উজানের ঢল ও ভারী বৃষ্টিতে পদ্মার পানি বাড়ছে রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও কুষ্টিয়ায়। কোথাও পানি বিপৎসীমার ১ মিটারের নিচে, কোথাও তা ছুঁইছুঁই। এরই মধ্যে তীরবর্তী চর ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ডুবে গেছে আবাদি জমি, সড়ক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। দুর্গত এলাকায় দেখা দিয়েছে খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকট। পানি কমতে শুরু করলে নদীভাঙনের আশঙ্কাও করছেন বাসিন্দারা। নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-
রাজশাহী : রাজশাহীতে পদ্মার পানি গতকাল বেলা ৩টায় ১৭ দশমিক ৩২ মিটারে পৌঁছেছে। বিপৎসীমা ১৮ দশমিক ০৫ মিটার হওয়ায় পানি এখন মাত্র ৭৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এরই মধ্যে দক্ষিণের চরখিদিরপুর, খানপুরসহ বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। মহানগরীর নিচু এলাকারও বহু পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুর রহমান অঙ্কুর জানান, শহররক্ষা বাঁধ নিয়ে এখন ঝুঁকি নেই। তবে পরিস্থিতি মোকাবিলায় পাউবো সতর্ক রয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পদ্মার পানি ছিল ১৭ দশমিক ১৫ মিটার, শুক্রবার সকালে ১৭ দশমিক ২০ এবং আজ (শনিবার) তা বেড়ে ১৭ দশমিক ৩২ মিটারে দাঁড়ায়।
কুষ্টিয়া : দৌলতপুরে হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে গত ২৪ ঘণ্টায় পদ্মার পানি ৩ সেন্টিমিটার বেড়েছে। গতকাল সকাল ৯টায় পানির উচ্চতা রেকর্ড করা হয় ১৩ দশমিক ০৫ মিটার; বিপৎসীমা ১৩ দশমিক ৮০ মিটার। রামকৃষ্ণপুর ও চিলমারী ইউনিয়নের ৩৫ গ্রামের প্রায় ৬০ হাজার মানুষ পানিবন্দি। তলিয়ে গেছে নিম্নাঞ্চল ও সড়ক। নৌকা ও ভেলা হয়ে উঠেছে চলাচলের প্রধান ভরসা। চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুরে ৩০ হাজার করে মানুষ পানিবন্দি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানরা। চার ইউনিয়নে ৩৫১ হেক্টর আবাদি জমি তলিয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মরিচ ও কলার। ডুবে গেছে ২৫টি সরকারি প্রাথমিক ও তিনটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ। দুর্গত এলাকায় বিশুদ্ধ পানি, খাবার ও চিকিৎসাসংকটের পাশাপাশি বিষধর সাপের উপদ্রব দেখা দিয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ : জেলায় পদ্মার পানি গত ২৪ ঘণ্টায় স্থিতিশীল থাকলেও বিপৎসীমার মাত্র ২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সদর ও শিবগঞ্জ উপজেলার পাঁচ ইউনিয়নের প্রায় ৪ হাজার ৫০০ পরিবার এক সপ্তাহ ধরে পানিবন্দি। বন্ধ রয়েছে ২০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান। তলিয়ে গেছে প্রায় ৩৫০ হেক্টর আমন ধান ও সবজি খেত। বসতবাড়িতেও পানি ঢুকেছে। পানিবন্দি মানুষের মধ্যে খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে চাল, খাবার স্যালাইন, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট ও ওষুধ বিতরণ করা হচ্ছে। পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম আহসান হাবীব জানান, রবিবার (আজ) পর্যন্ত পানি স্থিতিশীল থাকতে পারে। সোমবার থেকে পানি দ্রুত কমার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে পানি কমলে নদীভাঙনের আশঙ্কায় রয়েছেন তীরবর্তী মানুষ।
কমবে বৃষ্টি, বাড়তে পারে ভ্যাপসা গরম : আগামী ৮-১০ দিনের মধ্যে দেশে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা ও পরিমাণ অনেক কমে আসতে পারে। পাশাপাশি গরমের তীব্রতা বৃদ্ধির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ওয়েদার অবজারভেশন টিম (বিডব্লিউওটি)। এ সময় দেশের বেশ কিছু জেলায় মৃদু তাপপ্রবাহ সক্রিয় হতে পারে এবং সারা দেশে কমবেশি ভ্যাপসা গরমের তীব্রতা বজায় থাকতে পারে। দিনভেদে সারা দেশে গড়ে ৫ থেকে ৮ ঘণ্টা এবং কিছু জেলায় সারা দিনই রোদ থাকতে পারে। গতকাল বিডব্লিউওটি এসব তথ্য জানায়। বিডব্লিউওটি জানায়, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, ঢাকা, সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের জেলাগুলোতে গরমের তীব্রতা তুলনামূলক বেশি থাকতে পারে। দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৫ থেকে ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশপাশে থাকতে পারে। এ ছাড়া, দু-একটি জেলায় তাপমাত্রা সাময়িকভাবে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত ওঠার পূর্বাভাস রয়েছে।
এদিকে আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় গঙ্গা ও গড়াই নদীর পানি সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে। এ সময় চাঁপাইনবাবগঞ্জ, ফরিদপুর, রাজবাড়ী ও মাগুরার কিছু এলাকায় নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে বলে আভাস দিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। গতকাল বৃষ্টিপাত ও নদনদীর পরিস্থিতি এবং পূর্বাভাস প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশের সব প্রধান নদনদীর পানি বর্তমানে বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আগামী তিন দিন দেশের উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল, দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পার্বত্য এলাকা এবং এসব এলাকার সংলগ্ন উজানে মাঝারি থেকে মাঝারি-ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে।