দেশের অর্থনৈতিক সংকটের প্রেক্ষাপটে সরকারের কর্মকাণ্ড মূল্যায়নে সময় না দিয়ে বিরোধী দলের লং মার্চের সিদ্ধান্তকে অনুচিত বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম মনি।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে এমপি হোস্টেলে নিজ দফতরে বরিশাল ডিভিশনাল জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের- (বিডিজেএ) নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলাপকালে চিফ হুইপ একথা বলেন।
সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন ‘আন্দোলন করা তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার হলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে এই কর্মসূচি আরও কিছুদিন পরে হলে ভালো হতো। আমরা এক ভঙ্গুর অর্থনীতি ও ধ্বংসপ্রাপ্ত গণতন্ত্রের ওপর দাঁড়িয়ে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছি। গণতন্ত্রের প্রতিটি স্তম্ভ ধ্বংস করা হয়েছিল এবং দেশের বিপুল সম্পদ নিঃশেষ করে আমাদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে ঝুঁকির মুখে ফেলা হয়েছিল।’
আওয়ামী শাসনামলের লুটপাট ও চুক্তি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মাত্র সাত মাসের মাথায় অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের দেওয়া রিপোর্টে দেশ থেকে ৩০ লাখ কোটি টাকা লুটের তথ্য উঠে এসেছিল। এরপরও বহু কোটি টাকা পাচারের তথ্য বেরিয়ে আসছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজে সাধারণ জীবনযাপনের নাটক করলেও বাস্তবে দেশের চরম ক্ষতি করে গেছেন। বিগত সরকার একটি নির্দিষ্ট দেশের সঙ্গে ৯৮ শতাংশ গ্যাস চুক্তি করে জ্বালানি খাতকে চরম সংকটে ফেলে গেছে। বিদ্যুৎ খাতের সেই দায়ভার এখন আমাদের বহন করতে হচ্ছে।’
জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট সমাধানে সরকারের নেওয়া নতুন পদক্ষেপের কথা জানিয়ে চিফ হুইপ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী সংসদে ঘোষণা দিয়েছেন, আগামী ছয় মাসের মধ্যে কেউ যদি বাসাবাড়ির ছাদে বা অন্য কোথাও সোলার সিস্টেম তৈরি করেন, তবে তিনি ট্যাক্স বেনিফিট পাবেন। নবায়নযোগ্য শক্তিতে মানুষকে আগ্রহী করতে ১০ থেকে ৫০ টাকা রেটিং সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। এশিয়ায় পাকিস্তান সোলার সিস্টেমে যেমন সাফল্য পেয়েছে, আমাদের দেশেও এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দ্রুত জ্বালানি সমস্যা সমাধান সম্ভব।’
বিরোধী দলের কর্মসূচি বিষয়ে নুরুল ইসলাম মনি বলেন, ‘সরকারি দল থেকে রাজপথে তাদের বিরুদ্ধে কোনো সংঘাতময় কর্মসূচি দেওয়া হবে না। আমরা মানুষের বিবেকের কাছে বিচার দেব। জনগণ বোকা নয়, তারা সব বোঝে। ছয় মাস সময় পাওয়ার আগেই যদি রাজপথে নেমে যাওয়া হয়, তবে মানুষই তা মূল্যায়ন করবে।’
তিনি বলেন, ‘দেশের বর্তমান সংকট ও জ্বালানি সমস্যা নিয়ে সংসদের আগামী অধিবেশনেই বিস্তারিত আলোচনা হবে এবং সকল দল থেকে আসা নোটিশ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।’
এসময় বরিশাল ডিভিশনাল জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন বিডিজেএ'র সভাপতি মাহবুব সৈকত, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক মাহবুব জুয়েল, সাংগঠনিক সম্পাদক বোরহান উদ্দিন, অর্থ ও দফতর সম্পাদক ফাহিম মোনায়েম, কার্যনির্বাহী সদস্য কাজী জেবেল ও নাজিয়া আফরিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।