্পের অনিয়ম-দুর্নীতি নিয়ে বারবার অভিযান, তদন্ত ও মামলা হলেও অদৃশ্য ক্ষমতার বলয়ে গিয়ে যেন থেমে যায় শাস্তির প্রক্রিয়া।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে দুদকের চট্টগ্রাম-১-এর উপপরিচালক মো. আল-আমিন বলেন, ‘যেসব অভিযোগ দুদকের কাছে আসে, সেগুলো নিয়ে কাজ করতে কর্মকর্তাদের আন্তরিকতার ঘাটতি থাকে না। গুরুত্বপূর্ণ মামলাগুলো সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তদন্ত করা হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘কোনো মামলা চার্জশিট আকারে আদালতে দাখিল হলে সেটির বিচারিক এখতিয়ার আদালতের হাতে চলে যায়। আদালত চার্জশিট গ্রহণ করার পর বিষয়টি আর দুদকের নিয়ন্ত্রণে থাকে না। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কেও বিষয়টি জানানো হয় এবং তারা প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেয়। এরপর মামলার বিচার ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতের এখতিয়ারে চলে যায়। এক্ষেত্রে দুদকের আর সরাসরি সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ থাকে না।’

চেয়ারম্যান বদলেছে একাধিকবার। আবদুচ ছালাম ২০০৯-এর ২৮ এপ্রিল থেকে ২০১৯ সালের ২২ এপ্রিল পর্যন্ত চেয়ারম্যান ছিলেন। এরপর এম জহিরুল আলম দোভাষ ২০১৯-এর ২৪ এপ্রিল থেকে ২০২৪ সালের ২৪ এপ্রিল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৪-এর ২৪ এপ্রিল থেকে ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চেয়ারম্যান ছিলেন মোহাম্মদ ইউনুস। এরপর প্রকৌশলী মো. নুরুল করিম চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৬ সালের জুনে তার স্থলাভিষিক্ত হন প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন।

বেলায়েত হোসেন দায়িত্ব নেওয়ার পর অবৈধ দখল, নকশাবহির্ভূত নির্মাণ, পার্কিং দখল, সিডিএর জায়গা উদ্ধার এবং আগ্রাবাদ-হালিশহরসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান শুরু হয়েছে। হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পার্কিং দখল, দোকান নির্মাণসহ বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

সিডিএর সূত্রের দাবি, ৫ আগস্ট ২০২৪-এর আগে বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তাদের একটি অংশ এখন নতুন চেয়ারম্যানের হাত ধরে পদোন্নতি পেতে তদবির চালাচ্ছেন। বিভিন্ন প্রকল্প ও চলমান কাজের নথি তাদের হাতে থাকায় নতুন চেয়ারম্যানকে অনেকক্ষেত্রে তাদের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে বলেও সূত্রটির দাবি।

জানতে চাইলে সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন বলেন, ‘মেগা প্রকল্পগুলোর অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে এরই মধ্যে একাধিক তদন্ত হয়েছে। এসব প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে, তা তদন্তের আওতায় রয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশনও (দুদক) এসব বিষয়ে তদন্ত করেছে এবং অভিযোগ ও তদন্তের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। প্রকল্পগুলোর শেষ পর্যায়ে এসে আগের অনিয়মের বিষয়গুলোও সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘অতীতে সিডিএর বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান হয়নি। ফলে অনিয়ম করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর এ কয়েকদিন ধরে এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সিডিএর জায়গা দখল, পার্কিংয়ের জায়গায় দোকান নির্মাণসহ যেসব অনিয়ম আমার নজরে এসেছে, সেগুলোর বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আগের সময়ে সংঘটিত অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়েও প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।’