সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের (১৯) মৃত্যুর ঘটনায় পাওয়া চিরকুট পরীক্ষা করছে সিআইডি। গত ২০ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ন্যাম ভবনে গাজী নজরুলের বাসা থেকে মরিয়মের ঝুলন্ত লাশ ও একাধিক চিরকুট উদ্ধার করে পুলিশ।
সিআইডির তদন্ত কর্মকর্তারা স্ট্রিমকে জানিয়েছেন, চিরকুটে মরিয়মের হতাশা ও নির্যাতনের বর্ণনা রয়েছে। প্রাথমিকভাবে চিরকুটে মরিয়মেরই হাতের লেখা বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে মামলা তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ এভিডেন্স হিসেবে চিরকুটগুলো সিআইডির হস্তবিশারদ শাখায় পরীক্ষা করা হচ্ছে। এর সঙ্গে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়া গেলে মরিয়মের মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
জামায়াত থেকে বহিষ্কৃত গাজী নজরুল ইসলাম এবং তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলামের সঙ্গে বাসাটিতে মরিয়মও থাকতেন। লাশ উদ্ধারে ঘটনায় মরিয়মের বাবা মাসুম বিল্লাহ মামলা করেন। মামলায় তিনি গাজী নজরুল, তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলাম এবং মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে আসামি করেছেন।
এজাহারে বলা হয়েছে, বিয়ের পর বিভিন্ন বিষয় নিয়ে নজরুল ও মাকসুদা মরিয়মকে শারীরিক এবং মানসিক নির্যাতন করতেন। মরিয়ম ফোনে একাধিকবার তাঁর পরিবারের কাছে নির্যাতনের কথা জানিয়েছেন।
মামলা হওয়ার পর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গাজী নজরুল ও মাকসুদাকে পুলিশ রিমান্ডে নেওয়া হয়। রিমান্ডের প্রথম দিনে গাজী নজরুলকে মরিয়মের চিরকুটের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। একইসঙ্গে মরিয়মকে কেন আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে হলো, তা নিয়েও তাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডিবির তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার জিয়াউর রহমান।
প্রায় দুই মাস আগে গাজী নজরুল ও মরিয়মের ব্যক্তিগত মুহূর্তের একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে গাজী নজরুল জানান, মরিয়ম তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী।
এদিকে, এক দিনের রিমান্ড শেষে মঙ্গলবার মাকসুদা ইসলামকে আদালতে তোলা হলে বিচারক কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।
মাকসুদাকে কারাগারে পাঠানোর আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও ডিবির পরিদর্শক মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন। আবেদনে তিনি বলেন, মাকসুদা তদন্তে সহায়ক হতে পারে– এমন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। তদন্তের স্বার্থে তাঁকে কারাগারে রাখা প্রয়োজন।
ডিবির তেজগাঁও বিভাগের ওই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, রিমান্ড শেষ হওয়ার পর মামলার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।
মামলা ডিবিতে হস্তান্তর
মামলাটি সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম এ তথ্য জানিয়েছেন।
শেরেবাংলা নগর থানার ওসি মনিরুল ইসলাম স্ট্রিমকে বলেন, ডিএমপি কমিশনারের নির্দেশ অনুযায়ী সোমবার রাতে মামলার সব নথি ডিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। মামলার আসামি ও মামলার ডকেট আমরা ডিবি দলের কাছে হস্তান্তর করেছি। এখন থেকে তারাই তদন্ত করবে।