Image description

৪৭ বছরে ৩৬ বিভাগ, শিক্ষার্থী প্রায় ১৮ হাজার-বাড়ছে শুধু সংকটের তালিকা। শিক্ষক ঘাটতি, আবাসন সংকট, পরিবহন বিড়ম্বনা, শ্রেণিকক্ষের অভাব, নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক, গবেষণায় অপ্রতুল বরাদ্দ ও প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রতায় একের পর এক সমস্যায় জর্জরিত ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠার পর চার যুগ পেরিয়ে গেলেও সমাবর্তন হয়েছে মাত্র চারটি। বিদেশি শিক্ষার্থী আকর্ষণেও কার্যত স্থবিরতা নেমেছে।

নিয়োগ নিয়ে বারবার বিতর্ক : ২০০৪ সালে অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম উপাচার্য হওয়ার পর নিয়োগবাণিজ্যের অভিযোগ তীব্র হয়। ২০০৬ সালে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়েন। ২০০৯ সালে তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম আলাউদ্দিন ও উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে নিয়োগবাণিজ্যের অভিযোগ ওঠে। ইউজিসির তদন্তের পর মেয়াদপূর্তির আগেই তাদের অব্যাহতি দেওয়া হয়। পরবর্তী কয়েকটি প্রশাসনের সময়ও নিয়োগ নিয়ে অভিযোগ ও বিতর্ক অব্যাহত থাকে। অধ্যাপক ড. শেখ আবদুস সালামের সময়ে শিক্ষক নিয়োগসংক্রান্ত ফোনালাপ ফাঁসের পর তিনি পদত্যাগ করেন।

সাবেক নিয়োগে অনিয়ম তদন্তে পাঁচ সদস্যের কমিটি হলেও দেড় বছরেও প্রতিবেদন হয়নি। সর্বশেষ আইসিটি বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. জাহিদুল ইসলামের স্ত্রী ফিরোজা নাজনীনকে একই বিভাগে নিয়োগ নিয়ে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন। ৮০ ভাগই আবাসনের বাইরে : প্রায় ১৮ হাজার শিক্ষার্থীর বিপরীতে আটটি আবাসিক হলে আসন মাত্র ৩ হাজার ৫৯৪টি-মোট শিক্ষার্থীর ১৯ দশমিক ৯৭ শতাংশ। অর্থাৎ প্রায় ৮০ শতাংশ শিক্ষার্থীকে বাইরে বাসা বা মেসে থাকতে হয়। ছাত্র হলের আসন রাজনৈতিক সংগঠনের নিয়ন্ত্রণে থাকার অভিযোগও রয়েছে। নারী শিক্ষার্থীদের বাইরে থাকার কারণে নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। 

প্রয়োজন ১,০৮০ শিক্ষক, আছেন ৪০৬ : অ্যাক্রিডিটেশনের ন্যূনতম শর্ত পূরণে ৩৬টি বিভাগের জন্য প্রয়োজন ১ হাজার ৮০ জন শিক্ষক। আছেন মাত্র ৪০৬ জন। অন্তত ১৫টি বিভাগে তীব্র শিক্ষক সংকটে ‘ধার করা’ শিক্ষক দিয়ে চলছে ক্লাস। এতে সেশনজট ও শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। গবেষণা ও র‌্যাংকিংয়েও পিছিয়ে : ২০২৫-২৬ অর্থবছরে গবেষণা ও উদ্ভাবনে বরাদ্দ ৩ কোটি ১৩ লাখ টাকা, যা মোট বাজেটের ১ দশমিক ৬৩ শতাংশ। এশিয়ান র‌্যাংকিংয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টির অবস্থান ১১০০ থেকে ১২০০-এর মধ্যে। বিদেশি শিক্ষার্থী বর্তমানে ২০ জন। 

২০২৪-২৫ ও ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক পর্যায়ে একজনও বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি হননি। পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ ও লাইব্রেরির অভাবের পাশাপাশি প্রশাসনিক কাজেও চলছে ফাইলনির্ভর ধীরগতি। উপাচার্য অধ্যাপক ড. একেএম মতিনূর রহমান বলেন, সংকট নিরসনে কাজ শুরু হয়েছে। তিনটি হলের নির্মাণকাজ চলছে, একটি উদ্বোধনের অপেক্ষায়। চিকিৎসাকেন্দ্রে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ নিয়োগ এবং শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপ ও চাকরির সুযোগ বাড়াতেও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।