Image description

সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ ও তার স্ত্রী রুকমীলা জামানের যুক্তরাষ্ট্রে থাকা সম্পদ, ব্যাংক হিসাব ও ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডের খোঁজে এবার নতুন তথ্য পেল দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন—এফবিআই এসব বিষয়ে একটি প্রতিবেদন দুদকের কাছে পাঠিয়েছে। তবে সেই প্রতিবেদনে জাবেদ দম্পতির কত সম্পদ শনাক্ত হয়েছে, কোথায় কী ধরনের সম্পদ রয়েছে কিংবা এরই মধ্যে কোনো সম্পদ জব্দ হয়েছে কি না—এসব তথ্য এখনো প্রকাশ করেনি দুদক। গতকাল সোমবার দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) মো. আকতারুল ইসলাম এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তথ্য বলছে, বিদেশে সম্পদ পাচারের অভিযোগে এর আগে যুক্তরাষ্ট্রসহ সাত দেশে জাবেদ ও তার স্বার্থসংশ্লিষ্টদের সম্পত্তি জব্দের উদ্যোগ নেয় দুদক। আদালতের আদেশে সাত দেশে থাকা মোট ১ হাজার ৮২৪ কোটি ৯ লাখ ৯৯ হাজার ৯০৫ টাকার সম্পত্তি জব্দের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা সম্পত্তির ক্রয়মূল্য দেখানো হয়েছিল ৪৩৬ কোটি ৮৮ লাখ ৬৫ হাজার ২৪২ টাকা। দুদকের তথ্য অনুযায়ী, জাবেদ ও তার স্ত্রীর ব্যাংক হিসাব, ব্যবসা ও সম্পত্তির রেকর্ড চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পারস্পরিক আইনি সহায়তার অনুরোধ—মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স রিকোয়েস্ট বা এমএলএআর—পাঠানো হয়েছিল। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষের অফিস অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্সের (ওআইএ) সহায়তা চাওয়া হয়। সেই অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতেই এফবিআইর প্রতিবেদন দুদকের হাতে এসেছে। তবে এফবিআইর পাঠানো প্রতিবেদনের বিষয়বস্তু এখনো প্রকাশ করেনি দুদক। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রে জাবেদ দম্পতির কোনো সম্পদ এরই মধ্যে জব্দ বা বাজেয়াপ্ত হয়েছে কি না, সেটিও স্পষ্ট করা হয়নি। বিদেশে সম্পদ জব্দের উদ্যোগের পাশাপাশি জাবেদের সম্পদের উৎস নিয়েও আগে থেকেই প্রশ্ন রয়েছে।

তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার প্রভাব ব্যবহার করে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান ও আইনি পদক্ষেপ চলমান। এসব অভিযোগের ভিত্তিতেই বিভিন্ন দেশে থাকা সম্পদ শনাক্ত, রেকর্ড সংগ্রহ এবং প্রয়োজনে জব্দ ও বাজেয়াপ্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

এদিকে নাসা গ্রুপের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদার, তার স্ত্রী নাসরিন ইসলাম ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিষয়ে আইল অব ম্যান কর্তৃপক্ষ দুদকের পাঠানো এমএলএআর পুরোপুরি বাস্তবায়ন করেছে বলে কমিশনকে জানিয়েছে। অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সম্পত্তি অবরুদ্ধ করার তথ্যও দিয়েছে তারা। আইল অব ম্যানের কোম্পানি নিবন্ধকের অনলাইন নথি অনুযায়ী, ওয়ান প্রপার্টি লিমিটেড সেখানে নিবন্ধিত একটি প্রতিষ্ঠান। ওই প্রতিষ্ঠানের সুবিধাভোগী মালিক হিসেবে নজরুল ইসলাম মজুমদার ও নাসরিন ইসলামের নাম রয়েছে। কোম্পানিটিতে দুজনেরই ২৫ শতাংশের বেশি শেয়ার ও ভোটাধিকার রয়েছে।

ফলে একই সময়ে দুই প্রভাবশালী ব্যক্তির বিদেশি সম্পদ নিয়ে দুদকের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা পাওয়ার বিষয়টি সামনে এসেছে।

একই সঙ্গে ফেনী-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আলিউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিমের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার করে জমি দখল, নিয়োগ ও দলীয় পদ বাণিজ্য এবং বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচারের অভিযোগ খতিয়ে দেখছে দুদক। কমিশন তার ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের এ অভিযোগটি দুদকের নোয়াখালী সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে তদন্তাধীন একটি মামলার সঙ্গে সংযুক্ত করে তদন্ত করার সুপারিশ করেছে।

এদিকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ওয়াকিটকি ক্রয়ে বড় ধরনের অনিয়ম ও রাষ্ট্রীয় অর্থ অপচয়ের অভিযোগ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুদক। এ তদন্তের জন্য এরই মধ্যে অনুসন্ধানকারী ও তদারককারী কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। দুদকের অভিযোগে বলা হয়েছে, কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও একটি দেশীয় প্রতিষ্ঠানকে ওয়াকিটকি ক্রয়ের কাজ দেওয়া হয়েছে, যেখানে ওই প্রতিষ্ঠানটি একটি চীনা কোম্পানির সনদ ব্যবহার করেছে। অন্যান্য সরকারি সংস্থার তুলনায় কয়েকগুণ বেশি দামে ওয়াকিটকি কিনে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হওয়ার অসৎ উদ্দেশ্যে এসব করেছেন।