Image description

সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা। কেনাকাটা শেষে রিকশায় বাড়ি ফিরছেন দুই নারী। হঠাৎ তাদের গায়ে কেউ ডিম ছুড়ল। ডিম ফাটার পর কয়েকটি পথশিশু এগিয়ে এসে হাতে থাকা ব্যাগগুলো মোছামুছি শুরু করে। এক ফাঁকে ব্যাগ খুলে টাকাপয়সা হাতিয়ে নেয়। টের পেয়ে টাকাসহ ১২-১৩ বছর বয়সি বস্তির একটি মেয়েকে আটক করেন তাঁরা। ৮ থেকে ১৪ বছর বয়সি আরও কিছু ছেলেমেয়ে ওর সঙ্গে ছিল। ১৪ সেপ্টেম্বর খুলনা মহানগরীর আহসান আহমেদ রোডে এ ঘটনা ঘটে।

এর আগে ১৯ আগস্ট মাদককেন্দ্রিক পূর্বশত্রুতার জেরে লবণচরায় দুই তরুণকে গুলি করে হত্যা করা হয়। পুলিশের তদন্তে জানা গেছে, প্রতিদ্বন্দ্বী সন্ত্রাসী গ্রুপের পাল্টাপাল্টি হামলায় পিস্তল, ধারালো অস্ত্রসহ ১৪ থেকে ২০ বছর বয়সি কিশোর-তরুণরা অংশ নেয়।

জানা যায়, হঠাৎ করেই খুলনা মহানগরীর রেলস্টেশন ঘাট এলাকা, রূপসা সেতু, বাস টার্মিনাল, বিভিন্ন পার্ক, ফুটপাতে ভাসমান শিশু-কিশোরের আনাগোনা বেড়েছে। ছোট অপরাধ থেকে শুরু করে তারা দলবেঁধে মাদক বিক্রি, হত্যা, চাঁদাবাজি, ছিনতাইয়ের মতো ঘটনায় জড়িয়ে পড়ছে।

পুলিশের তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরে প্রথম আট মাসে খুলনায় ৫৮টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক হত্যায় কিশোর গ্যাংয়ের সম্পৃক্ততা রয়েছে। মাদক কারবারে কিশোরদেও সম্পৃক্ততা উদ্বেগজনক।

সামাজিক প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল খুলনার পরিচালক শাহ মামুনুর রহমান তুহিন জানান, খুলনা শহরের ২০ শতাংশ মানুষ বস্তিতে বাস করে। চরম দারিদ্র্য, বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ বা পারিবারিক নির্যাতনে অনেক শিশু ঘর ছেড়ে রাস্তায় আশ্রয় নেয়। এদের ঢাল হিসেবে অপরাধমূলক কাজে যুক্ত করে গ্যাং লিডার বা স্থানীয় অপরাধী চক্র।

মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তর খুলনার উপপরিচালক সুরাইয়া সিদ্দীকা জানান, ভাসমান শিশুদের আশ্রয়, শিক্ষা ও পুনর্বাসনে সরকারি-বেসরকারি সংস্থা কাজ করে। এদের চিহ্নিত করে নিরাপদ আশ্রয় ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা যায়। খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের ডেপুটি কমিশনার (ডিবি) মোহাম্মদ আহাদুজ্জামান মিয়া বলেন, ‘খুলনায় মাদককেন্দ্রিক অপরাধপ্রবণতাই বেশি। অনেক ক্ষেত্রে বস্তি এলাকায় কিশোর-তরুণদের মাধ্যমে অপরাধ সিন্ডিকেট পরিচালিত হয়। পুলিশ অপরাধীদের চিহ্নিত ও গ্রেপ্তারে তৎপর রয়েছে।’