নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কিছুটা কমলেও নিম্ন-মধ্যবিত্ত মানুষের স্বস্তি ফিরছে না। বাজারে পণ্যের দাম কমার চেয়ে জীবনযাত্রার মোট ব্যয় এখনো অনেক বেশি। মানুষের আয় বাড়ছে না, বাড়ছে বাজার খরচ। যেমন-চাল, ডাল, তেল, সবজি ও মাছ-মাংসের দামের চাপে দিশাহারা নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষ।
জানা গেছে, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধিতে কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার সাধারণ মানুষের সংসার চালানো ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম উঠানামা করায় এর প্রভাব পড়ছে সবচেয়ে বেশি।
বাজিতপুর সদর, পিরিজপুর, সরারচরসহ উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে চাল, ডাল, ভোজ্যতেল, মাছ, মাংস, ডিম ও শাকসবজির দামে অস্থিরতায় বাজারের খরচ কমছে না। বরং দিনদিনই ব্যয় বাড়ছে মানুষের।
স্থানীয় বাজারে এর প্রভাব পড়ে বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষের ওপর। যে পরিবার আগে একসঙ্গে এক কেজি বা তার বেশি সবজি কিনতো, অনেক ক্ষেত্রেই এখন পরিমাণ কমিয়ে কিনছে। ফলে বাজারে একই অর্থ ব্যয় করেও পরিবারের খাদ্যতালিকায় কাটছাঁট করতে হচ্ছে।
আগস্টে বাজিতপুরের পিরিজপুর এলাকায় পোলট্রি খামারি ও ডিলারদের ন্যায্যমূল্যের দাবিতে আন্দোলন করলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি।
বাজিতপুরের কৃষি ও বাজার অর্থনীতি যথেষ্ট সক্রিয় হলেও উৎপাদক থেকে ভোক্তা পর্যন্ত পণ্যের মূল্য নির্ধারণে মধ্যস্বত্বভোগী, পরিবহন ব্যয়, সংরক্ষণ ও বাজার ব্যবস্থাপনার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। ফলে কৃষক ন্যায্যমূল্য না পেলেও ভোক্তাকে অনেক সময় বেশি দাম দিতে হচ্ছে।
চাকরিজীবী বা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদেরকে বাড়িভাড়া, সন্তানদের শিক্ষা, চিকিৎসা, যাতায়াত ও বিদ্যুৎ বিলের পাশাপাশি খাদ্যপণ্যের বাড়তি ব্যয় সামলাতে হচ্ছে। ফলে অনেক পরিবার এখন মাছ-মাংসের পরিমাণ কমিয়ে দিচ্ছে। ভালো মানের পণ্যের পরিবর্তে তুলনামূলক সস্তা পণ্য বেছে নিচ্ছে এবং মাসের শেষ দিকে বাজার খরচ কমিয়ে চলার চেষ্টা করছে।
সাধারণ ক্রেতাদের দাবি, উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে নিয়মিত বাজার মনিটরিং, পণ্যের মূল্যতালিকা প্রদর্শন, ওজনে কারচুপি রোধ এবং অস্বাভাবিক মুনাফা ও কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগ খতিয়ে দেখা জরুরি।
বাজিতপুর পৌর বাজারের মুদি দোকানদার শহিদুল বলেন, আমরা ইচ্ছা করে দাম বাড়াই না। পাইকারি বাজার থেকে যে দামে মাল কিনি, তার সঙ্গে পরিবহন ও অন্যান্য খরচ যোগ করে বিক্রি করতে হয়। পাইকারিতে দাম বাড়লে খুচরা বাজারেও তার প্রভাব পড়ে।
আরেক বিক্রেতা আরমান বলেন, আগে যে পরিমাণ পণ্য বিক্রি হতো, এখন অনেক ক্রেতাই পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছেন। দাম বাড়ার কারণে বিক্রিও কমেছে। এতে ক্রেতা যেমন সমস্যায় আছেন, ছোট ব্যবসায়ীরাও চাপের মধ্যে আছেন। বাজিতপুর উপজেলার এক মধ্যবিত্ত চাকরিজীবী জাহাঙ্গীর বলেন, মাসের শুরুতে বাজারের জন্য যে টাকা রাখি, মাস শেষ হওয়ার আগেই তা শেষ হয়ে যায়। আগে যে টাকায় কয়েকদিনের বাজার করা যেত, এখন একই টাকায় প্রয়োজনীয় জিনিসও ঠিকমতো কেনা যায় না।
একজন নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী আবদুল্লা বলেন, দিনে যা আয় করি, তার বড় অংশই বাজার খরচে চলে যায়। চাল-ডাল, তেল আর সবজির দাম দিতে গিয়ে মাছ-মাংস তো দূরের কথা, অনেক সময় প্রয়োজনীয় অন্য জিনিসও বাদ দিতে হয়।
গৃহিণী দিলরুবা বেগম বলেন, সংসারের বাজেট ঠিক রাখতে বাধ্য হয়ে অনেক পণ্য কম কিনছি। আগে সন্তানদের জন্য কিছু বাড়তি খাবার কিনতাম, এখন দাম দেখে অনেক কিছুই বাদ দিতে হয়।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্য নেওয়া হলে তিনি বলেন, বাজারে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি, কৃত্রিম সংকট বা অতিরিক্ত মুনাফার অভিযোগ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান তিনি।